ঢাকা, বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ২ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘নেত্রীর সিগন্যাল পেয়েছি’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ বুধবার, ১০:০০ পিএম
‘নেত্রীর সিগন্যাল পেয়েছি’

বেগম জিয়া কারাবন্দী হবার পর আওয়ামী লীগে কোন্দল বেড়েছে। গত ২০ দিনে অন্তত ৩৪টি জেলায় দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ হবার খবর পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ধরেই নিয়েছে, আরেকটি বিএনপিবিহীন বা খণ্ডিত বিএনপিকে নিয়ে নির্বাচন হচ্ছে। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জিতছে এমন তৃপ্তির ঢেকুর আওয়ামী লীগের ঘরে ঘরে। মনোনয়ন পেলেই এমপি-এমন ধারণা থেকে এমপিপ্রত্যাশীরা তাদের এলাকায় প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হচ্ছে। বেশকিছু স্থানে সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। কোথাও কোথাও আওয়ামী লীগই আওয়ামী লীগকে এলাকাছাড়া করছে। এই প্রবণতাকে ‘ভয়াবহ ব্যাধি’ বলছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। কিন্তু দলের সভাপতি ছাড়া কাউকেই মানতে রাজি নন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। সারাদেশে প্রকাশ্যে অন্তঃকলহের খবর দলের সভাপতি শেখ হাসিনাও জেনেছেন। তিনি এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থান গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিভিন্ন স্থানে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের এই বিরোধ ক্রমশ: আওয়ামী লীগকে দুর্বল করে দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই বলছেন, ‘শেষ পর্যন্ত যদি বিএনপি নির্বাচন করে তাহলে আওয়ামী লীগকে চরম মূল্য দিতে হবে।’
ঢাকার নিকটবর্তী নির্বাচনী এলাকায় একজন চিকিৎসক ২০১৪ তে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। সেখানে আবার একজন সাবেক এমপিও এবার মনোনয়ন চান। বর্তমান এমপি বলেছেন, ‘নেত্রী আমাকে গ্রীন সিগনাল দিয়েছেন।’ সাবেক এমপিও একই দাবি করেছেন। এখানে দুপক্ষের মধ্যে প্রতিদিনই কিছু না কিছু লেগেই রয়েছে।

পাবনায় ২০০৮ এর এক প্রতিমন্ত্রী বলছেন, ‘তাঁর নমিনেশন কনফার্ম। তিনি এলাকায় ঘোষণা দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ওই আসনে ২০০১ পর্যন্ত যিনি প্রার্থী ছিলেন তিনিও দাবি করছেন, দলের সঙ্গে তাঁর ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে।‘ তিনিই এবারের প্রার্থী। আগে এই এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ ছিল জামাতের যুদ্ধাপরাধী এক নেতা। ওই নেতার দণ্ড কার্যকর হয়েছে। এখন সেখানে আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব চলছে প্রকট।

চাঁদপুরে ২০০৮ এর এক প্রবল প্রতিপত্তিশালী নেতা। যিনি ২০১৪ তে মন্ত্রীও হয়েছিলেন। ৯৬ সালে তিনি ছিলেন প্রবল ক্ষমতাশালী। কিছুদিন আগে পর্যন্ত তাঁর প্রধান কাজ ছিল তাঁর প্রতিপক্ষের বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা করা। এখন তিনি তাঁর দলের প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে মামলা করার উৎসব করছেন। নানা কারণে বিতর্কিত হলেও এলাকায় তিনি দাবি করছেন, তিনিই সভাপতির আস্থাভাজন।

ফেনীর একই আসনে দুই অভিনেত্রী মনোনয়ন প্রত্যাশী। একজন আবার শহীদের সন্তান। অন্যজন বিএনপি সমর্থক বুদ্ধিজীবীর সাবেক স্ত্রী। দুজনই এলাকায় ঘোষণা দিয়েছেন, ‘শেখ হাসিনার সিগন্যাল পেয়েছি।’

জামালপুরে হঠাৎ করে ২০০৮ এ বনে যাওয়া এক মন্ত্রীর আসনেও একই অবস্থা। সেখানে ছাত্রলীগের সাবেক এক নেত্রী বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ‘নেত্রীর সিগন্যাল পেয়েছি, তাই এসেছি।’

এরকম ঘটনা ঘটছে দেশের সর্বত্র। আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য স্বীকার করলেন যে, এভাবে অনেকেই দলীয় সভাপতির নাম ভাঙিয়ে এলাকায় আওয়ামী লীগের কর্মীদের বিভ্রান্ত করছে।’ তিনি বলেন, ‘শুধু বিভ্রান্ত নয়, তারা দলে কোন্দল উস্কে দিচ্ছে।’ ওই নেতা বলেন, ‘যারা শেখ হাসিনার নাম ভাঙিয়ে এলাকায় বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাঁদের ব্যাপারে দলীয় সভাপতি কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন। ইতিমধ্যে আমরা এরকম কিছু মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকা চূড়ান্ত করেছি।’

শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ একজন নেতা বলেছেন, ‘গণভবনের চারপাশে ঘোরাঘুরি করে অনেকে এলাকায় গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে যে তিনি নমিনেশন পেয়েছেন। আবার অনেকে নেত্রীর সঙ্গে দেখা করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগ্রহ প্রকাশ করে। সভানেত্রী তাঁকে বলেন, এলাকায় যাও, কাজ করো। মানে হলো, এলাকার মানুষ তোমাকে কীভাবে অ্যাকসেপ্ট করছে তা পরখ করো। কিন্তু সে এলাকায় গিয়ে বলছে, সে নমিনেশন পেয়ে গেছে। কোথায় সে দলকে ঐক্যবদ্ধ করবে, উল্টো সে আরেকটা গ্রুপ তৈরি করছে।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলীয় কোন্দল মেটাতে দলের সভাপতি শিগগিরই উদ্যোগ নেবেন।




Read In English: http://bit.ly/2otIhEj


বাংলা ইনসাইডার/জেডএ