ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৯ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কেমন দেশ ইংল্যান্ড?

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০১৮ বুধবার, ১২:৪০ পিএম
কেমন দেশ ইংল্যান্ড?

সেমিফাইনাল মানেই টানটান উত্তেজনা। দল বেধে রাস্তার মোড়ে মোড়ে খেলা দেখা, তর্ক-বিতর্ক করা, প্রিয় দল জিতলে মিছিল নিয়ে বের হওয়াসহ আরও অনেক কিছু। আজ রাত ১২টায় রয়েছে ক্রোয়েশিয়া-ইংল্যান্ড ম্যাচ। ম্যাচটি দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ফুটবল বিশ্ব। ক্রোয়েশিয়া সম্পর্কে আমরা আগেই বলেছি। ইংল্যান্ড দলটির খেলোয়াড় ও তাদের খেলা সম্পর্কে অনেকেই জানি। কিন্তু ইংল্যান্ড দেশটি সম্পর্কে আমরা কতটুকু? আজ আমরা জানাবো ‘ইংল্যান্ড’ দেশটি কেমন?

ইংল্যান্ড এমন একটি দেশ, যা যুক্তরাজ্যের বৃহৎ অংশ হিসেবে পরিচিত। এর উত্তরে স্কটল্যান্ড, পশ্চিমে ওয়েলস, উত্তর-পশ্চিমে আইরিশ সাগর, দক্ষিণ-পশ্চিমে কেলটিক সাগর অবস্থিত। পূর্বে ইংল্যান্ডকে ইউরোপীয় মহাদেশ থেকে আলাদা করেছে উত্তর সাগর আর দক্ষিণে আলাদা করেছে ইংলিশ চ্যানেল। ইংল্যান্ড দেশটি ব্রিটেনের পাঁচ-অষ্টমাংশ জুড়ে রয়েছে।

ইংল্যান্ডের আয়তন ১ লাখ ৩০ হাজার ২৭৯ বর্গকিলোমিটার। ২০১৬ সালের তথ্যানুযায়ী দেশটির জনসংখ্যা ৫ কোটি ৩০ লাখের অধিক। ইংল্যান্ডের সরকারি ভাষা ইংরেজি এবং এটি তাদের মাতৃ ভাষা। এর বাইরে ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জে আইল অভ ম্যানে মাংক্স ভাষা এবং জার্সি ও গুয়ের্নজিতে ফরাসি ভাষা প্রচলিত। ইংল্যান্ডে অভিবাসী সম্প্রদায়ে শতাধিক অভিবাসী ভাষা প্রচলিত। এদের মধ্যে আছে বাংলা, চীনা, গ্রিক, গুজরাটি, হিন্দি, ইতালীয়, পাঞ্জাবি, পোলীয়, পর্তুগিজ, স্পেনীয়, তুর্কি, ইউক্রেনীয়, উর্দু, ভিয়েতনামি, ইত্যাদি ভাষা। কিছু লোক জিপসি বা রোমানি ভাষাতে কথা বলে।

ইংল্যান্ডের রাজধানী এবং পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম শহর লন্ডন। এটি ইংল্যান্ডের টেমস নদীর তীরে অবস্থিত। প্রায় ৭০ লক্ষ লোকের বসতি এই লন্ডন সপ্তদশ শতক থেকেই ইউরোপে তাঁর প্রথম স্থান বজায় রেখে আসছে। ঊনবিংশ শতাব্দীতে এটিই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর। কারণ তখন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য সকল স্থানই ছিল ব্রিটিশ রাজত্বের অধীন আর লন্ডন ছিল সেই রাজত্বের রাজকীয় ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র। বর্তমান যুগেও লন্ডন পৃথিবীর অন্যতম প্রধান অর্থ-বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে।

