ঢাকা, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ১১ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

এ যুগের ক্রীতদাস ফাতেমা?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ শুক্রবার, ১০:০০ পিএম
এ যুগের ক্রীতদাস ফাতেমা? কারান্তরীণ হওয়ার আগে একই গাড়িতে বেগম জিয়ার সঙ্গে তাঁর গৃহপরিচালিকা ফাতেমা। ইনসেটে ফাতেমা। ছবি: সংগৃহীত

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম জিয়ার সঙ্গে কারাগারে আছেন গৃহপরিচারিকা ফাতেমা। বিনা বিচারে এভাবে একজন মানুষকে কারাগারে রাখা মানবাধিকার এবং সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার কর্মীরা। এটা এক ধরনের ক্রীতদাস প্রথা বলছেন তাঁরা।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে। ওই দিনই আদালত থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারে। ওই সময় বেগম জিয়া তাঁর ব্যক্তিগত গৃহপরিচারিকা সঙ্গে রাখেন। কিন্তু কারাবিধিতে এরকম বিধান না থাকায় কারা কর্তৃপক্ষ ফাতেমাকে বেগম জিয়ার সঙ্গে রাখতে অস্বীকৃতি জানায়। চারদিন পর আদালতের অনুমতি পেয়ে ফাতেমাকে বেগম জিয়ার সঙ্গে থাকতে দেওয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৮ বছর আগে ফুফাতো ভাই বশির উল্ল্যার হাত ধরে ভোলা থেকে ঢাকায় আসেন ফাতেমা। ঢাকা এসেই গৃহকর্মী হিসেবে ফাতেমা বেগম জিয়ার সঙ্গে আছেন। ঢাকা আসার আগেই ফাতেমার স্বামী হারুন লাহড়ী মারা যান। ফাতেমার দুই সন্তান। বড় মেয়ে রিয়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে এবং ছেলে রিফাত চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। তারা দুজনই থাকে নানা বাড়িতে। ফাতেমার বাবা রাফিজাল হক ও মা মালেকা বেগম ভোলা সদরের কাটিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। শুধুমাত্র কিছু টাকার জন্যে ফাতেমা ক্রীতদাসের জীবন বেছে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। কিন্তু এভাবে বিনা অপরাধে কারাবরণ আমাদের সংবিধান লঙ্ঘন।

আমাদের সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘ আইন অনুযায়ী ব্যক্তি জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতা থেকে কোনো ব্যক্তিকে বঞ্চিত রাখা যাবে না।’ উল্লেখ্য সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত অধ্যায়ের অংশ। সংবিধানের ২৬(১) অনুযায়ী মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো আইন বাতিল হিসেবে গণ্য হবে ‘ এই অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘বিনা কারণে কাউকে জেলে রাখার নির্দেশ যদি কোনো আদালত দেয়, তাহলে সেই নির্দেশও অবৈধ হবে।’ বিশিষ্ট আইনজীবী এবং মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর মনে করেন, ‘এটা একমাত্র ক্রীতদাস প্রথায় সম্ভব। আমাদের শাসনতন্ত্র এটাকে সমর্থন করে না।’ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন, ‘ বিনা কারণে কাউকে জেলে আটকে রাখা যায় না, এমনকি তিনি যদি স্বেচ্ছায়ও থাকতে চান, সেটিও আমাদের সংবিধান অনুমোদন করে না।’

জানা গেছে, প্রতিদিন এক হাজার টাকার বিনিময়ে ফাতেমা স্বেচ্ছায় কারাবরণ বেছে নিয়েছেন। প্রশ্ন হলো, ফাতেমা কি এ যুগের ক্রীতদাস?

Read In English: http://bit.ly/2CsOV1S


বাংলা ইনসাইডার/জেডএ