ইনসাইড আর্টিকেল

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে একদিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০:০৭ এএম, ০৩ অগাস্ট, ২০১৮


Thumbnail

সমুদ্রের অপার সৌন্দর্য্য যাদেরকে হাতছানি দিয়ে ডাকে, সাগরের বুকে অস্তমিত সূর্যের ম্রিয়মান আলোর রূপ দেখতে যাদের ভাল লাগে, বুক ভরে নিতে চান বিশুদ্ধ বাতাস, তাঁরা অল্পসময়ে স্বল্প খরচে ঘুরে আসতে পারেন পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত থেকে। সাগরের হৃদয় উত্তাল করা ঢেউ আর বাতাস আপনার বুকের ভিতর জমে থাকা কষ্ট ভুলিয়ে দিবে খুব সহজেই।

চট্টগ্রাম শহরের জিরো পয়েন্ট থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত পতেঙ্গা সৈকত। পতেঙ্গা বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র, যা কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত।

পতেঙ্গা সৈকত প্রস্থে খুব বেশি নয় তাই এখানে সমুদ্রে সাঁতার কাটা অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। সমুদ্র সৈকতের ভাঙ্গন ঠেকাতে কংক্রিটের দেয়াল এবং বড় বড় সিমেন্টের তৈরি ব্লক রাখা হয়েছে সৈকতজুড়ে।



সৈকতের আশেপাশে পর্যটকদের জন্য বেশকিছু রেস্টুরেন্ট এবং খাবারের দোকান স্থাপিত হয়েছে। সৈকতে বাতির ব্যবস্থা করায় রাতের বেলা পর্যটকদের নিরাপত্তা অনেকটা নিশ্চিত হয়েছে। পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতটি রক্ষাণাবেক্ষণ করায় সৈকতের সৌন্দর্য এখন আগের থেকে অনেকটা সুন্দর হয়েছে। জোয়ারের সময় ঢেউয়ের আঁচড় নয়নাভিরাম দৃশ্যের অবতারণা করে সৈকতে।  

এখানে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগবে সন্ধ্যার পরিবেশ। সন্ধ্যার দিকে সূর্যাস্তের দৃশ্য যেকোন মানুষের মনকে অনেক বেশি পুলকিত করে। সুতরাং সৈকতে সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকতে পারেন। এখানে ২০ টাকার বিনিময়ে ঘোড়ার পিঠে চড়তে পারবেন আপনি। সেই সাথে আছে স্পিডবোড কিংবা কাঠের তৈরি নৌকাতে করে বেড়ানোর সুযোগ।

শাহ আমানত বিমান বন্দর, বিএনএস ঈশা খান (বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঘাটি) ও চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি খুব কাছাকাছি হওয়ায় আলাদা করে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। সৈকতেই আছে বার্মিজ মার্কেট। এই মার্কেট থেকে পছন্দের ছোটখাট কেনাকাটা সেরে নিতে পারবেন আপনি। 

সৈকতে বেড়াতে এসে যেকোন ধরণের বিপদ কিংবা অভিযোগ করতে পারবেন বন্দরে থাকা ভ্রাম্যমাণ পুলিশ ফাঁড়িতে। স্পীডবোড, নৌকা, ঘোড়ায় চড়ার আগে অবশ্যই ভাড়া ঠিক করে নিবেন। কারণ এখানে প্রায় সবাই ঠকানোর চেষ্টা করে পর্যটকদের। পতেঙ্গা সৈকতের বেশি উত্তর দিকে একা একা হাঁটতে না যাওয়াই ভালো।

ঢাকা থেকে আকাশপথ, সড়কপথ ও রেলপথে যেতে পারবেন চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম শহরের এ কে খান কিংবা জিইসি থেকে খুব সহজে যেতে পারেন পতেঙ্গা সৈকতে। সি-বিচ লেখা বাসগুলোতে চেপে বসলেই হবে।  

বাংলাইনসাইডার/আরকে/জেডএ  

 



মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

দেশে দেশে 'ব্লাকআউট'

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ০৬ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail দেশে দেশে 'ব্লাকআউট'

গত মঙ্গলবার (৪ঠা অক্টবর)  সারা দেশে একটি বড় ধরণের বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটে। দুপুর ২টা থেকে শুরু হওয়া এই বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ফলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লার বেশিরভাগ এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পরে। সেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়াকে ব্ল্যাকআউট বলা হয়ে থাকে। একে ব্লাকআউট বলা হয় কারণ এর ফলে সারা দেশে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয় বলে। ব্লাকআউট হয়  সাধারণত ফ্রিকোয়েন্সি গরমিলের কারণে। বিদ্যুৎ যে তরঙ্গে প্রবাহিত হয়, কোনও কারণে এর হেরফের হলে এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই ধরণের ঘটনা খুব দ্রুতই ঘটে যেতে পারে। যেমন মিলি সেকেন্ডের মধ্যেই এই  ধরনের ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে,  যদি কোনও বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে এর দশ ভাগ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে গ্রিড ট্রিপ (বিপর্যয়) করার মতো ঘটনা ঘটে থাকে। বাংলাদেশে ৫০ মেগা হার্টজ তরঙ্গে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। কোনও কারণে এই তরঙ্গ যদি ৪৮-এ নেমে আসে বা ৫২-তে উঠে যায়, তাহলেই ট্রিপের ঘটনা ঘটতে পারে। এর আগে ২০১৪ সালে যখন বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছিল তখন ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের সরবরাহ ব্যবস্থা কয়েক মিলি সেকেন্ডের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এতে জাতীয় গ্রিড ট্রিপ করে। একবার গ্রিডে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আপনা আপনি বন্ধ হয়ে যায়। বড় বিপর্যয় ঠেকাতে কেন্দ্রগুলোতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ ধরনের প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাকে। বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হলে কারিগরি কারণে সেটি চালু হতে সময় লাগে। ফলে চাইলেই সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায় না।

