ঢাকা, রোববার, ২৪ জুন ২০১৮ , ৯ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

শ্বাসরুদ্ধ অপেক্ষার অবসান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০৮:০০ পিএম
শ্বাসরুদ্ধ অপেক্ষার অবসান

উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ। সূর্যোদয়ের দেশ জাপান থেকে নিশীথ সূর্যের দেশ নরওয়ে। পুরো বিশ্ব ছিল এর অপেক্ষায়। দীর্ঘ চার বছরের অপেক্ষা। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হলো। পর্দা উঠল হিম শীতল আর সাদা বরফে ঢাকা দেশ রাশিয়ায় ২১তম বিশ্বকাপ ফুটবলের। বিশ্ববাসী অবাক নয়নে তাকিয়ে দেখল মহারণের সূচনা। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ হ্যাজ বিগান’। 

বিশ্বকাপের কাউন্টডাউন আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয়েছিল ১০০ দিন আগে। দীর্ঘ তিন মাসের বেশি সময় মানুষ সময় দেখেছে বারবার। মাস গুনেছে, দিন গুনেছে, ঘণ্টা গোনা শেষে গুনেছে মুহূর্ত। সেই মুহূর্তও পেরিয়ে এখন ফুটবল লড়াই দেখতে উন্মুখ বিশ্ববাসী। আজ রাশিয়ায় উদ্বোধনের মধ্যে দিয়েই বিশ্বকাপের উৎসবে মাতল বিশ্ব।  

রাশিয়ায় জড়ো হয়েছে সাতটি মহাদেশের ৩২ দল। কেউ এসেছে উত্তপ্ত মরুভূমির বিস্তৃত সাব সাহারান অঞ্চল বা আফ্রিকা থেকে। কেউ যুদ্ধ বিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিনিধিত্ব করছে। দুই আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব করছে শক্তিশালী কয়েকটি দল, যারা শিরোপার দাবিদারও। আছে পাওয়ার ফুটবল আর টোটাল ফুটবল নিয়ে প্রতিনিধিত্ব করা ইউরোপের কয়েকটি পরাশক্তি। বরফের দেশ সবাই নামছে ফুটবল বিশ্বকাপের মহারণে নিজ দেশ ছাড়িয়ে মহাদেশের প্রতিনিধিত্বে।

ফুটবল বিশ্বকাপ এমন এক আয়োজন যা সারা বিশ্বকে এক করে। ধনী দেশ-গরীব দেশ, শান্তিপূর্ণ দেশ-যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ, উচ্চবিত্তের দেশ-দুর্ভিক্ষের দেশ। সব ভেদাভেদ ভুলিয়ে দিয়ে বিশ্বকে এক করেছে বিশ্বরূপী ফুটবলের বিশ্বকাপ। শুধু কি দেশ? সাদা-কালো-মুসলমান-খ্রিস্টান-ইহুদি সব ধর্ম বর্ণকে এক করেছে বিশ্বকাপ ফুটবল। পৃথিবীতে যেমন সবার আশ্রয় মেলে, তেমনি ফুটবল বিশ্বকাপ এক করে সবাইকে। সবার আশ্রয় আছে এই মহারণে, মহা আয়োজনে।

বিশ্বের উত্তর মেরুতে থাকা এস্কিমো পরিবারের ছোট শিশুটি যে উত্তেজনায় ফুটবল বিশ্বকাপ দেখবে, একই রকম আগ্রহ থাকবে দক্ষিণ মেরুতে থাকা গবেষক দলের। যুদ্ধ বিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যে জীবন হাতে নিয়ে চলা তরুণটির যেমন বিশ্বকাপ নিয়ে আগ্রহ, তেমনি উত্তেজনা থাকবে ইউরোপ-আমেরিকার স্থিতিশীল কোনো দেশের তরুণের। আবার ইউরোপ- উত্তর আমেরিকাসহ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর বিলাসবহুল মানুষের জীবনে বিশ্বকাপ যেমন উত্তেজনা ছড়াবে তেমনি সতৃষ্ণ নয়নে বিশ্বকাপ দেখবে এশিয়া-দক্ষিণ আমেরিকা-আফ্রিকাসহ বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর নূন্যতম সুবিধা-বঞ্চিত মানুষও। সবাই এক সূত্রে নিয়ে এসেছে বিশ্বকাপ ফুটবল।

পৃথিবী যেমন গোলাকার তেমনটি গোলাকার ফুটবল বিশ্বকাপ, এ যেন পৃথিবী নামক গ্রহের প্রতিনিধিত্ব করে। ৩২ টি দেশের খেলা হলেও পৃথিবীর উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু, পূর্ব থেকে পশ্চিম এমন কোনো জনবসতির স্থান পাওয়া যাবে না যেখানে মানুষ বিশ্বকাপ ফুটবল দেখবে না। এমনকি মহাশূন্যে পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের গবেষকরাও দেখবেন ফুটবল বিশ্বকাপ।

একটি বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই আরেকটি বিশ্বকাপের জন্য অপেক্ষায় বুদ হয়ে থাকে বিশ্ববাসী। চার বছর পর পর আসে এই মহা উৎসব। ফুটবল যেমন সার্বজনীন, তেমনি বিশ্বকাপ ফুটবলের আবেদনটাও পৃথিবীর সব মানুষের কাছেই যেন সমান। পৃথিবীর একমাত্র মহা-উৎসব বিশ্বকাপ ফুটবলই বিশ্ববাসীকে নিয়ে আসে এক গ্যালারির ছাদের তলায়।


বাংলা ইনসাইডার/জেডএ