ঢাকা, শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮ , ৪ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

গ্যালারি কথা বলে

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০১৮ শনিবার, ০৪:৩৬ পিএম
গ্যালারি কথা বলে

বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বাঁচা মরার লড়াইয়ে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে খেলছে আর্জেন্টিনা। খেলার প্রথমার্ধ শেষ হলো গোলশূন্য ভাবে। দ্বিতীয়ার্ধে গোলের আশায় উন্মুখ আর্জেন্টাইন সমর্থকরা। কিন্তু গোল খেয়ে বসল উল্টো আর্জেন্টিনাই। স্তব্বধ হয়ে গেল গ্যালারির আর্জেন্টিনা সমর্থকদের অংশটা। অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়ার সমর্থকদের মধ্যে চলছে উল্লাস। কিন্তু তখনো সমর্থকদের মনে আশা, গোল ফেরত দিয়ে এমনকি জিতেও যেতে পারে আকাশী-নীলরা। কিন্তু বিধি বাম। আবারও গোল খেল আর্জেন্টিনা। এবার গ্যালারিতে শোকের মাতম। ক্যামেরায় ধরা পড়ল, এক শিশু প্রিয় দলের পরাজয়ের আশঙ্কায় কাঁদছে। তাকে স্বান্ত্বনা দিচ্ছে তার বাবা।

পরদিন আর্জেন্টিনার চির প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের খেলার দিন গ্যালারিতে দেখা গেল আরেক দৃশ্য। আর্জেন্টিনার মতো ব্রাজিলেরও সেদিন প্রয়োজন ছিল জয়। কিন্তু ৯০ মিনিট পর্যন্ত ব্রাজিলের স্ট্রাইকাররা নিস্ফলা রইলেন। মাঠের এই ফলাফলের ছাপ দেখা গেল গ্যালারিতে বসে থাকা ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যেও। ম্যাচের সময় যত গড়িয়ে যাচ্ছিল, তাদের চোখ-মুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু আচমকা ইনজুরি টাইমের শুরুতেই গোল পেয়ে গেল ব্রাজিল। সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেল গ্যালারির ব্রাজিল সমর্থকদের চেহারা। তাদের চোখে-মুখে তখন সীমাহীন আনন্দ। নেচে-গেয়ে, লাফিয়ে উল্লাসে মেতে উঠলো তারা। পরে এই দৃশ্যে বাড়তি উল্লাস যোগ করল শেষ মুহূর্তে ব্রাজিলের দ্বিতীয় গোল।

এভাবেই ক্ষণে ক্ষণে প্রিয় দলের পারফরম্যান্সের উত্থান-পতনের সঙ্গে বদলায় গ্যালারির দৃশ্য। কখনো গ্যালারির দর্শকেরা হতাশায় নুয়ে পড়ে। কখনো আবার বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠে দর্শকরা। প্রিয় দলের পরাজয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়াও গ্যালারির অতি স্বাভাবিক একটি দৃশ্য। উত্তেজনা, উৎকণ্ঠা, চিৎকার করে প্রিয় দলকে উৎসাহ দেওয়া, প্রতিপক্ষ বা নিজ দলের অপছন্দের খেলোয়াড়কে দুয়ো দেওয়া সবই চলে গ্যালারির মধ্যে। গ্যালারির দর্শকদের অভিব্যক্তি দেখেই বলে দেওয়া যায় কী চলছে মাঠে। রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপের গ্যালারিতেও প্রতিদিন অভিনীত হচ্ছে দর্শকদের আনন্দ-বেদনার কাব্য।

নিজ দেশের জার্সি পড়ে, পতাকা হাতে প্রতি ম্যাচেই গ্যালারিতে উপস্থিত হচ্ছেন ওই দেশের সমর্থকরা। মুখে, হাতে-পায়ে, পিঠে সব জায়গাতেই আঁকা হচ্ছে প্রিয় দলের পতাকা বা দলের সমর্থনে বিভিন্ন রকমের ট্যাটু। সাজছেন তারা অদ্ভূত সাজে, হাতে থাকছে নিছক বিনোদনমূলক বা সামাজিক সচেতনতামূলক সব প্ল্যাকার্ড। যেমন ইরানের একদল তরুণ-তরুণীকে দেশটির প্রথম ম্যাচে একটি প্ল্যাকার্ড তুলে ধরতে দেখা গেছে যার মেসেজটি হচ্ছে – ‘ইরানের মাঠে ইরানি নারীদের প্রবেশ করতে দাও।‘ উল্লেখ্য, ইরানের স্টেডিয়ামগুলোতে নারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ।

মাঝে মাঝে গ্যালারির দর্শকরা নিজেরাই যোগ করে বিনোদনের নিত্য-নতুন অনুষঙ্গ। এই যেমন ২০১০ এর বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল সমর্থকরা স্টেডিয়ামে বাদ্যযন্ত্র ভুভুজেলা বাজিয়ে নতুন আমেজের সৃষ্টি করেছিল। তবে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়ই সাধারণত নিরাপত্তার খাতিরে বাড়তি জিনিসপত্রের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকে।

রাশিয়া বিশ্বকাপে এখনও গ্রুপ পর্বের খেলাই চলছে। এরই মধ্যে গ্যলারির দর্শকরা মাতিয়ে দিয়েছে বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের নক আউট পর্ব শুরু হলে যে গ্যালারির উত্তেজনা ও উন্মাদনা আরও বাড়বে সে কথা কোনো ঝুঁকি ছাড়াই বলা যায়।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি/জেডএ