 ব্লাক আউট কোন দেশের জন্যই কাম্য নয়। কারণ ব্লাকআউট হলে দেশের মানুষের ভোগান্তিতে পরতে হয়, চিকিৎসা ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়, ব্যংক লেনদেনের মত গুরুত্বপূর্ণ অনেক ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পরে। যা একটি দেশের সার্বিক নানা বিষয়ের জন্য অসুবিধার, ভোগান্তির এবং ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।শুধুমাত্র আমাদের দেশই নয়, অনেক সময় অনেক দেশই এমন  ব্লাকআউটের মত পরিস্থিতে পরেছিল এর আগে। আজ আমরা তেমন কয়েকটি দেশের ব্লাকআউট সম্পর্কে জেনে নেই। প্রথমেই শুরু করা যাক আমাদের পাশের দেশ ভারতকে দিয়ে। ভারত সব থেকে বড় দুইটি ব্লাকআউট দেখেছে।


ভারত  ব্ল্যাকআউটঃ

২০১২  সালের ৩০ এবং ৩১ জুলাই ভারতের দুটি মারাত্মক বিদ্যুৎ বিভ্রাট উত্তর ও পূর্ব ভারতের বেশিরভাগ অংশে সমস্যার সৃষ্টি করেছিল। ২০১২ সালের  ৩০সে  জুলাই  ৪০০  মিলিয়নেরও বেশি মানুষকে সমস্যার মুখে  ফেলেছিল। ভারতের এই বিদ্যুৎ বিভ্রান্তিকে  ইতিহাসে বৃহত্তম বিদ্যুৎ বিভ্রাট বলা হয়। ভারতের এই ব্লাকআউটটি ভারতে হওয়া  ২০০১  সালের জানুয়ারী মাসের আরেকটি ব্ল্যাকআউটের থেকেও অনেক্ষন স্থায়ী ছিল।এই ব্লাকআউটে প্রায় ২২ টি রাজ্যের মানুষ অন্ধকারে নিমজ্বিত হয়। আর সব থেকে ভয়াবহ বিষয় যেটা ছিল সেটি হল এ সময় পশ্চিমবজ্ঞের খনির নিচের লিফট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শত শত খনি শ্রমিক মাটির নিচে আটকা পরেছিল। আনুমানিক 32 গিগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা অফলাইনে হওয়ায় এই ব্লাকআউটটি হয়েছিল। ১ লা আগষ্ট বিদ্যুতের পুনরুদ্ধার করা হয়।


শ্রীলঙ্কা ব্ল্যাকআউটঃ

 ২০২০  সালের ১৭ ই আগস্ট শ্রীলঙ্কায় যে  ব্ল্যাকআউট ঘটে, তাকে বলা যেতে পারে বৈদ্যুতিক ব্ল্যাকআউটগুলির একটি সিরিজ। কারণ  রাত সাড়ে ১২ টা থেকে শুরু হওয়া বিদ্যুৎ বিপর্যয়টি  সাত ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হয়েছিল৷  এই বিপর্যয়টি ঘটেছিল কেরাওয়ালপিটিয়া গ্রিড-সাব স্টেশনে একটি ট্রান্সমিশন প্রযুক্তিগত ব্যর্থতার কারণে। সে সময় শ্রীলঙ্কার  ইলেকট্রিসিটি বোর্ড ঘোষণা করেছিল যে ব্ল্যাকআউটের কারণ তারা নির্ধারণ করতে পারেনি, যা পরে তাদের একটি অনির্দিষ্ট ব্যর্থতা হিসাবে বর্ণনা করা হয়। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল  যে ব্ল্যাকআউটের মূল কারণ অনুসন্ধানের জন্য একটি বিশেষ কমিটি নিয়োগ করা হয়েছিল।


পাকিস্থান ব্লাকআউটঃ

২০২১ সালে বড় ধরনের ব্ল্যাকআউটের কবলে পরেছিল পাকিস্তান। এই বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে বড় শহরগুলোসহ পুরো দেশ অন্ধকারে ঢেকে যায়। ব্লাকআউটের  বিষয়টি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায় করাচি, লাহোর, ইসলামাবাদ, মুলতানের মতো বড় বড় শহরের পাশাপাশি অন্যান্য শহরের বাসিন্দারা। এর কয়েক ঘণ্টা পরই ব্লাকআউটের কথা জানিয়ে টুইট করেন দেশটির বিদ্যুৎমন্ত্রী ওমর আইয়ুব খান।  জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহের মাত্রা হঠাৎ করেই ৫০ থেকে শূন্যতে নেমে আসায় এই ব্ল্যাকআউট হয়েছিল  বলে সে সময় পাকিস্তানের বিদ্যুৎমন্ত্রী জানিয়েছিলেন। এর আগে ২০১৫ সালে বড় ধরনের ব্লাকআউটের কবলে পড়েছিল পাকিস্তান। ওই সময়ে গোটা দেশের ৮০ শতাংশ এলাকা অন্ধকারে ডুবে গিয়েছিল।