আধুনিক যুগের শিল্পকলাতে ইংল্যান্ড সবসময়ই গুরুত্ব পেয়েছে। ইংল্যান্ডের লেখকদের রচিত নাটক, উপন্যাস, গল্প এবং সম্প্রতি চিত্রনাট্য বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। চিত্রশিল্প ও সঙ্গীতের ক্ষেত্রে অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে থাকলেও সাহিত্য সৃষ্টিতে ব্রিটিশরা সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। তবে বিংশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডেও গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী ও সুরকারের দেখা মেলে, যাদের মধ্যে চিত্রশিল্পী ডেভিড হকনি এবং সুরকার স্যার এডওয়ার্ড এলগারের নাম উল্লেখযোগ্য।

ইংল্যান্ড একসময় বিশ্বের প্রধান ও অগ্রগামী অর্থনৈতিক শক্তি ছিল। ১৮ শতকের শেষে ও ১৯ শতকের শুরুতে ইংল্যান্ডেই বিশ্বের প্রথম শিল্প বিপ্লব ঘটে। এর সূত্র ধরে এখানে এমন একটি সমাজ সৃষ্টি হয় যাতে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর প্রাধান্য ছিল বেশি। এটিই ছিল বিশ্বের প্রথম নগরায়িত রাষ্ট্র, যেখানে অর্ধেকেরও বেশি নাগরিক শহরে বাস করেন। দ্রুত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যের সুবাদে ১৯ শতকে রাণী ভিক্টোরিয়ার আমলে ব্রিটেন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশে পরিণত হয়। শিল্প বিপ্লবের আগে ও পরে বহুকাল যাবত লন্ডন ছিল বিশ্বে পুঁজিবাদের মূল কেন্দ্র। দেশটি ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির। লন্ডন এখনো বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোর একটি।

ইংল্যান্ডের প্রধান বিমানসংস্থা ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ৷ যুক্তরাজ্যের পরিবহন ব্যবস্থা উন্নতমানের সড়ক, বিমান, রেল ও নৌপথের নেটওয়ার্ক নিয়ে গঠিত। লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর বিশ্বের ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

২০১১ সালের তথ্যানুযায়ী, ইংল্যান্ডের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ খ্রিষ্টান। কোনো ধর্ম পালন করে না এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় ২৫ শতাংশ। বাকিরা মুসলিম, হিন্দু সম্প্রদায়সহ নানা জাতীগোষ্ঠীর মানুষ।

শিক্ষার ক্ষেত্রে ইংল্যান্ডের বিশ্বজুড়ে সুনাম রয়েছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়ারউইক স্কুল, কিংস কলেজ, লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়, গ্রিনউইচ বিশ্ববিদ্যালয়, লন্ডনের কুইন ম্যারি বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি দেশটির বিখ্যাত সব স্কুল কলেজের নাম। এছাড়া ইংল্যান্ডে অসংখ্য নাম করা স্কুল কলেজ রয়েছে।

ব্রিটিশ মিউজিয়াম লন্ডনে অবস্থিত মানুষের ইতিহাস এবং সাংস্কৃতির একটি জাদুঘর, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাদুঘরগুলোর মধ্যে অন্যতম। বিশ্বের সব অঞ্চলের মানুষের সাংস্কৃতির শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত, প্রায় ১৩ মিলিয়ন নিদর্শন এই জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। তাছাড়া লন্ডন লাইব্রেরি পৃথিবীর বৃহৎ কয়েকটি গ্রন্থগারের মধ্যে একটি। সিনেমার রয়েছে তাদের দীর্ঘ দীনের পদচারণা। এছাড়া দেশটির রয়েছে দীর্ঘ দিনের চর্চিত ইতিহাস ও ঐতিহ্য।

ফুটবল, ক্রিকেট টেনিস, বক্সিং, ব্যাডমিন্টন এই সব ধরনের খেলায় ইংল্যান্ডের রয়েছে আধিপত্য। তবে এখানকার মানুষ ফুটবল খেলাকেই বেশি পছন্দ করেন। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের সুনাম অর্জন করেছে।


বাংলা ইনসাইডার/বিপি