ঢাকা, রোববার, ২৪ জুন ২০১৮ , ১০ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

নির্বাচনের মধ্যস্থতায় ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০১৮ রবিবার, ১০:০০ পিএম
নির্বাচনের মধ্যস্থতায় ভারত

বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যাপারে ভারতই দাতা দেশগুলোর পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। বিদেশি দূতাবাস গুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এব্যাপারে সমঝোতার দায়িত্ব ভারতের উপরই ন্যস্ত করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অবাধ, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রধান দুই দলের মধ্যে সমঝোতার আবহ তৈরি করতে ভারতকে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব করেছে। ফলে, আগামী নির্বাচনে ভারতের অবস্থানই সকল দাতা দেশের অবস্থান হবে। একাধিক কূটনীতিক সূত্র এ খবর নিশ্চিত করেছে।

নানা কারণেই বাংলাদেশ মার্কিন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রভাব বলয় থেকে বেরিয়ে এসেছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের ‘ঐতিহাসিক মানবিক’ অবস্থানের পর, নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশকে নতুন করে চাপে ফেলতে চায় না কোনো দেশই। অন্যদিকে, ভারতের উপর বাংলাদেশের রাজনীতির নির্ভরতা বেড়েছে। পাশের বড় দেশ এবং সাম্প্রতিক সময়ে দুদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারত নির্ভরতা বেড়েছে। বিশেষ করে ২০১৪’র নির্বাচনে ভারতের একতরফা সমর্থন, শেষ পর্যন্ত বর্তমান সরকারকে পূর্ণ মেয়াদ ক্ষমতায় রেখেছে। ভারত তার নিজের দেশের নিরাপত্তার স্বার্থেই বাংলাদেশের একটি স্থিতিশীল সরকার চায়। ভারত চায় এমন একটি দলকে ক্ষমতায় রাখতে যারা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদের ব্যাপারে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি গ্রহণ করবে। আবার কংগ্রেসের মতো মোদীর বিজেপি সরকার আওয়ামী লীগকে অন্ধভাবে সমর্থনও দিতে চায় না। বিজেপি সরকার বাংলাদেশের ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়‘। চায় অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। এজন্যই কূটনৈতিক আলোচনায়, বাংলাদেশে এরকম একটি নির্বাচনের মধ্যস্থতায় ভারতই উপযুক্ত এরকম মনোভাব উঠে এসেছে। বিশেষ করে  

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় মোটেই আগ্রহী নয়। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক মার্কিন প্রতিনিধি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়ে পায়নি। যারা সময় পেয়ছেন, তাদেরও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ‘নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে’ এই বলে বিদায় দিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিজ্ঞতাও একই। সেদিক থেকে ভারত অনেক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করে। বিশেষ করে সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অনেক অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো। ভারতও নিজের স্বার্থেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাদের প্রভাব বজায় বলয় বাড়াতে চায়। গত তিনমাসে ভারতের কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপিরও যোগাযোগ বেড়েছে। একটি সূত্র দাবি করেছে, বিএনপিও এখন বুঝতে পেরেছে, ভারত বিরোধীতা করে ক্ষমতায় আসা অলীক কল্পনা। ভারতের পরামর্শ এবং অনুরোধেই বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিচ্ছে। ভারত হয়তো শেষ পর্যন্ত, বিএনপিকে নির্বাচনের পথেও নিয়ে যাবে। তবে ভারত কাউকে জিতিয়ে আনার কৌশল নেবে না। বরং জনগণ যেন তাঁর মতামত নির্ভয়ে দিতে পারে সেজন্য প্রধান দুই দলকে ঐক্যমতে আনবে ।

অন্যান্য দাতা দেশগুলোর চাওয়া এটাই। তবে ভারত স্পষ্ট করেই বলেছে, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তারা সমর্থন করে না। বর্তমান সরকারের অধীনেই একটি অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে ভারতই দুই প্রধান দলের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে, এমন খবর বেশ জোরেসোরেই শোনা যাচ্ছে । নির্বাচনের আগে একাধিক সফর সেই খবরকে আরও শক্ত ভিত্তি দিচ্ছে। মার্চেই প্রধান দুই দলের সাধারণ সম্পাদক ও মহাসচিব ভারত সফরে  যাচ্ছেন । তিস্তার পানি চুক্তি এবং আরও কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ আসবেন এপ্রিল মে মাসে। এই সফরেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হবে। এই সফরটা বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় অগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হবে তা নিশ্চত করেছে কূটনৈতিক মহল।



Read in English- http://bit.ly/2IiIe6H

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