তুরস্ক ব্ল্যাকআউটঃ 

২০১৫ সালে তুরস্ক ব্ল্যাকআউট ছিল একটি ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট। ৩১শে মার্চ ২০১৫  সালের মঙ্গলবার সকালে তুরস্কের প্রায় সমস্ত অংশে এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটেছিল। প্রধান পূর্ব-পশ্চিম করিডোরে লাইন রক্ষণাবেক্ষণের কারণে ওসমানকা-কুরসুনলু লাইন ছিটকে যাওয়ার পরে অবশিষ্ট লাইনগুলি ওভারলোড হয়ে যায়, কারণ সিস্টেমটি এন-1 সুরক্ষিত ছিল না। এই কারণেই এই গোলযোগের প্রভাব শুধুমাত্র তুরস্কেই নয় বরং প্রতিবেশি দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পরেছিল। ব্ল্যাকআউটের ৬.৫  ঘন্টা পরে পুরো সিস্টেমটি পুনরূদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল।


ব্রাজিল এবং প্যারাগুয়ে ব্ল্যাকআউটঃ

২০০৯ সালে  প্যারাগুয়ে-ব্রাজিল সীমান্তে ইতাপিউ জলবিদ্যুৎ বাঁধটি হঠাৎ করে ১৭,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করে দিলে, বিভ্রাট দ্রুত উভয় দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ধারণা করা হয় এই ব্লাকআউটটি করা হয়েছিল হ্যাকারের মাধ্যমে।

থাইল্যান্ড  ব্ল্যাকআউটঃ

১৯৭৮ সালের ১৮ই মার্চ থাইল্যান্ডে এই ব্লাকআউটটি হয়। থাইল্যান্ডের বিদ্যুৎ  পাওয়ার প্ল্যান্টের জেনারেটর ব্যর্থ হলে, থাইল্যান্ড জুড়ে দেশব্যাপী ব্ল্যাকআউটের শিকার হয়। কর্তৃপক্ষ এই  বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধার করতে নয় ঘণ্টারও বেশি সময় লাগায় । এরপর  ২০১৩ সালের মে মাসে থাইল্যান্ড আরও একটি ব্লাকআউট দেখে যা ৭৮ সালের সেই বিশাল ব্লাকআউটের কথা তাদের আবার মনে করিয়ে দেয়। 

উত্তরপূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা ব্ল্যাকআউটঃ

২০০৩ সালে একটি উচ্চ-ভোল্টেজ পাওয়ার লাইনের উপর একটি বৃদ্ধ গাছ ভেজ্ঞে পরলে সিস্টেম অপারেটররা  কি ঘটেছে তা বের করার চেষ্টা করতে করতে প্রথম লাইনের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যর্থতার ফলে অন্য তিনটি লাইন বন্ধ হয়ে যায়।  ফলে বিকেল ৪ টা নাগাদ দক্ষিণ-পূর্ব কানাডা এবং আটটি উত্তর-পূর্ব আমেরিকার রাজ্য বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পরে। আর এটি ছিল সব থেকে বড় ব্লাকআউটের ঘটনা।এর ফলে ৫০ মিলিয়ন মানুষ দুই দিন অসুবিধা ভোগ করে এবং ১১ জন মানুষ মারা যায়। এই ঘটনার পর ভবিষ্যতে যাতে  ব্ল্যাকআউট কমানো যায় তার  জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার মধ্যে একটি যৌথ টাস্ক ফোর্স গঠন করতে সাহায্য করে।

বিদ্যুৎ বিপর্যয়   ব্লাকআউট  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে 'তাল গাছ'

প্রকাশ: ১১:৫২ এএম, ০৪ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে 'তাল গাছ'

কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষাকারী তাল গাছ। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার, বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বন ও পরিবেশ রক্ষা ছাড়াও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার তাল গাছ রোপণ করছেন। অপরদিকে বিভিন্ন এলাকায় তালগাছ কাটছেন করাতকলের মালিক ও কাঠ ব্যবসায়ীরা। এক শ্রেণির মানুষ কাটার মহোৎসবে মেতে উঠেছে। নানা কারণ দেখিয়ে রাস্তার পাশের ও ব্যক্তি মালিকানাধীন তাল গাছ কেটে বিভিন্ন করাতকলে বিক্রি করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তাল ও নারিকেল গাছ দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও বজ্রপাত প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য রক্ষা ও শোভাবর্ধনেও তাল ও নারিকেল গাছের জুড়ি মেলে না। একটা সময় বিভিন্ন সড়ক ও মহা-সড়কের পাশে সারি-সারি তাল গাছ শোভা পেতে দেখা গেছে।

এখনও দু'একটা তাল গাছ গ্রাম-গঞ্জের ঝোপ-ঝাড়ে দেখা গেলেও তা রক্ষায় নেই তেমন কোনো উদ্যোগ। অতীতে অ-পরিচিত মানুষের বাড়ি, জমি, পুকুর, মাঠ, মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল, কলেজসহ বিভিন্ন স্থান দেখানোর জন্য বলা হতো উঁচু ওই তাল গাছটার পাশে। এমনকি সরকারি বা বেসরকারিভাবে নানাদিক নির্দেশনার ক্ষেত্রেও তাল গাছের সহায়তা নেয়া হত।

