ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ৭ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

তাঁরা নীরব কেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল ২০১৮ বুধবার, ১০:০০ পিএম
তাঁরা নীরব কেন?

কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী সরব। আজ সারাদিনই এনিয়ে তিনি ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। বিকেলে সংসদে আবেগপ্রবণ এক বক্তব্যও রেখেছেন। অভিমান করে বলেছেন, ‘কোটা রাখার দরকারই নেই।’ প্রথম দিন থেকেই প্রধানমন্ত্রী এই আন্দোলনের ব্যাপারে সজাগ। শিক্ষার্থীরা যেন ঘরে ফিরে যায়, সেজন্য কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রীকে সহায়তা করছেন সেতুমন্ত্রী ও দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। স্পষ্টত: বোঝা যায়, আওয়ামী লীগ সরকার কোটা সংস্কার আন্দোলনের ইস্যুকে রাজনৈতিক ভাবে মোকাবেলা করছে। কিন্তু বিষয়টা শুধু রাজনৈতিক নয়। এর সঙ্গে প্রশাসনিক এবং আইনগত দিকও জড়িত। কিন্তু কোটা সংস্কার আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং চিন্তা থাকলেও প্রশাসনের নীরবতা লক্ষণীয়।

সরকারি চাকরিতে ‘কোটা’ বিষয়টি সরাসরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। দলের দুঃসময়ের কাণ্ডারি। শেখ হাসিনা ছাড়া আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে সৈয়দ আশরাফের বিশ্বাসযোগ্যতা সবচেয়ে বেশি। হেফাজতের তাণ্ডবসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সৈয়দ আশরাফের কথায় শুধু আওয়ামী লীগই আস্থা পায়নি, সাধারণ মানুষও বিশ্বাস করেছে। অথচ এই সংকটে জনপ্রশাসন মন্ত্রীর কোনো বক্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অথচ অধিকাংশ আওয়ামী লীগ কর্মীদের ধারণা, ওবায়দুল কাদের নয় বরং সৈয়দ আশরাফ যদি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করতেন, তাহলে তা অর্থবহ হতো। তাঁর নীরবতা নিয়ে অনেক প্রশ্ন।

গত মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ছিলেন সাবেক আমলা এইচ টি ইমাম। দ্বিতীয় মেয়াদে এসে এইচ টি ইমাম হন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা। এখনো প্রশাসনিক নানা ব্যাপারে তিনি নাক গলান। দীর্ঘদিন তিনি সচিব ছিলেন, ক্যাবিনেট সচিব ছিলেন। এই আন্দোলনে এইচ.টি ইমাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারতেন। এমনকি বিষয়টিকে যদি রাজনৈতিক বিবেচনা থেকেও দেখা হয়, সেক্ষেত্রেও এইচ টি ইমাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারতেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁর কোনো ভূমিকা আমরা দেখিনি।

কোটা সংস্কার ইস্যুতে আইনগত দিকও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমাদের সংবিধানে পিছিয়ে পড়া মানুষ, নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কোটা সংস্কারের আইনগত ব্যাখ্যা কি? এ ব্যাপারে আইন ও বিচার মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হকের কোনো বক্তব্য এখনো আমরা পাইনি।

আওয়ামী লীগের মধ্যে এবং সাধারণ নাগরিকের প্রশ্ন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই তিন ব্যক্তি নীরব কেন?




Read in English- https://bit.ly/2JDzgl0

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