ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আওয়ামী লীগের বিষফোঁড়া ১০০ আসন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল ২০১৮ শনিবার, ১০:০০ পিএম
আওয়ামী লীগের বিষফোঁড়া ১০০ আসন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়েছে। অন্তত ১৭০ প্রার্থীকে ইতিমধ্যে ‘সবুজ সংকেত’ দেওয়া হয়েছে। ১৪ দলের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি এবং কিছু আসনে কৌশলগত দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে ১৩০টি আসনের। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলেছে, রোজার আগেই এই আসনগুলোতে ফয়সালা চায় আওয়ামী লীগ। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড সফর শেষে  এসে বাকি মনোনয়ন চূড়ান্ত করার কাজ শুরু করবেন। এজন্য তিনি ১৪ দলের সঙ্গে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে বসবেন বলে জানা গেছে। মনোনয়ন চূড়ান্ত হলেও একটি বড় কাজ বাকি আছে বলে জানিয়েছে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র। ওই সূত্র মতে, এবারে দশম জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের অর্ধেকেরও বেশি এমপি মনোনয়ন পাচ্ছেন না। এ কারণে যাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে না, তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী। দল জয়ী হলে তাঁদের পুরস্কৃত করা হবে বলেও জানাবেন। এই ধরনের উদ্যোগের মূল কারণই হল দলীয় কোন্দল বন্ধ করা। প্রধানমন্ত্রী মনোনয়ন বঞ্চিতদের সতর্ক করে দেবেন যে ‘নৌকা’ প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করলে চরম ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রোজার মাসেই প্রধানমন্ত্রী ১৪ দলের সঙ্গে কথা বলবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগের একাধিক মাঠ জরিপের তথ্য অনুযায়ী ১৪ দলের শরীকরা সর্বোচ্চ ২০টি আসন পাওয়ার যোগ্যতা রাখে। আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, শরীকদের আওয়ামী লীগ ২০ থেকে ৩০টি আসনের প্রস্তাব করবে। শরীকদের জন্য আসন বরাদ্দ চূড়ান্ত হবার পরপরই আওয়ামী লীগ তাঁদের বাকি ১০০টি আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করবে।

আওয়ামী লীগের মাঠ জরিপের সঙ্গে জড়িত একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলেছেন, ১০০টি আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের কোনো পরিবর্তন হবে না। এগুলো সবাই জানে। যেমন, দলের সভাপতির তিনটি আসন, তোফায়েল আহমেদ, আমীর হোসেন আমু, মতিয়া চৌধুরী, সৈয়দ আশরাফ, মোহাম্মদ নাসিম। এসব আসনে দলীয় কোন্দলও নেই। ওই নেতা জানান, চূড়ান্ত করা বাকি ৭০ আসনে নতুন প্রার্থী দেওয়া হচ্ছে। ওই নেতা বলেন, প্রার্থী হিসেবে এরা নতুন হলেও এদের পরিচিত এবং সামাজিক মর্যাদা অনেক বেশি। স্বনামধন্য চিকিৎসক, সাবেক সেনা কর্মকর্তা, উর্ধ্বতন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা, আমলা,খেলোয়াড় এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। এই প্রার্থীরা এমন যে, এলাকায় তাঁদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

কাজেই তাদের বিরুদ্ধে খুব একটা গ্রুপিং হবে না। আওয়ামী লীগের ওই নেতা বলেন, ‘আমাদের মাথা ব্যথা ১৩০টি আসনে। এখানে ২০/৩০ যে কটিই হোক শরীকদের দেওয়া হবে। তাতে আওয়ামী লীগের মধ্যে প্রতিক্রিয়া হবে। আওয়ামী লীগ বড় সংগঠন কোনো এলাকাতেই ‘নৌকা’ প্রতীক নিয়ে অন্যদলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক এটা তাঁরা মেনে নিতে চায় না।’

এছাড়াও ১০০ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান প্রার্থী এবং সম্ভাব্য নতুন এক বা একাধিক প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে। এই আসন গুলোতে আওয়ামী লীগের একাধিক গ্রুপ রয়েছে। মাঠ জরিপে এখানে ফলাফলের  পরিবর্তন হচ্ছে। এই কারণেই এই ১০০ আসন আওয়ামী লীগের জন্য বিষফোঁড়া। তবে, আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা মনে করেন, ভাগ্য নিয়ন্ত্রক এই ১০০ আসনের প্রার্থিতা  চূড়ান্ত করবেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। আর তা চূড়ান্ত হবে রোজার আগেই। কারণ এখনই চূড়ান্ত না করলে এখানে আরও কোন্দল বাড়বে। জোয়ারের নির্বাচনেও এর প্রায় অর্ধেক আসনে আওয়ামী লীগ হেরেছে।

Read In English: https://bit.ly/2vg6Lqg


বাংলা ইনসাইডার/জেডএ