তালের পিঠা, তালের গুড়, তালের রস, সব মানুষের খুব মজাদার খাবার। বিশেষ করে অতীত সময়গুলোতে গ্রাম-বাংলায় তালের পিঠা ছাড়া আত্মীয়তা কল্পনাই করা যেত না। এছাড়া তাল গাছের পাতা দিয়ে তৈরি হয় নানা রকমের হাত পাখাও। ক্রমশই তাল গাছ হারিয়ে যাওয়ায় গ্রামীণ পরিবারগুলোতে নেই সেই তালের পিঠার অস্তিত্ব।

স্থানীয়রা কৃষকরা বলেন, যেভাবে তাল গাছ কাটা হচ্ছে, সেভাবে তালগাছ রোপণ করা হচ্ছে না। বিভিন্ন গ্রাম থেকে তাল ও নারিকেল গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে করাতকলে। পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সুরক্ষার্থে জরুরি ভিত্তিতে তাল গাছ রোপণের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা। 

গ্রামবাংলার অধিকাংশ বাড়ি, রাস্তা ও মাঠে এক সময় প্রচুর পরিমাণ তালগাছ দেখা যেত। তবে কালের পরিক্রমায় আজ হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী তালগাছ। তবে এখন আর তেমন দেখা মেলে না তালগাছ। বাবুই পাখির বাসার হাজার হাজার বাবুই পাখির কইছির-মিচির ডাকের মনোরম দৃশ্যও চোখে পড়ে না আর। 

তাই বর্তমানে দূর থেকে ঐ দেখা যায় তাল গাছ, ঐ আমাদের গাঁ, খান মুহাম্মদ মইনুদ্দীনের সেই দৃশ্য আর দেখা যায় না। এই দৃশ্য এখন কল্পনাতেই রয়ে গেছে।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

কালের গর্ভে বিলীন ঐতিহ্যের "মুন্সিবাড়ি"

প্রকাশ: ০৯:৫০ এএম, ০৩ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail কালের গর্ভে বিলীন ঐতিহ্যের "মুন্সিবাড়ি"

অবহেলা-অযত্ন ও স্বার্থপরতায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, একমাত্র ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী বিখ্যাত মুন্সীবাড়ি। হারিয়ে যাচ্ছে প্রায় ৪০০ বছরের অতীত ঐতিহ্য ও মহাকালের সাক্ষী। কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার ধরণীবাড়ি ইউনিয়নে কালের সাক্ষী হয়ে আছে এই রাজবাড়িটি, যা সকলের কাছে ‘মুন্সিবাড়ী’ নামে খ্যাত। 

কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় স্থান উলিপুরের মুন্সীবাড়ি। ৩৯ একর আয়তন জুড়ে সব মিলিয়ে এর অস্তিত্ব রয়েছে চোখে পড়ার মত। চোখ ধাঁধানো বাড়িটির ভবনের ভেতরে ও বাইরে অপরূপ কারুকার্য ও স্থাপত্য শৈলী। মোঘল স্থাপত্য শৈলীর সঙ্গে ব্রিটিশরীতির আদলে এটি নির্মিত। প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শন সম্পর্কে নানা উপাখ্যান ও লোকগাথা প্রচলিত আছে।

জানা যায়, তৎকালীন সময়ে কাসিম বাজার এস্টেটের সপ্তম জমিদার ছিলেন কৃষ্ণনাথ নন্দী। জমিদার কৃষ্ণনাথ নন্দী এক খুনের মামলায় আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর বিষয়কে নিজের জন্য অবমাননাকর ও আত্ম-মর্যাদাহীন মনে করে বিগত ১৮৪৪ সালের ৩১ অক্টোবর নিজ বাসভবনে আত্মহত্যা করেন। এরপর তার স্ত্রী মহারানী স্বর্ণময়ী কাসিমবাজার এস্টেটের জমিদার হন। স্বর্ণময়ী ছিলেন একজন শিক্ষানুরাগী ও প্রজাদরদী জমিদার। তার অধীনে মুনসেফের চাকরি করতেন বিনোদী লাল। বিনোদী লাল বার্ষিক ১'শত টাকায় ধরণীবাড়ি এস্টেটের জোতদারী ভোগ করতেন। 

কথিত আছে,বিনোদী লাল মুন্সি একদিন পশু শিকার করতে হাতির পিঠে চড়ে বের হন । এক স্থানে তিনি দেখতে পান ব্যাঙ ১টি সাপ ধরে খাচ্ছে। ঐ সময় প্রচলিত ছিলো যে ব্যাঙ যে স্থানে সাপকে ধরে খায়,সেই স্থানে বাড়ী করলে অনেক ধন-সম্পত্তির মালিক হওয়া যায়। বিনোদী লাল তাই ভেবে সেখানে বাড়ি করার মনস্থির করেন। ফিরে গিয়ে তিনি মহারানী স্বনর্ময়ীর কাছে অনুমতি নিয়ে বাড়ি নির্মাণ করেন ধরণীবাড়িতে। এরপর বিনোদী লালের মৃত্যু হলে সেখানে বসবাস করতে শুরু করেন তার পালিত পুত্র ব্রজেন্দ্রলাল মুন্সী। 

বর্তমান কালের সাক্ষী হয়ে যে অট্টালিকাটি দাঁড়িয়ে আছে ১৮ শতকে সেটি তৈরি করেন বিনোদি লালের পালক পুত্র শ্রী ব্রজেন্দ্রলাল মুন্সী। ব্রজেন্দ্রলাল মুন্সী ১৯৬০ সালে মারা যান। তার কোনো পুত্র সন্তান ছিল না।

