ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯, ১১ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

গরু জবাই ও কোরবানির চামড়া সংগ্রহেই ঈদ আনন্দ তাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ আগস্ট ২০১৮ বুধবার, ০৯:২৩ পিএম
গরু জবাই ও কোরবানির চামড়া সংগ্রহেই ঈদ আনন্দ তাদের

মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা আজ। এদিন পশু কোরবানির মাধ্যমে মহান সৃষ্টিকর্তা বান্দার আত্মত্যাগ ও বনের নয় মনের পশুকে কোরবানি করার জন্য মহা-নিয়ামত হিসেবে দান করেছেন। এই ঈদের অন্যতম শিক্ষা হচ্ছে, মনের পশু অর্থাৎ কু-প্রবৃত্তি পরিত্যাগ করা। জাতীয় কবির ভাষায়, মনের পশুরে কর জবাই, পশুরাও বাঁচে, বাঁচে সবাই...

নতুন জামা কাপড় পড়ে মা-বাবা, ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধবসহ সবাইকে নিয়ে ব্যাপক আনন্দ, খুশি থেকে মহাখুশি হওয়ার নামই ঈদ। ঈদ আনন্দকে নিজ নিজ আঙ্গিনায় আবদ্ধ করতে ব্যস্ত প্রত্যেকেই।  কিন্তু আমাদের চারপাশের এমন অনেকেই আছে যাদের ঈদ আছে কিন্তু আনন্দ নেই। এতিম শিশুরা এদের মধ্যে অন্যতম। পিতা-মাতা হারানো এসব শিশুদের কাছে ঈদের দিনটা অনেকটা বিষাদেরই মতো। ঈদের দিনে নতুন জামা পড়ে মায়ের হাতের পায়েস-সেমাই খেয়ে যে বয়সে আত্মীয়ের বাসায় ঈদ সালামি সংগ্রহ করার কথা, সেই বয়সেই কিনা গরু জবাই ও কোরবানির চামড়া সংগ্রহে ঈদ আনন্দ খুঁজে নিচ্ছে এরা। যদিও অন্য দিনের চেয়ে আজ একটু বেশিই খুশি তারা। কেননা আজ আর প্লেটে চুমুক দিয়ে ডাল খেতে হচ্ছে না। সারাদিনের খাবারের তালিকায় আছে মাংস। এ নিয়েই তাদের চোখে-মুখে খুশির ঝিলিক, এতেই তুষ্ট তারা।

কথা হয় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ছিদ্দিকিয়া এতিমখানার এতিম শিশুদের সঙ্গে। ঈদ আনন্দের প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করায় উত্তর মিলে, তাদের কাছে ঈদের আনন্দ গরু জবাই ও কোরবানির চামড়া সংগ্রহতেই। সকালেই গোসল করে তারা তাদের পুরানো ইস্ত্রি করা পাঞ্জাবি পড়ে বের হয়েছিল এলাকার গরু জবাইয়ের কাজে। সারাদিনের ব্যস্ত সময় কাটিয়ে মাত্রই ফিরেছে গোসল ও দুপুরের খাবারের উদ্দেশ্যে। 

কথা বলতে বলতেই সময় হয়ে যায় তাদের দুপুরের খাবার গ্রহণের। কয়েকজন এতিম ছাত্র বাইরে থেকে চামড়া সংগ্রহ করে দ্রুত গোসল করে প্লেট নিয়ে খাবারের জন্য দাঁড়ায়। ক্ষুধার রাক্ষস যেন ভর করেছে তাদের উপর, তর সইছে না আর। তার উপর আজ খাবারের তালিকায় আছে গরুর মাংস। তাদের আজ গুণে  মাংস খেতে হবে না, ইচ্ছেমতন পেটপুরে মাংস খেতে পারবে। এতেই খুশিতে চক চক করছে তাদের চোখ। অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়। প্লেট ভর্তি ভাত-মাংস নিয়ে খেতে বসে তারা। মানুষ যে এত ভক্তি নিয়ে খাবার খেতে পারে এদেরকে না দেখলে এটা অজানাই থেকে যেত।

পরিবার ছাড়া ঈদের অনুভূতির প্রসঙ্গে জানায়, অন্য সব এতিমরা মিলেই তারা এক পরিবার। এদের নিয়ে একসঙ্গে তিনবেলা খেতে বসাতেই তাদের আনন্দ। আজ দুপুরে পেট ভরে গরুর মাংস দিয়ে ভাত খেয়েছে, এতেই খুশি তারা। এটাই তাদের ঈদ আনন্দ।

বাংলা ইনসাইডার/বিকে