ঢাকা, সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বিএনপিতে ভাঙনের শব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০১৮ সোমবার, ১০:০০ পিএম
বিএনপিতে ভাঙনের শব্দ

বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ দুর্নীতি মামলার রায়ের আগেই বিএনপিতে বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিরোধ প্রকাশ্য হতে শুরু করেছে। গত রোববার বিএনপির দুজন নেতা নির্বাচন কমিশনে গিয়ে সংশোধিত গঠনতন্ত্র জমা দেন। যাতে ৭ (ঘ) ধারা বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ‘দুর্নীতিবাজ’রাও বিএনপির সদস্য হতে পারবে। বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা ‘এটা অন্যায়’ বলে প্রতিবাদ করেছেন। দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এনিয়ে আলোচনা হয়েছে বলা হলেও একাধিক স্থায়ী কমিটির সদস্য জানিয়েছেন এনিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি।

সোমবার এই বিষয় নিয়ে স্থায়ী কমিটির অন্তত ৪ জন সদস্য আলাদা বৈঠক করে গঠনতন্ত্র সংশোধনীকে অগ্রণযোগ্য বলেছেন। তাঁরা বলেছেন, ‘এর মাধ্যমে একটা রং মেসেজ গেলো।’ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন, এর মধ্য দিয়ে বিএনপি ভাঙ্গনের দিকে যাত্রা শুরু করল। রোববার গঠনতন্ত্র সংশোধন করে বেগম জিয়ার আজ্ঞাবহ দুই নেতা নজরুল ইসলাম খান এবং রুহুল কবির রিজভী যান নির্বাচন কমিশনে। অথচ দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের মতো সিনিয়র নেতারা নির্বাচন কমিশনে যাননি।

বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গঠনতন্ত্রের ৭(ঘ) বাতিলের বিপক্ষে ছিলেন। তাঁর বক্তব্য হলো, বেগম জিয়ারকে প্রহসনের বিচারে দণ্ডিত করার চক্রান্ত চলছে। এটা আমরা আইনগত ভাবে মোকাবেলা করব। কিন্তু এর জন্য গঠণতন্ত্র সংশোধন করতে হবে কেন?

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. মঈন খানও গঠণতন্ত্র সংশোধনের বিরোধিতা করেন। তিনি উদাহরণ দেন যে, মশিউর রহমান, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, এমনকি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও তো বিভিন্ন দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত। তাহলে ৭(ঘ) বাদ দেওয়ার আগে কি তারা বিএনপির সদস্য ছিল না?’ বিএনপির আরেক প্রবীণ নেতা ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিঞাও গঠণতন্ত্রের এই সংশোধনীকে অপ্রয়োজনীয় মনে করেছিলেন বলে জানা গেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেছেন, ‘তাহলে তো আমরা দুর্নীতির পক্ষে অবস্থান নিলাম। আমাদের সম্পর্কে আওয়ামী লীগ যে অপপ্রচার করছে, তা আমরাই স্বীকার করে নিলাম।’
শুধু গঠণতন্ত্র সংশোধন নয়, আরও অনেক বিষয়ে বিএনপি নেতৃত্ব প্রকাশ্যে বিরোধে জড়িয়েছেন। মঙ্গলবার জিয়া অরফানেজ মামলা নিয়ে কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। অথচ এই বৈঠকের তারিখ এবং বিষয়বস্তু নির্ধারণের আগে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। একাধিক সিনিয়র নেতা, এখনই এই বৈঠককে অপ্রাসঙ্গিক হিসেবে মত দিয়েছেন। তারা বলেছেন, রায়ের আগে কূটনীতিকরা এসব ব্যাপারে আগ্রহী নয়।

বেগম জিয়ার অবর্তমানে বিএনপির নেতৃত্ব নিয়েও দলে মতভেদ তীব্র। দলের সিনিয়র নেতারা চান, বেগম জিয়ার অবর্তমানে স্থায়ী কমিটি যৌথ ভাবে দল পরিচালনা করুক। কিন্তু খোদ বেগম জিয়ারই তাতে সায় নাই। তিনি চান, তারেক জিয়া বা জোবায়েদা দল পরিচালনা করুক। দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতাও তাঁর পক্ষে। বিএনপির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেছেন,‘বিএনপিতে অবিশ্বাসের সংসার। ম্যাডাম আমদের বিশ্বাস করে না। আমরা ম্যাডামের মনের খবর জানি না। দল ভাঙার সব আলামতই এখন মজুদ বিএনপিতে।’

বিএনপির একাধিক নেতা বলেছেন ‘৮ ফেব্রুয়ারি রায় হোক তারপর দেখবেন বিএনপিতে কি হয়।’

Read In English: http://bit.ly/2DMNosM


বাংলা ইনসাইডার/জেডএ