ব্রজেন্দ্রলাল মুন্সীর স্ত্রী আশলতা মুন্সীর বিহারীলাল নামে এক পালক পুত্র ছিল। বিহারীলাল ছিলেন ভবঘুরে, মাতাল এবং নির্লোভ ব্যক্তি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাইফুল হক তৎকালীন একটি এনজিও অফিসে চাকরিসূত্রে এখানে থাকতেন। এলাকার কয়েকজন বয়স্ক মানুষের কাছ থেকে জানা যায়, তিনি বিহারীলালের কাছ থেকে বাড়িটি কিনে নেন। সাইফুল পক্ষের দাবি তারা বাড়িটি কিনে নিয়েছেন।

ব্রজেন্দ্রলাল মুন্সি বিহারীলালকে পালক পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেননি, গ্রহণ করেছিলেন আশলতা। তাছাড়া ব্রজেন্দ্রলাল মুন্সী তার সমস্ত সম্পত্তি স্ত্রীকে দেননি। তার স্ত্রী শুধু প্রশাসনের বিশেষ অনুমতি নিয়ে সম্পত্তির অংশ থেকে দান-খয়রাত, পূজা-অর্চনা ও বিভিন্ন উন্নয়নে ব্যয় করতে পারবেন। এভাবে উইল করে দিয়েছিলেন ব্রচেন্দ্রলাল মুন্সী। যেখানে সম্পত্তি বিক্রি করা আশলতার অধিকার ছিল না সেখানে তার পালকপুত্র পাওয়া প্রশ্নই ওঠে না। এরপর সরকার ও সাইফুল পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন মামলা চলার পর চলতি বছর সেই মামলার রায় হয়েছে মাত্র।

জন্মলগ্নে ৩৯ একর আয়তনের জায়গা থাকলেও, কালের বিবর্তনে এখন তার এক-তৃতীয়াংশও নেই। বর্তমানে বাড়িটির একটি কক্ষে ভূমি অফিস, আর একটিতে আছে অনেক পুরনো ভূমি-সংক্রান্ত ফাইলপত্র। বাকি কক্ষগুলো পরিত্যক্ত পড়ে আছে। সংস্কারের অভাবে একটু বৃষ্টি হলেই পানিতে ভিজে যায় কক্ষের ভেতরের অংশ। ছাদের পানি পড়ার জন্য বাঘের মুখ ছিল একসময়, তা আজ প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় পাওয়া যায়। কারুকার্যখচিত দেয়াল আজ সংস্কারের অভাবে চাপা পড়ছে শেওলার নিচে। ভেতরে জঙ্গলে ভরা। যাতে শোভা পায় বড় বড় গেছো শামুক।

এলাকাবাসীর দাবি, বাড়িটিকে সংস্কার করে ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে সংরক্ষণ করে এক দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে তোলা হোক।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

প্রকৃতির স্বর্গরাজ্য বরিশালের কাশবন

প্রকাশ: ০৮:৫৯ এএম, ০৩ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail প্রকৃতির স্বর্গরাজ্য বরিশালের কাশবন

চিরল পাতার শুভ্র কাশফুলের সমাহার বরিশাল। বরিশাল নগরীর শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত স্টেডিয়াম এর কাছে এবং ত্রিশ গোডাউন এবং দোয়ারিকা ও খয়রাবাদ সেতুর ঢালে ও সদর উপজেলা চরবাড়িয়ার ইউনিয়নের তালতলী ব্রিজ এর ঢালে দিগন্তজুড়ে ফুটে আছে সারি সারি শুভ্র কাশফুল। চোখে পড়বে এই দৃশ্য। করোনার প্রকোপ কাটিয়ে চিত্ত বিনোদনের জন্য কাশফুলের সাথে মিতালী করতে যান তারা। সেলফি আর পরিবার-স্বজন নিয়ে ছবি তুলে তারা মনের খোরাক যোগান। শরৎ কালে কাশফুল ঘিরে পর্যটকদের আনাগোনা হয় এসব স্থানে শরতের এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে সেখানে ভিড় করেন বরিশাল ও এর নিকটবর্তী এলাকার অসংখ্য মানুষ। বর্তমান পরিস্থিতিতে হাঁপিয়ে ওঠা মানুষের কাছে এ কাশবন যেন একরাশ আনন্দ আর সাময়িক মুক্তির বারতা। এখানে তাকালেই দেখা যাবে নীল আকাশের নিচে বাতাসে দোল খায় সাদা কাশফুল। সেই কাশবন যেন হয়ে উঠেছে শিল্পীর তুলিতে আঁকা কোনো ছবি! তাই তো অনেকেই ছুটছেন সেখানে বিনোদন পেতে। নতুন এ বিনোদন স্পটে দর্শনার্থীরা কাশফুলের সাথে মিলেমিশে একাকার হচ্ছেন। ক্যামেরা বা মুঠোফোনে ছবি তোলায় মেতে ওঠেন। আবার অনেক শর্ট ফিল্ম প্রযোজকরা আসেন শর্ট ফিল্ম নির্মাণ করতে। শরতের এ সময়টাতে সাদা আর সবুজের সাথে একাত্ম হয়ে ছুটে বেড়ায় কোমলমতি শিশু থেকে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও বৃদ্ধরা। শরতের বিকেলে রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি উপেক্ষা করে যান্ত্রিক পরিবেশকে পেছনে ফেলে প্রকৃতির কাছ থেকে একটু প্রশান্তি পেতে প্রায়ই কাশবনে ছুটে আসেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। এখানকার কাশবন যে কারো মনকে উদ্বেলিত করে। বরিশাল সদর উপজেলা চরবাড়িয়ার ইউনিয়ন তালতলীর ব্রিজ এর কীর্তনখোলা নদীর তীর সংলগ্ন এ কাশবনের ভেতরে ঢুকলেই চারদিকে কাশফুল, নদীর ধারে শরীর-মন জুড়িয়ে দেওয়া বাতাস। তাই দুপুরের তীব্র রোদ উপেক্ষা করে কাশবনে বসে কেউ গল্প করছেন। আবার কেউ নিজের ছবি তুলছেন। আর পড়ন্ত বিকেলের কথা তো বলেই শেষ করা যায় না। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়। 

