ঢাকা, সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৫ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ভিমরুলির ভাসমান পেয়ারা বাজার

রেজাউল করিম রাজা 
প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০১৮ শুক্রবার, ১০:০৬ এএম
ভিমরুলির ভাসমান পেয়ারা বাজার

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের ঝালকাঠিতে জালের মতো ছড়িয়ে আছে অনেক নদী-নালা ও খাল-বিল। এখানকার প্রধান যোগাযোগ মাধ্যমই হলো জলপথ। হাট, বাজার, স্কুল সবকিছুই নদী-কেন্দ্রিক। তাই এখানে চলাচলের বাহন হিসেবে নৌকা অনেক সাশ্রয়ী ও জনপ্রিয়।        

ঝালকাঠি জেলার বিভিন্ন জায়গায় বর্ষা মৌসুমে বসে নৌকায় ভাসমান বাজার। বর্ষা মৌসুমের প্রায় প্রতিদিন শত শত নৌকার সমাগম ঘটে এসব বাজারে। কোথাও সবজি, মৌসুমি ফল, আবার কোথাও বসে নৌকার বাজার। ঝালকাঠিতে কাছাকাছি তিনটি ভাসমান বাজার হল, ভিমরুলি, আটঘর এবং কুড়িয়ানা বাজার। প্রথম দুটিতে বসে মৌসুমি ফল আর সবজির বাজার এবং অপরটি নৌকার বাজার।  

কাশ্মীরের ডাল লেক কিংবা থাইল্যান্ডে ভাসমান বাজার যারা দেখেছেন, তারা হয়তো অনেকটাই মিল খুঁজে পাবেন ঝালকাঠির এইসব ভাসমান বাজারের সঙ্গে। দুই-একদিনের সময় নিয়ে এসব বাজার বেড়িয়ে আসার এখনই ভালো সময়। বর্ষাকালে ভাসমান এই সব বাজারগুলো জমজমাট হয়ে উঠে। ঝালকাঠিতে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ও বড় ভাসমান বাজারটি হল ভিমরুলির পেয়ারা বাজার। সারা বছর এই বাজার বসলেও বর্ষাকাল ও পেয়ারার মৌসুমে অনেক বেশি জমজমাট হয়ে উঠে।   

ঝালকাঠি, বরিশাল ও পিরোজপুর এলাকায় প্রায় ৩০ হাজার একরের বেশি জমিতে গড়ে উঠেছে পেয়ারা বাগান। পেয়ারা চাষের সঙ্গে প্রায় ২০ হাজার পরিবার জড়িত। তাদের এ পেয়ারা বিক্রির জন্য বিখ্যাত ভিমরুলির ভাসমান পেয়ারা বাজার। ঝালকাঠি জেলা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ভিমরুলি এই ভাসমান বাজারে প্রতিদিনই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে পেয়ারা বেচাকেনা। 

ভিমরুলি পেয়ারা বাজার খালের একটি মোহনায় বসে। তিন দিক থেকে তিনটি খাল এসে মিশেছে এইখানে। চাষীরা প্রতিদিন পেয়ারা বোঝাই শত শত নৌকা নিয়ে ভিমরুলির পেয়ারা বাজারে হাজির হয়। সেই সাথে বড় বড় ইঞ্জিন নৌকা নিয়ে বাজারে আসেন পেয়ারার পাইকারি ক্রেতারা। ছোট ছোট নৌকা থেকে পাইকাররা নৌকা ও মন হিসেবে পেয়ারা কিনে ঢাকা বা দেশের অন্যান্য শহরে বিক্রির জন্য পাঠিয়ে দেন।  

এই বাজারের আকর্ষণীয় দিক হলো, বাজারের উত্তর প্রান্তে খালের উপরের থাকা ছোট একটি সেতু। এই সেতুর উপর থেকে বাজারটি খুব ভালো করে দেখা যায়। ভিমরুলির বাজারের সবচেয়ে ব্যস্ত সময় হলো দুপর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা। এ সময়ে নৌকার সংখ্যা কয়েকশ ছাড়িয়ে যায়।

গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এই পেয়ারা বাজার বিষয়ে লেখালেখি ও প্রচারণার কারণে অনেক বিদেশি পর্যটক বেড়াতে আসেন এই বাজারে। সেই সঙ্গে দেশি পর্যটকতো আছেই। 

 

জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাস হলো পেয়ারার মৌসুম। পেয়ারার মৌসুম শেষ হলে আসে আমড়ার মৌসুম। এ অঞ্চলে আমড়ার চাষও হয় অনেক বেশি। আর সবশেষে আসে সুপারির মৌসুম। তাই ভাসমান এই পেয়ারা বাজারে বেড়াতে হলে এই সময়েয় মধ্যেই করা ভালো।

ঢাকার গাবতলি থেকে বিভিন্ন কোম্পানির এসি ও ননএসি বাস যায় ঝালকাঠির উদ্দেশ্যে। ঢাকার সায়দাবাদ থেকেও ঝালকাঠিতে যাওয়ার বাস পাওয়া যায়। ঝালকাঠি সদর থেকে মোটরবাইকে ভিমরুলির বাজারে যেতে সময় লাগে প্রায় আধাঘণ্টা। আর ইঞ্জিন নৌকায় গেলে সময় লাগে এক ঘণ্টা। ঝালকাঠি লঞ্চঘাট কিংবা কাঠ-পট্টি থেকে ইঞ্জিন নৌকা ভাড়া পাওয়া যায়। এছাড়াও নদীপথে সদরঘাট থেকে ঝালকাঠি যাওয়া যায়।

বাংলা ইনসাইডার/আরকে/জেডএ