ঢাকা, বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ২ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

শেখ হাসিনা কেন সুশীলদের কাছে অপ্রিয়?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩১ মার্চ ২০১৮ শনিবার, ১০:০০ পিএম
শেখ হাসিনা কেন সুশীলদের কাছে অপ্রিয়?

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। দুর্নীতি, বৈষম্য, সুশাসনের অভাবসহ নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা আশা জাগানিয়া, বিস্ময়কর। বাংলাদেশের পরিবর্তন আজ দৃশ্যমান। আন্তর্জাতিক তথ্য-উপাত্ত পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বের জন্য অনুকরণীয়। কিন্তু এত সব সাফল্যগাথা সত্ত্বেও এদেশের এক শ্রেণীর মানুষের ভ্রু কুঁচকানো। তাঁদের মুখে শুধু হতাশা আর নিরাশার বাণী। উন্নয়ন এদের উদ্বিগ্ন করে। এই শ্রেণীকে বলা হয় সুশীল সমাজ। ৭৫ এর পর থেকেই এই সুশীল সমাজ আওয়ামী লীগ বিরোধী। এখন তারা সরাসরি শেখ হাসিনা বিরোধী। শেখ হাসিনাই যেন তাদের সবচেয়ে বড় পথের কাঁটা। প্রশ্ন হলো, আমাদের সুশীল সমাজ কেন শেখ হাসিনাকে পছন্দ করেন না?

বাংলাদেশের সুশীল সমাজের অন্যতম সরব ব্যক্তিত্ব ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তাঁর বাবা ছিলেন মুজিবভক্ত অন্ত:প্রাণ এক মানুষ। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে, শেখ হাসিনাই তাঁর মাকে মহিলা কোটায় এমপি বানিয়েছিলেন। ওয়ান ইলেভেনের সময় তিনি ‘মাইনাস টু ফমুর্লা’র অন্যতম প্রচারক হন। পুরস্কার হিসেবে জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগও পান। এখন তাঁর একমাত্র কাজ সরকারের খুঁত খুঁজে বেড়ানো। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, শেখ হাসিনার দোষ খোঁজা। কেন দেবপ্রিয় আওয়ামী লীগ বিরোধী হলেন?

শুধু ড. দেবপ্রিয় নন। প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, একদা ‘একতা’ সম্পাদক ছিলেন। বেগম মতিয়া চৌধুরীর স্বামী সংবাদ সম্পাদক প্রয়াত বজলুর রহমানের স্নেহধন্য ছিলেন। তাঁর সঙ্গে আওয়ামী লীগের অনেকের ঘনিষ্ঠতা থাকলেও শেখ হাসিনার বিষোদগার করাই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। ৯৬- ২০০১ এ এবং এখন তিনি পরিকল্পিত আওয়ামী লীগ বিরোধী প্রচারণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। একই অবস্থা ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের ক্ষেত্রেও। ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’ সুজনের নির্বাহী পরিচালক ড. বদিউল আলম মজুমদারতো আওয়ামী লীগ আর শেখ হাসিনার কোনো ভালোই কাজই দেখেন না। আর জাতির পিতার ঘনিষ্ঠ সহচর তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার বড় ছেলে ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন তো সুযোগ পেলেই শেখ হাসিনার সমালোচনায় মুখর হন।

একটু গবেষণা করলেই দেখা যায়, এইসব সুশীলরা বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনার কাছ থেকে সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন। এরা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনের কোনো এক পর্যায়ে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন।

কিন্তু সুশীলদের সঙ্গে শেখ হাসিনার বিরোধের আরেকটি দিক আছে। শেখ হাসিনা তাঁর রাজনীতিতে স্যুট টাই পরা ‘বাবু সাহেব’দের চেয়ে লুঙ্গি আর তেল চিটচিটে পাঞ্জাবী পরা গ্রামের তৃণমূলের মানুষটিকে বেশি গুরুত্ব দেন। শেখ হাসিনা প্রান্তিক মানুষের কথা যতটা গুরুত্ব দিয়ে শোনেন, ততটাই উপেক্ষা করেন সুশীলদের মতলববাজী কথাবার্তা। শেখ হাসিনার রাজনীতির সব থেকে বড় শিক্ষক হলেন এদেশের সাধারণ মানুষ, আপামর জনগণ। এরাই শেখ হাসিনার বড় শক্তি, সাহস এবং প্রেরণা। আর এদের চিন্তার সঙ্গে সুশীলদের চিন্তা বিপরীতমুখী। সাধারণ প্রান্তিক মানুষ নিজেদের স্বার্থে কথা বলেন না, যেমনটা বলেন সুশীলরা। এ কারণেই শেখ হাসিনা রাজনীতিতে যত পরিণত হয়েছেন, ততই সুশীলদের বর্জন করেছেন, কাছে টেনেছেন সাধারণ মানুষকে। তাই হয়তো শেখ হাসিনা জনগণের এত প্রিয় আর সুশীলদের কাছে অপ্রিয়।


Read In English: https://bit.ly/2GoCSJJ


বাংলা ইনসাইডার/জেডএ