ঢাকা, রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

`মন্ত্রীদের চারপাশের আবর্জনা পরিষ্কার করা হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০১৮ সোমবার, ০৯:৫৯ পিএম
`মন্ত্রীদের চারপাশের আবর্জনা পরিষ্কার করা হবে’

সরকারের দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় গোয়েন্দা এবং দুদকের নজরদারিতে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এবং দুদকের সুপারিশে এসব মন্ত্রণালয়ের চিহ্নিত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রভাবশালী দালালদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। যেসব মন্ত্রণালয়ে গোয়েন্দা নজরদারি চলছে, সেইসব মন্ত্রণালয়ের অন্তত তিনটিতে রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী তিন নেতা। একজন প্রেসিডিয়াম সদস্যের মন্ত্রণালয়ে ইতিমধ্যে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে দুদক। সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

`রাজনৈতিক দুর্নীতি’বন্ধে দুদক এবং গোয়েন্দা সংস্থা `হাত-পা কেটে ফেলার’ নীতি গ্রহণ করেছে। `হাত-পা কেটে ফেলা নীতির ব্যাখ্যা দিয়ে দুদকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, `কিছু মন্ত্রীর কিছু বিশ্বস্থ এবং আস্থাভাজন ব্যক্তি আছেন। যারা আসলে মন্ত্রীর হাত-পা। এরা মন্ত্রীর চারপাশে এমনভাবে থাকেন যে, যে কোনো ঠিকাদার বা ব্যক্তি মনে করেন এদের ম্যানেজ করতে পারলেই কাজ হাসিল করা খুব সহজ হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের যে অনিয়মগুলো হয়, সে সম্পর্কে মন্ত্রী হয়তো জানেনও না, কিন্তু তাঁর বদনাম হয়। এজন্য মন্ত্রীদের এসব ডান, বাম হাত গুলোকে সরিয়ে ফেললে মন্ত্রীদের যেমন ইমেজ বাড়বে, তেমনি দুর্নীতিও বন্ধ হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গোয়েন্দা অনুসন্ধাণ করা হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, মন্ত্রীর চারপাশের ঘনিষ্ঠ কর্মচারীরা বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। এদের দুর্নীতির কারণেই প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ নানা অনিয়ম ঘটছে। এই প্রেক্ষাপটে মন্ত্রীর ডান ও বাম হাত বলে পরিচিতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

একই ভাবে একটি বড় মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতরা নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছে। এরা শুধু মন্ত্রীকে নন, মন্ত্রীর বড় ছেলে (সাবেক এমপি), মন্ত্রীর প্রবাসী ছোট ছেলে, এমনকি স্ত্রীর নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন বরাদ্দ ও টেন্ডারে অনিয়ম করছে। দুর্নীতি দমন কমিশন এবং গোয়েন্দারা এখানেও জাল ফেলেছে। এখন শুধু হাতে নাতে ধরার অপেক্ষা। এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা।

একটি মন্ত্রণালয়ের কেনাকাটায় দুর্নীতিতে প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়দের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। গোয়েন্দা তদন্তে দেখা গেছে, যাঁর নাম ব্যবহার করা হয়েছে, তিনি এসব কেনাকাটার বিন্দু বিসর্গও জানেন না। সম্প্রতি গোয়েন্দাদের হাতে ওই মন্ত্রণালয়ের কেনাকাটার চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য প্রমাণ এসেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন ওই মন্ত্রণালয়ের কিছু দালাল পেয়েছেন যারা প্রভাবশালীদের নাম ভাঙ্গিয়ে মন্ত্রণালয়ের কাজে নয়ছয় করছে। ওইসব দালালরা মন্ত্রীর চারপাশেই ঘোরে। মন্ত্রী জানেনও না তাঁরা কীভাবে মন্ত্রণালয়ের দাপট দেখাচ্ছে। ওই মন্ত্রীও আওয়ামী লিগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা।

আরেকজন মন্ত্রী আওয়ামী লীগের নন অন্য দলের। সম্প্রতি তাঁর দপ্তর পরিবর্তনে করা হয়েছে। তবে তাঁর প্রাক্তন মন্ত্রণালয়ের দূর্নীতি খুঁজতে দুর্নীতি দমন কমিশন টিম বসিয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন বলছে, মন্ত্রণালয়ে যদি রাজনৈতিক নেতাদের ‘দালালদের’ দমন করা যায় তাহলেই রাজনৈতিক দুর্নীতি সহনীয় মাত্রায় কমে আসবে। এজন্য মন্ত্রীদের চারপাশে থাকা দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে অভিযান। এই অভিযান চলবে আরও কিছুদিন। দুর্নীতি দমন কমিশন স্পষ্ট করেই বলছে, `মন্ত্রীদের চারপাশের আবর্জনা পরিষ্কার করা হবে।`

Read In English: http://bit.ly/2Dz5s9F


বাংলা ইনসাইডার/জেডএ