ঢাকা, রোববার, ১৯ আগস্ট ২০১৮ , ৪ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

তারেক জিয়ার পরিণতি কী?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ রবিবার, ১০:০০ পিএম
তারেক জিয়ার পরিণতি কী?

বেগম খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হওয়ার পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হয়েছেন তারেক জিয়া। লন্ডনে বসে যখন তিনি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তখন তাঁর মাথায় মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ড। আগামী কিছুদিনের মধ্যেই ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার রায় হবে। ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলায় তারেকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে। এদিকে, লন্ডনে ও তাঁর অবস্থান অনিশ্চয়তার দোলায় দুলছে। ৭ ফেব্রুয়ারি লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাস হামলায় সন্দেহের তীর তারেকের দিকে। লন্ডন পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত যে কজনকে গ্রেপ্তার করেছে তারা প্রত্যেকেই এ ঘটনার নির্দেশদাতা হিসেবে তারেকের নাম বলেছে। এই হামলার ঘটনা প্রমাণিত হলে তারেককে হয় লন্ডনের জেলে যেতে হবে অথবা বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।

যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের এখনো বন্দী বিনিময় চুক্তি নেই। তবে, ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরে বন্দী বিনিময় চুক্তির ব্যাপারে দুই দেশই নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বাংলা ইনসাইডারকে জানিয়েছে, আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বন্দী বিনিময় চুক্তি সাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরকম চুক্তি হলে প্রথম যে ব্যাক্তিটিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে তিনি হলেন তারেক জিয়া। বন্দী বিনিময় চুক্তি ছাড়াও তারেক জিয়ার বিপদ বেড়েছে। মানিলণ্ডারিং এ ৭ বছরের দণ্ডের পর জিয়া অরফানেজ মামলায় তাঁর ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। এর ফলে ইন্টারপোলের ‘ওয়ান্টেড’ আসামিদের তালিকায় তাঁরেকের নামের উলম্ফন হয়েছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় দোষী প্রমাণিত হলে তাঁকে ইন্টারপোল ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ হিসেবে চিহ্নিত করবে। তখন যুক্তরাজ্য তাঁকে ইন্টারপোলের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হবে। অর্থাৎ আজ না হয় কাল তাঁকে দেশে ফিরতেই হবে।

এখন তারেকের অন্যদেশে যাওয়ার সুযোগও কম। কারণ তারেক জিয়া তাঁর বাংলাদেশি পাসপোর্ট নবায়ন করেননি। যুক্তরাজ্য সরকার তাঁকে রিফিউজি হিসেবে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে কিন্তু কোনো পাসপোর্ট দেয়নি। তারেকের দেশে ফেরাও এক বন্ধুর পথ। মানি লন্ডারিং মামলায় তারেককে দণ্ড দিয়েছে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার বিধান থাকলেও তারেক তা করেননি। বাকি দুটি মামলায় যদি তিনি দেশে না ফেরেন তাহলে আপিলের সুযোগ হারাবেন। এরকম এক দৃশ্যপটে তারেক জিয়ার রাজনীতির ভবিষ্যত কি? তার পরিণতিই বা কি? এ প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

বেগম জিয়া জেলে যাবার পর তারেককে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করাকে পছন্দ করেননি দাতা ও বন্ধু রাষ্ট্ররাও। দলের তরুণ অংশে অসম্ভব জনপ্রিয় হলেও দেশের সিংহভাগ মানুষ তাকে রাজনীতিবিদ ভাবতে রাজি নন। বরং তাঁকে একজন দুর্বৃত্ত এবং দুর্নীতিবাজ মনে করে সাধারণ মানুষ। বেগম জিয়ার রাজনীতি যখন অস্তমিত সূর্যের মতো তখন তারেকের রাজনীতির ভবিষ্যৎ কোনো আশার আলো দেখাতে পারছে না। বরং দেশে বিদেশে নানা কেলেঙ্কারিতে আস্টে পৃষ্টে জড়িয়ে থাকা তারেক জিয়ার রাজনীতির ইতি দেখছেন অনেকেই। ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ হওয়ার মধ্য দিয়েই কি তারেক জিয়ার রাজনীতির যবনিকা পর্বের সূচনা হলো?



বাংলা ইনসাইডার/জেডএ 

 

বিষয়: তারেক-জিয়া