বরিশাল সদর উপজেলা চরবাড়িয়া তালতলী ব্রিজ এর কাছে কাশফুলের দর্শনার্থী মারিয়া ইসলাম মিম বলেন, বেশকিছু  কারণে দীর্ঘদিন গৃহবন্দি ছিলাম।কাশফুলের বাগানে বেড়াতে এসে ভালোই লাগছে । নিজের মতো করে প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাওয়ার জন্য এখানে বেড়াতে এসেছি। বরিশাল স্টেডিয়ামের কাশফুল ঘিরে শেষ বিকেলে চোখে পড়ে নতুন প্রজন্মের মডেলিং। স্টেডিয়ামে কাশফুলের সাথে মিতালী করতে যাওয়া সাদিয়া জাহান, সানজু, ইশরাত জাহান ইভা বলেন, কাশফুলের দোলাচল প্রকৃতিপ্রেমী যে কারোর মনে ক্ষণিকের জন্য হলেও প্রশান্তি জোগাবে। মনের প্রশান্তির জন্যই স্টেডিয়ামে বেড়াতে এসেছেন তারা। বরিশাল কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা সরকারি বরিশাল কলেজের ছাত্রী আফরোজা আখি বলেন, শরৎ মনে জাগিয়ে দেয় কাশফুল, স্বচ্ছ নীল আকাশে সাদা মেঘ আর দিগন্ত বিস্তৃত সবুজের কথা।কাশফুলের গন্ধ নেই, কাশফুল প্রিয়জনের জন্য উপহার হিসেবে দেয়ার ফুলও নয়। তবে কাশফুলের মধ্যে রয়েছে রোমাঞ্চকর উন্মাদনা। যা দেখে মন ভালো হয়ে যায়। কাশফুলের এই শুভ্রতা এবং স্নিগ্ধতা ছুঁয়ে যাক প্রতিটি হৃদয়। বরিশালের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাহিদুর ইসলাম তালুকদার বলেন, আগে পথে প্রান্তরে যেখানে সেখানে দেখা মিলত কাশফুলের। কিন্তু মানুষ বাড়ছে। বর্ধিত মানুষের খাদ্যের জোগান দিতে পতিত জমিও চলে যাচ্ছে চাষের আওতায়। পতিত জমি না থাকায় হারিয়ে যাচ্ছে কাশবন আর কাশফুল। গ্রামাঞ্চলে অপরিকল্পিত দালানকোঠা, নদী ভাঙ্গন ও কৃষি চাহিদায় কাশফুল হারিয়ে যেতে বসছে আবহাওয়াজনিত কারণে অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে শরৎকালে কাশফুলের তেমন দেখা মিলছে না।

প্রকৃতিপ্রেমী জারাও স্বর্ণা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাশবনে ঘুরতে গিয়ে নিজের অনুভূতির থেকে জানান, সাদা আর সবুজের মিলনমেলার পাশ দিয়ে বয়ে চলা কীর্তনখোলা নদীর তীরে ঘুরে বেড়ানোর অনুভূতিই অন্যরকম। সাদা মেঘের সঙ্গে এ কাশফুলের সাদা রং মনকেও সাদা করে দেয়। শরৎ কাশবনকে অপরূপ সাজে সাজিয়েছে। কাশবনকে উদ্দেশ্য করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাত ফেরদৌসী বলেন, আজকের এই তথ্য প্রযুক্তির যুগে মানুষ খুব একা হয়ে পড়ছে। যার প্রভাব পড়ছে তার সামাজিক ও মানসিক জীবনে। মানুষ কে প্রকৃতির কাছে যেতে হবে মনকে সজীব রাখতে হবে। তাহলেই আমরা সকল বাধা ভেদ করে এগিয়ে যেতে পারবো সুন্দর আগামীর পানে। তার জন্য এই কাশবন অগনেকটাই পরিবেশ বান্ধব। আপনি যদি প্রকৃতিপ্রেমী হয়ে থাকেন, বরিশাল আসলে একবার হলেও এই স্বর্গরাজ্যে আসার নিমন্ত্রন রইলো।

ঋতুর রাণী শরতের সবচেয়ে বড় অনুষঙ্গ কাশফুল। আর কাশফুলের অপরূপ সৌন্দর্য পুলকিত করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। শরতের মেঘহীন নীল আকাশে গুচ্ছ সাদা মেঘের ভেলা কেড়ে নেয়, প্রকৃতিপ্রেমীদের মন। আকাশে শুভ্র মেঘের ভেলা আর তার নিচে কাশফুলেরীয় নাচানাচি-অজান্তেই মানুষের মনে। নির্মল আনন্দ ছড়িয়ে দেয়। তবে আকাশে ধবধবে সাদা মেঘের শতদল আর মাটিতে মৃদু বাতাসে দোল খাওয়া কাশফুল যে চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য ছড়ায় তাতে থাকে শুধুই মুগ্ধতা। 

