ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৫ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘এ দেশের মানুষ আ. লীগ-বিএনপির বাইরে কিছু বোঝে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি ২০১৮ রবিবার, ১০:০১ পিএম
‘এ দেশের মানুষ আ. লীগ-বিএনপির বাইরে কিছু বোঝে না’

নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক সংকট মীমাংসা করতে একটি সুশীল প্লাটফরমে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রস্তাবকারীদের তিনি বললেন, ‘এসব করে কিছুই হবে না। এদেশের মানুষ রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির বাইরে কিছু বোঝে না।’

নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশে একটি সংকট অত্যাসন্ন। অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ এবং একটি নাগরিক চার্টার তৈরির লক্ষ্যে ‘নাগরিক প্লাটফরমে’র উদ্যোগ নিয়েছেন এদেশের সুশীল সমাজের একাংশ। গত প্রায় এক বছর ধরেই সুশীল সমাজের এই অংশটি কাজ করছেন। এদের মূল উদ্যোক্তা হলেন সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এবং সুশাসনের জন্য নাগরিকের ড. বদিউল আলম মজুমদার। ব্যরিস্টার মঈনুল হোসেন, ব্যরিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ , আলী ইমাম মজুমদার সহ আরও কিছু ব্যক্তি এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো, ‘২০১৮ তে একটি অংশগ্রহমূলক অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নাগরিক প্রচেষ্টা।‘এই প্রক্রিয়ার উদ্যেগক্তারা বলছেন ‘ নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন জরুরি।আর এজন্য নির্বাচন কালীন সরকারের রূপরেখা, নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা এবং নির্বাচন থেকে দুর্বৃত্ত ও কালো টাকার মালিকদের দূরে রাখার প্রয়োজন বলেও মনে করেন। এ লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নাগরিক সংলাপ প্রয়োজন বলেও সুশীল সমাজের এই অংশ বিশ্বাস করেন। এজন্য তারা একটি নাগরিক প্রস্তাবনা তৈরি করে তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁদের দাবির সমর্থনে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং ভোটারদের সচেতন করার বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনাও গ্রহণ করেছেন এর উদ্যোক্তারা। কিন্তু সমস্যা হয়েছে এর নেতা নির্বাচন নিয়ে। উদ্যোক্তাদের কারও এরকম ব্যক্তিত্ব নেই যে তাঁরা দুই নেত্রীর সঙ্গে যুক্তিতর্কের বাহাস করতে পারবেন। অনেক চিন্তা ভাবনা করে এই উদ্যোগের মূল পরিকল্পনাকারীরা দ্বারস্থ হয়েছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের। কিন্তু ড. ইউনূস শুধু তাঁদের ফিরিয়েই দেননি বরং তাঁদের নিরুৎসাহিত করেছেন। ড. ইউনূস তাঁদের বলেছেন, ‘এখনো সুশীল সমাজ সাধারণ মানুষের কাছে পৌছতে পারেনি। এ ধরনের উদ্যোগের আগে তোমাদের আরও জনবান্ধব হতে হবে। না হলে, এসব উদ্যোগের ফলে তোমরাই রাজনৈতিক দলগুলো আক্রোশের কেন্দ্র হবে।’ ড. ইউনূস তাঁদের বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোতে শিক্ষিত মানুষের কদর নেই, টাকাওয়ালাদের কদর আছে।’ ড. ইউনূসের প্রত্যাখানের পর নাগরিক প্লাটফরমের উদ্যোগে কীভাবে এগুয় তা দেখার বিষয়।  

Read in English: http://bit.ly/2G1N07i

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