ঢাকা, রোববার, ১৯ আগস্ট ২০১৮ , ৪ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আমার মা…

শাহরিনা হক
প্রকাশিত: ১৩ মে ২০১৮ রবিবার, ১২:০৩ পিএম
আমার মা…

 

যখন অক্ষর চিনতে শিখিনি, তখন থেকেই ছোটদের বিভিন্ন রংবরঙের পড়ালেখার বইগুলো শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মুখস্ত ছিল। সেটা সর্ম্পূর্ণই মুখে শুনে শুনে। যখন বিদ্যুৎ চলে যেতো, মায়ের হাতে কাজ না থাকলে তাঁর কোলের মধ্যে বসে বসেই তাঁর মুখে শুনে শুনে মুখস্ত করতাম সব। কেউ শুনে ফেললে খুব বাহবা দিতো, তাতে লজ্জা পেয়ে মায়ের আঁচলেই মুখ লুকাতাম।

কপালে বড় টিপ, মাথায় ফিতে বাধা ঝুটি, মায়ের পছন্দের জামা-জুতো দিয়ে মা আমাকে খুব সাজিয়ে রাখতো। কোথায় হারিয়ে যাবো বলে একদম ঘর ছাড়া করতো না আমাকে। আজ ঘর ছেড়ে দূরে থাকি, মন পড়ে থাকে মায়ের কাছে।

যোই হোক, এরপর পড়াশুনার শুরু মায়ের হাত ধরে। স্কুলে গিয়ে খুব কাঁদতাম বলে মা সংসার রেখে আমার সঙ্গে স্কুলে বসে থাকতো। প্রতিটা ক্লাস শেষে এসে মাকে এক ঝলক দেখে যেতাম, খুব শান্তি পেতাম।

পড়াশুনার জন্য যখন তাকে রেখে আমার দূরে চলে যেতে হয়, তখন তাঁর বিলাপ আমি দেখেছি। প্রিয় সন্তান দূরে চলে যাওয়ার সেই কান্না আজও আমার চোখে ভাসে।

আমার কোনোরকম ব্যর্থতায় তাকে ভেঙে পড়তে দেখিনি, যদিও তিনি খুব নরম মানুষ। আমাকে উল্টো তিনি সাহস দিয়েছেন। আর আমার সাফল্যে তাকে কাঁদতে দেখেছি নীরবে, আনন্দের কান্না। 

আমার জন্মদিনে সবাই যখন আমাকে শুভেচ্ছা জানায়, মনে হয় এই শুভেচ্ছা তো মাকেও দেওয়া উচিৎ। আমাকে জন্ম দিতে তাঁর এতোটা কষ্টকে মূল্য দিতে হবে তো।

ছোটবেলায় মা শুধু মা’ই ছিল, এখন মা আমার বন্ধু। প্রতিদিন হাজারো কাজের চাপে শেষে ফোনের ওপাশে তাঁর কণ্ঠ শুনলে সব চাপ আমার অনেকটাই কমে যায়।

মাকে না দিয়ে একটা চকলেটও খেতে ইচ্ছে করতো না, কোনো কথা না বলেও থাকতে পারতাম না। মাকে রেখে দূরে থাকি, আমার বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় তাঁর মধুর এক অপেক্ষা আমার কাছে অনুপ্রেরণা মনে হয়। কারণ মায়ের পুরোটাই আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। আগের সেই ছোট্ট মেয়ের মতো এখনো তাঁর হাতে খাওয়ার জন্য বসে থাকি।

মাকে কৃতজ্ঞতা জানানো যায়না, তাহলে আজীবনেও তা শেষ করতে পারবোনা। ছোটবেলায় মৃত্যুর ছোবল থেকে বাঁচিয়ে এনে যে মা দ্বিতীয় জীবন দেয়, তাকে কৃতজ্ঞতা দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই।

এখন বিরতিতে দেখা হয় মায়ের সঙ্গে। মায়ের গন্ধ নিতে ছুটি পেলেই ছুটে যাই তাঁর কাছে। হাজারো গল্পের ভিড়ে লুকিয়ে থাকে আমাদের মা-মেয়ের ভালোবাসা। মায়ের শুধু মা দিবসেই মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করি তা ঠিক না। মাকে প্রতিদিন ভালোবাসি। আজ তাকে নিয়ে লিখতে গিয়েও চোখ ভিজে গেছে বার বার। পৃথিবীর সব মায়েদের মা দিবসের শুভেচ্ছা আর ভালোবাসা। মায়েরা ভালোবাসার ঝুলি নিয়ে আজীবন বেঁচে থাকুক।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/জেডএ