কালের আবর্তে শরতকালের সেই চিরচেনা দৃশ্য এখন আর তেমনটি চোখে পরে না। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রয়োজনের তাগিদে মানুষ কাশবন কেটে কৃষি জমি সম্প্রসারণসহ আবাসিক এলাকা গড়ে তুলছে। এতে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতিকে অপরূপ শোভাদানকারী কাশফুল। সাহিত্যে কাশফুলের কথা এসেছে নানাভাবে। রবীন্দ্রনাথ প্রাচীন গ্রন্থ ‘কুশজাতক’ কাহিনী অবলম্বন করে ‘শাপমোচন’ নৃত্যনাট্য রচনা করেছেন। কাশফুল মনের কালিমা দূর করে, শুভ্রতা অর্থে ভয় দূর করে শান্তির বার্তা বয়ে আনে। শুভকাজে কাশফুলের পাতা বা ফুল ব্যবহার করা হয়। 

বাংলাদেশের সব অঞ্চলেই কাশফুল দেখতে পাওয়া যায়। কাশফুল পালকের মতো নরম এবং ধবদবে সাদা। গাছটির চিরল পাতার দুই পাশ খুবই ধারালো। তিনি আরও বলেন, কাশফুলের বেশকিছু ওষুধি গুণ রয়েছে। যেমন-পিত্তথলিতে পাথর হলে নিয়মিত গাছের মূলসহ অন্যান্য উপাদান দিয়ে ওষুধ তৈরি করে পান করলে পিত্তথলির পাথর দূর হয়। কাশমূল বেটে চন্দনের মতো নিয়মিত গায়ে মাখলে দুর্গন্ধ দূর হয়। কাশফুলের অন্য একটি প্রজাতির নাম কুশ। এরা দেখতে প্রায় কাশফুলের মতোই। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ‘পুরাণ’-এ কুশের স্থান খুব উঁচুতে। চর্মজাতীয় রোগের চিকিৎসায়ও কাশফুল বেশ উপকারী বলেও তিনি জানান। প্রকৃতির অপরূপ এই সৌন্দর্য উপভোগ করছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা জানান, নীল আকাশের নীচে সাদা কাশবন প্রকৃতিকে সাজিয়ে তুলেছে অপরূপ ভাবে। মনকে প্রফুল্ল রাখতে জীবনের শতব্যস্ততার মাঝেও শরৎ আসলেই নীল-সাদার এই অপরূপ সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে বারবার মন ছুটে যায় কাশবনে। 

শরতের কাশফুল নিয়ে কবিতা, গান, গল্পের শেষ নেই। কবি শাহনাজ রুবির ভাষায়, এই মধুরিমা গোধূলি আমায় দাওনা! তোমার অপরূপ শ্যামশ্রী অনির্বাচনীয়, আমার উদাসী মনে ধূলি মলিন বিবর্ণতার অবসান হয়েছে, দাঁড়িয়েছি কাশবনে। আমিতো তাকিয়ে দেখি বিচিত্র পুষ্প বিকাশের লগ্নকালের পথ চেয়ে, কখন ফুটবে তোমরা বন বনানীর স্নেহময় ছায়ায়, চাতকের মতো দীর্ঘ তৃষ্ণায় নিবৃত্তি হবেনা। আমিতো বঙ্গ প্রকৃতিতে হৃদয়ের দ্বার খুলে বসে আছি, আমি এক বাংলার মেয়ে বলছি, ফুটে যাও, ফুটে যাও। সজল দিগন্তের ভেসে চলা বলাকার সারিরা আমায় বার বার স্মরণ করিয়ে দেয়, নীল এবার ঘরে ফিরে যাও। ঘরে ফিরে যাও, সন্ধ্যা রানী এলো বুঝি ঘনিয়ে, এবার ফিরে চলো।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

এলিট সমাজের প্রবীণ জনগোষ্ঠী, ন্যায়ানুগ দৃষ্টি আছে কি?

প্রকাশ: ১১:০৭ এএম, ০১ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail এলিট সমাজের প্রবীণ জনগোষ্ঠী, ন্যায়ানুগ দৃষ্টি আছে কি?

সমাজে একক পরিবার বাড়ছে। অনেক সময়ই আমরা দেখি কাজের সূত্রে আমরা শহরে পাড়ি জমালেও বাবা মা থেকে যাচ্ছেন গ্রামেই। আবার কখনো কখনো যদিও বা তারা আমাদের সাথেই থেকে যান, কাজের চাপে, প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততায় আমরা ভুলে যাই আমাদের পাশের ঘরে থাকা প্রবীণ ব্যক্তিটির কথা। তারাও যে আমাদের কাছে সময় চান, একটু কথা বলার সঙ্গী চান, আমরা ভুলে যাই।

