ঢাকা, রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

১ ভাগ ভোটার খালেদার মুক্তি চান!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ বুধবার, ১০:০০ পিএম
১ ভাগ ভোটার খালেদার মুক্তি চান!

বেগম জিয়ার মুক্তি চেয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বিএনপির তিন দিনব্যাপী গণ স্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু করে। তিন দিনে গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে প্রায় ১১ লাখ মানুষ খালেদার মুক্তির দাবির প্রতি সংহতি জানিয়েছেন বলে, বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তিন দিনের কর্মসূচি শেষ হয়েছে কি হয়নি, সে সম্পর্কেও বিএনপি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নেই। বিএনপির মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে, ১০ কোটি ৪১ লাখ ভোটারের মধ্যে মাত্র ১১ লাখ ভোটারের মুক্তি চাওয়া কি প্রমাণ করে? এটা কি বেগম জিয়ার মুক্তির দাবিকে অস্বীকার করার সামিল নয়? এই অল্প সংখ্যক স্বাক্ষর কি এটা প্রমাণ করে না যে, বেগম জিয়ার গ্রেপ্তারের বিষয়ে সিংহভাগ ভোটার প্রতিক্রিয়াহীন?

বাংলাদেশে গণস্বাক্ষর কর্মসূচির প্রথম শুরু হয় ১৯৭৫ এর ১৫ অগাস্টের পর। জাতির পিতার হত্যার বিচারের দাবিতে শেখ হাসিনার উদ্যোগে বিশ্বব্যাপী ‘পিটিশন ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। বিচারের দাবিতে গণ স্বাক্ষরের এই কর্মসূচিতে ব্রিটিশ এমপি পিটার শো সহ বিশ্বের ১৮ কোটি মানুষ সংহতি স্বাক্ষর করেছিল।
৭৭ এ যুদ্ধাপরাধের শিরোমণি গোলাম আজমের নাগরিকত্বের দাবিতে গণ স্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু হয়। ওই স্বাক্ষর কর্মসূচিতে ২০ লাখ মানুষ স্বাক্ষর করেছিল বলে জামাত দাবি করে।

৯১ এ শহীদ জননী জাহানারা ইমাম যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গণ স্বাক্ষর কর্মসূচি গ্রহণ করেন। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয় জে, এক কোটির বেশি মানুষ বিচারের দাবিকে সমর্থন করে স্বাক্ষর করে।

২০০৭ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়ান-ইলেভেন সরকার কর্তৃক গ্রেপ্তার হন শেখ হাসিনার মুক্তির দাবীতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন শুরু করে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের দাবি ২ কোটি ৩০ লাখ নাগরিক শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিকে সমর্থন করে স্বাক্ষর দেন।

গণস্বাক্ষরের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিকে সমর্থন করে স্বাক্ষরদাতার সংখ্যা সবথেকে কম। বিএনপির নেতৃবৃন্দ অবশ্য দাবি করেছেন, এটার সঙ্গে নাগরিক সমর্থনের সম্পর্ক নেই। অনেক মানুষ ভয়ে স্বাক্ষর করে নি। বিএনপির কয়েকজন নেতা স্বাক্ষর কর্মসূচির ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেন। তারা বলেন, আমরা প্রথম দিন কর্মসূচি জাঁকজমকের সঙ্গে করেছি, পরে এতে ঢিলেমি এসেছে। এজন্য স্বাক্ষর বেশি হয় নি। তারা স্বীকার করেন, তাদের কর্মসূচির ব্যর্থতা অমার্জনীয়। এতে দলের ও বেগম জিয়ার ইমেজ ক্ষুন্ন হয়েছে।

তবে বিএনপির কেউ কেউ বলছেন, এটা প্রতীকি কর্মসূচি কতজন স্বাক্ষর করল সেটি বিষয় নয়। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ হিসাবে দেশে বৈধ ভোটারের সংখ্যা ১০ কোটি ৪১ লাখ। বিএনপি সব সময় দাবি করে তাদের সমর্থক ৩০ ভাগ ভোটার। সে ক্ষেত্রে তিন কোটির বেশি স্বাক্ষর পেলে খালেদার প্রতি সুবিচার করা হত বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন। মাত্র ১ ভাগ ভোটাররা বেগম জিয়ার মুক্তি চান- এটা তথ্য বিএনপির জন্য অস্বস্তির ও লজ্জার বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Read in English- http://bit.ly/2omTO7C

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