ঢাকা, সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮ , ৪ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

নির্বাচনের তিন ফর্মুলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ শনিবার, ১০:০১ পিএম
নির্বাচনের তিন ফর্মুলা

বেগম খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হওয়ার পর রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে হবে? বিএনপি কি সেই নির্বাচনে অংশ নেবে?

একথা সত্য দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হবার পর বিএনপি সহায়ক সরকারের দাবিতে আর সোচ্চার নয়। বিএনপির অনেক নেতাই ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক বা সহায়ক সরকার নিয়ে তারা এখন ভাবছেন না। বরং বেগম জিয়া জেল থেকে বেরুলেই তারা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। তবে বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা বেগম জিয়ার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা। শেষ পর্যন্ত যদি আদালতের রায়ে বেগম জিয়া নির্বাচনের অযোগ্য হন, তাহলে অখন্ড বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণ অসম্ভব হয়ে পড়বে বলেই বিএনপির নেতৃবৃন্দ মনে করেন। আর এটাই হলো আগামী নির্বাচনে সরকারের এক নম্বর ফর্মুলা বা অপশন। আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট করেই বলেছেন, এবার তারা ২০১৪’র মতো নির্বাচন করতে চায় না। এ নিয়ে উন্নয়ন সহযোগী এবং দাতা দেশগুলোর চাপ আছে। ক’দিন আগেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্য স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিয়েছে যে তারা বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চান। এজন্য সরকার বহু আগে থেকেই কাজ শুরু করেছে। সরকারের একাধিক নেতা বলেছেন, এরশাদ এবার আর ২০১৪’র মতো টালবাহানা করবেন না। হেফাজতকেও সরকার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করেছে। বি. চৌধুরীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্টও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। এমনকি জামাতও নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। ২০১৪’র ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ২০১৮ তে আওয়ামী লীগ নির্বাচন প্রশ্নে বিএনপিকে একঘরে করে ফেলেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অন্য সব দল অংশগ্রহণ করলেও বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ না নেয় তাহলে ওই নির্বাচন ততটা গ্রহণযোগ্য হবে না। আওয়ামী লীগের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক ফর্মুলা হলো ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন বা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের নেতৃত্বে একটি অংশ বেরিয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। আওয়ামী লীগ এমন একটি নির্বাচনকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে রেখেছে। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই বলেছেন, বেগম জিয়ার কারাজীবন দীর্ঘ হলে আপনা আপনিই বিএনপি ভাগ হবে। তারা মনে করছেন, অধিকাংশ নেতাই নির্বাচনের জন্য মুখিয়ে আছে।

শেষ পর্যন্ত যদি হাইকোর্ট বা আপিল বিভাগ বেগম জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে এবং তাঁকে নির্বাচনের সুযোগ দেয়,সেক্ষেত্রে হয়তো বেগম জিয়া ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন। বিএনপির অনেক নেতাই বলছেন, নির্বাচনের যোগ্য হয়ে যদি বেগম জিয়া জেল থেকে বেরিয়ে নির্বাচন করে, তাহলেই বিএনপি বিজয়ীর বেশেই নির্বাচন করবে। তাদের মধ্যে আশাবাদী কেউ কেউ মনে করছেন, ওই নির্বাচন হবে গণঅভ্যুত্থান। বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপকালে তাঁরা বলেছেন, প্রশাসনে,পুলিশে বিএনপির প্রচুর লোকজন আছে। বেগম জিয়া নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলেই তাঁরা প্রকাশ্য হবে। কাজেই নিরপেক্ষ সরকার না হলেও নির্বাচনের সময় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব সরকারের হাতে থাকবে না। তবে, আওয়ামী লীগ বিশেষ করে শেখ হাসিনা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকার থাকলে সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে হারানো মুশকিল। তবে বেগম জিয়া নির্বাচনে অংশ নিলে ২০০৮ এর চেয়ে অনেক বেশি আসন বিএনপি জিতবে। এটা হলো আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় পছন্দের ফর্মুলা।

আওয়ামী লীগের অনেক নেতারই ধারণা, শেষ পর্যন্ত পুরো বিএনপিই হয়তো নির্বাচন থেকে দূরে থাকতে পারে। বিশেষ করে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে সব রাজনীতিবিদদের এই অভিজ্ঞতা হয়েছে যে, দলছুটদের মানুষ পছন্দ করে না। তাছাড়া মূলধারার বাইরে গিয়ে রাজনীতি করলে তা শিকড়হীন মনে হয়। এজন্য তীব্র মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত দণ্ডিত খালেদা জিয়া নির্বাচনের অযোগ্য হলে, পুরো বিএনপি হয়তো ২০১৪র পথে হাঁটতে পারে। আবার নির্বাচন থেকে দূরে সরে যেতে পারে। আওয়ামী লীগের অনেক নেতার সঙ্গেই কথা বলে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া গেছে যে, এমন নির্বাচন আওয়ামী লীগও চায় না। যদিও সেরকম নির্বাচন হলে এবার আর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হবার ঘটনা ঘটবে না। বরং যুক্তফ্রন্ট, জাতীয় পার্টি, হেফাজত মিলে দেশে একটি নির্বাচনী হট্টগোল শুরু করবে। তবুও এমন নির্বাচনকে যতদূর সম্ভব এড়িয়ে যেতে চায় আওয়ামী লীগ।

শেষ পর্যন্ত কোন ফর্মুলায় নির্বাচন হবে তা সম্পূর্ণ ভাবে নির্ভর করছে খালেদা জিয়ার পরিণতির উপর।



Read in English- http://bit.ly/2EyxKS5

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