ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

দিনে আ. লীগ রাতে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০১৮ বুধবার, ১০:০০ পিএম
দিনে আ. লীগ রাতে বিএনপি

মাঝে মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হয়ে প্রায়ই বিদেশেও যান। আওয়ামীপন্থী ব্যবসায়ী হিসেবে প্রশাসনে, ব্যাংকে তাঁর দাপট।

সরকারের কাছ থেকে টেলিভিশন নিয়েছেন, ব্যাংকও নিয়েছেন। কিন্তু তাঁর গোপন যোগাযোগ লন্ডনে, তারেক জিয়ার সঙ্গে। সেখানে গোপন চ্যানেলে টাকা পাঠান। বিভিন্ন মাধ্যমে ঢাকার বিএনপি নেতাদের টাকা পৌঁছান।

অথবা, সরকারের একজন প্রভাবশালী আমলা। দিনের বেলা সচিবালয়ে কাজের চেয়ে এলাকার লোকজন নিয়ে বৈঠকই করেন বেশি। বঙ্গবন্ধু আর নেত্রী বলে গলা ফাটান। রাতে অন্য ফোন থেকে ফোন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। বলেন, ‘ফখরুল ভাই চালিয়ে যান। আমরা আছি।’

ব্যবসায়ী এবং আমলাদের মধ্যে এরকম বেশ কিছু ‘ঘরের শত্রু বিভীষণের’ সন্ধান পেয়েছে সরকার। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা এরকম বেশ কিছু ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছেন যাঁরা দিনে আওয়ামী লীগ রাতে বিএনপি।

কিছুদিন আগে নকশা বহির্ভূত ভাবে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগে এক ব্যবসায়ীর বাড়ি ভাঙ্গে রাজউক। পরে তাঁকে দুর্নীতি দমন কমিশন তলব করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে, লন্ডনে টাকা পাঠানোর অভিযোগ। শুধু এই ব্যবসায়ী একা নয়, এরকম অন্তত দেড় ডজন ব্যবসায়ীর সন্ধান পেয়েছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা যারা আওয়ামী পন্থী ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদেশ সফর করেছেন অথচ গোপনে বিএনপিকে টাকা দেন। এরকম একজন ব্যবসায়ী একটি ব্যাংকের মালিক। এক সময়ে আওয়ামী লীগের টিকেটে এমপিও  হয়েছিলেন। স্বাস্থ্য খাতে ব্যবসায়ী, একটি টেলিভিশন চ্যানেল চেয়ে পাননি। তাঁর অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে প্রধান অতিথিও করেন। তাঁর সঙ্গে লন্ডনের যোগাযোগ। দুর্নীতি দমন কমিশন তাঁর অবৈধ সম্পদ নিয়েও তদন্ত করছে। একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী, প্রসাধনীও তৈরি করেন। প্রতিবন্ধীদের দিয়ে কারখানা চালিয়ে সরকারের কাছ থেকে পুরস্কারও পেয়েছেন। তিনি বিএনপি চালানোর খরচ যোগান। ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন তাঁকে গ্রেপ্তার করলেও পরে জামিন পান। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সরকারের কঠোর নজরদারির কারণে এখন বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ীরা আন্দোলনে টাকা খরচ করতে ভয় পান। কিন্তু আওয়ামীলীগ পন্থী হিসেবে পরিচিত এই সব ব্যবসায়ীরাই এখন বিএনপি ও তারেক জিয়াকে চালাচ্ছেন।

আওয়ামীপন্থী ব্যবসায়ীরা যদি বিএনপিকে অর্থ যোগায় তবে তাদের তথ্য যোগাচ্ছে এক শ্রেণীর আমলারা। বিএনপিপন্থী হিসেবে চিহ্নিত আমলারা এখন হয় ওএসডি না হয় পদোন্নতি বঞ্চিত। কিন্তু যারা আওয়ামী লীগ সেজে প্রশাসনে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন তাদের অনেকেরই ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি একটি বড় মন্ত্রণালয় থেকে খণ্ডিত মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে উত্তরাঞ্চলের এক সচিবকে। তিনি এলাকায় মনোনয়নও আশা করেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের টাকাও ঢালেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বিএনপির। ঐ আমলা একসময় মান্নান ভুইঞার জেলায় জেলা প্রশাসক ছিলেন। বিচারপতি লতিফুর রহমান যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ছিলেন, তখন ছিলেন তাঁর সহকারী একান্ত সচিব। সম্প্রতি বিভাগীয় কমিশনার থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে সচিব হওয়া এক আমলার সঙ্গে জামাত সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিএনপির রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদের একান্ত সচিব এখন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যেতে চেয়েছিলেন। যেতে না পেরে এখন প্রকাশ্যেই সরকারের সমালোচনা করেন।

এদের বলা হচ্ছে ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’। চিহ্নিত শত্রুর চেয়ে ছদ্মবেশী শত্রুরাই বেশি ক্ষতি করে। এরাই এখন তাই সরকারের প্রধান মাথাব্যথা।   



বাংলা ইনসাইডার

বিষয়: আ-লীগ , বিএনপি