আজ বিশ্ব প্রবীণ দিবস। সার্চ ইঞ্জিনে পাওয়া তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশের ৬০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সীর সংখ্যা সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১ কোটি ৫৩ লাখ ২৬ হাজার ৭১৯ জন, যা বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ। প্রতিবছর বাংলাদেশের জনসংখ্যায় নতুন করে যোগ হচ্ছেন ৮৫ হাজার নতুন প্রবীণ ব্যক্তি। ধারণা করা হয় যে, এক সময় বাংলাদেশে একদিন শিশুর থেকে প্রবীণদের সংখ্যাই বৃদ্ধি পাবে। ২০৫০ সাল নাগাদ দেশে প্রবীণের সংখ্যা পৌঁছাবে ৪ কোটিতে। এ তো গেল প্রবীণ জনসংখ্যার হিসাব, এখন বলি একক পরিবারের হিসাব। চলতি বছরের বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর তথ্য মতে বাংলাদেশে পরিবারের সংখ্যা ৪ কোটি ১০ লাখ ১০ হাজার ৫১ জন এবং পরিবারের গড় আকার চার জন। এতেই বোঝা যায় বাংলাদেশে পরিবারের আকার ছোট হচ্ছে। একই চিত্র রাজধানীর বাইরের শহরগুলোতেও, রাজশাহীতে পরিবারের আকার ৩ দশমিক ০৮ জন, রংপুরে ৩ দশমিক ০৯, খুলনায় ৩ দশমিক ০৯, বরিশালে ৪ দশমিক ০১, চট্টগ্রামে ৪ দশমিক ০৪, এবং ময়মনসিংহে এর আকার ৪ জন।

উপরের পরিসংখ্যান দেখে এটা স্পষ্টতই যে বাংলাদেশে একক পরিবার বাড়ছে। আর এই একক পরিবারগুলোতে কতজন প্রবীণ বসবাস করে কিংবা আদৌ তারা থাকে কিনা তা বোঝার উপায় খুব কম। আর তথ্য মতে সরকারি বেসরকারি মিলে বাংলাদেশে বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা রয়েছে ৩২ টির মত। আর এই বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা দেখেই অনুমান করা যায় এদেশের একক পরিবার চিত্রে আসলেই প্রবীণ ব্যক্তিরা স্থান পান কিনা।

প্রবীণদের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি কখনোই ন্যায়ানুগ নয়। তাই এখনো টিভি বা পত্রিকা খুললে দেখা যায় রাস্তার পাশে নিজ সন্তান তার প্রবীণ পিতাকে কিংবা মাতাকে ফেলে রেখে গেছেন। এই তো চলতি মাসের ৪ই সেপ্টেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক একেএম গালিভ খাঁন সন্তানের ফেলে যাওয়া বৃদ্ধ মাকে সাহায্য করতে গিয়ে পত্রিকার শিরোনাম হলেন, উল্লেখ্য তার কিছুদিন আগেই ছেলের বউয়ের সাথে বনিবনা না হওয়ায় মা মর্জিয়া বেগমকে রাস্তার পাশের একটি পরিত্যক্ত জায়গায় ফেলে গেলে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে। এ তো শুধু মর্জিয়া বেগমের ছোট্ট একটি গল্প, এমন গল্পে ভরে আছে আমাদের চারপাশ।

কথায় আছে মানুষ প্রবীণ হলে শিশুর মত হয়। আসলেই তা ঘটেও। তাই প্রবীণ ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য ও উদাসীন দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের বদল করা উচিৎ। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হওয়া উচিৎ সেবা পরিচর্যার। পরিবারের প্রবীণ সদস্যকে অক্ষম, অসুস্থ, দুর্বল, পরনির্ভরশীল, বোঝা, উটকো ঝামেলা, বাচাল,না ভেবে আমাদের সকলের উচিৎ তাদের প্রতি আলাদা সেবার দৃষ্টি দেয়া। যারা আমাদের ছোট শিশু থেকে লালন পালন করল আমাদের উচিৎ তাদের শেষ বয়সে শিশুর মত করেই পালন করা। প্রশাসনেরও উচিৎ এদেশকে প্রবীণবান্ধব করে তোলা৷ তাদের জন্য সেবা, নজরদারী,পরিচর্যা এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা।এছাড়া শক্তিশালী করতে হবে সামাজিক বেষ্টনী । এবং ভাবতে হবে প্রবীণ বয়সের স্বয়ংসম্পূর্ণতার কথা।

প্রবীণ জনগোষ্ঠীর কথা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও চিন্তা করেছিলেন। তাইতো তিনি প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তার লক্ষ্যে সংবিধানে ১৫ (ঘ) ধারা সংযুক্ত করেন (সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার, অর্থাৎ বেকারত্ব, ব্যাধি বা পঙ্গুত্বজনিত কিংবা বৈধব্য, মাতাপিতৃহীনতা বা বার্ধক্যজনিত কিংবা অনুরূপ অন্যান্য পরিস্থিতিজনিত কারণে অভাবগ্রস্ততার ক্ষেত্রে সরকারি সাহায্য লাভের অধিকার)। জাতির পিতার এই চিন্তাকে ত্বরান্বিত করতে ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে তৎকালীন সরকার বয়স্ক ভাতা কর্মসূচি প্রবর্তন করেন।  এছাড়া বয়স্কদের জন্য পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, শান্তিনিবাস স্থাপন, জাতীয় প্রবীণ কমিটি গঠন, চাকরিজীবী প্রবীণদের জন্য ভবিষ্যৎ তহবিল, গ্রাচ্যুইটি, কল্যাণ তহবিল, যৌথ বিমার সুবিধাসহ বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয় তবে খেয়াল রাখতে হবে এই উদ্যোগগুলোরও যাতে যথোপযুক্ত তদারকি ও প্রয়োগের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়। আজ বিশ্ব প্রবীণ দিবসে তাই এতটুকুই কাম্য রইল।


বাংলাদেশ   বিশ্ব প্রবীণ দিবস   এলিট সমাজ   প্রবীণ জনগোষ্ঠী  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন