ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৩ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

১০ গরু দিয়ে শুরু, ঈদে বিক্রি ৯০০ গরু

রেজাউল করিম রাজা
প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০১৮ বুধবার, ০৮:০০ এএম
১০ গরু দিয়ে শুরু, ঈদে বিক্রি ৯০০ গরু

মাত্র চার বছর আগে ২০১৪ সালে ১০টি গাভী দিয়ে যে খামারের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সেই খামার থেকে এবছর কোরবানির ঈদে নয়শ গরু বিক্রয় করার পরেও ৮০০ গরু রয়েছে। নিষ্ঠা, শ্রম, একাগ্রতা আর সততা দিয়ে যে, সফলতার উচ্চ শিখরে পৌঁছানো সম্ভব তাঁর উৎকৃষ্ট উদাহরণ ‘মেঘডুবি অ্যাগ্রো ডেইরি ফার্ম।’ 

মেঘডুবি এগ্রো ডেইরি ফার্মের সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ তারেক মাহমুদ বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তাদের ফার্মের আজকের এই অবস্থানে আসার গল্প বলেন। নিম্নে বাংলা ইনসাইডার পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো।

আপনাদের ফার্মের শুরু টা কীভাবে? সেই গল্পটা জানতে চাই?

২০১৪ সালে যাত্রা। শখের বসে আমার ফুফাতো ভাই মোহাম্মদ আলী শাহিন বাড্ডার সাতারকুলে ১০টি গাভী কিনে ডেইরি ফার্ম করেন। কোরবানির ঈদে হাট থেকে গরু কিনে কোরবানি দেওয়ার পর দেখি গরুর কলিজা, ফুসফুস এবং মাংসও নষ্ট। তাই ঐ বছর কোরবানির জন্য পাঁচটি দেশি ষাঁড় পালন করি আমাদের খামারে। যেগুলো নিজে এবং আত্মীয়-স্বজনরা মিলে কোরবানি দেই। কোরবানি দেওয়ার পর বাজারের ইনজেকশন পুশ করা গরুর মাংসের সঙ্গে আমাদের পালন করা গরুর মাংসের পার্থক্য বুঝতে পারি। এর পরের বছর কোরবানির জন্য আরও গরুর চাহিদা আসতে থাকে আমাদের কাছে। এভাবেই আমাদের ফার্মের যাত্রা শুরু।

আপনাদের খামারের মূল বৈশিষ্ট্য কি?  

হাটের গরু নিয়ে এখন অনেক অভিযোগ। কোরবানির মাংসও অনেক সময় খাবার অনুপযোগী হয়ে যায়। অপরিকল্পিতভাবে গরু মোটাতাজাকরণের কারণে এমন হচ্ছে। অতিরিক্ত ওষুধ ব্যবহারের কারণে গরুর মাংসের এমন অবস্থা। আমরা কোনো ওষুধ ব্যবহার করি না। প্রাকৃতিক উপায়ে ভালো খাবার পরিবেশন এবং সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে এখানে গরু মোটাতাজাকরণ করা হয়। আমরা এই খামারকে প্রাকৃতিক খামার বলি, কারণ প্রাকৃতিকভাবেই এখানে গরুর পরিচর্যা করা হয়। পশুর খাবার হিসেবে আমরা গরুকে শাকসবজি, গাঁজর, পেঁপে, কলা, কাঁঠাল, আঁখ, ভেজানো ছোলা খাওয়াই। পশুকে আমরা ভুসিও খাওয়াই না কারণ, দেখা যায় এক ভুসির মধ্যে আরেক ভুসি মিক্স করে বিক্রি করা হয়। আমাদের খামারের গরু যারা কোরবানি দেয় পরের বছর কোরবানির ঈদে তারাই আবার আমাদের কাছে ফিরে আসে গরু কিনতে।   

আপনি বললেন পশুকে শাকসবজি খাওয়ান, এগুলোর এত দাম মানুষইতো খেতে পারে না। আর এত দামী খাবার পশুকে খাওয়ানো হলে খরচ বেড়ে যায় না?

হ্যাঁ ঢাকায় ফলমূল শাকসবজির দাম বেশি। তবে আমরা সরাসরি কৃষকের খামার থেকে পুরো ক্ষেতসহ একবারে অনেক বেশি পরিমাণে ক্রয় করি, তাই খরচ অনেক কমে আসে। মানুষ ভাবে পশুর ফার্মে অনেক খরচ। আমরা যেদিন শতভাগ ফলমূল শাকসবজি খাবার দিয়ে গরুকে মোটাতাজা করতে পারবো তখন আমাদের খামারের খরচও অনেক কমে আসবে। তখন মানুষের ধারণাও পাল্টে যাবে। আমরা চেষ্টা করছি শতভাগ ন্যাচারাল খাবার দিয়ে গরুকে মোটাতাজা করতে। 

বর্তমানে আপনাদের খামারের কয়টি শাখা এবং কি পরিমাণ পশু রয়েছে?

আমাদের খামারে কোরবানির ঈদে পশু বিক্রয়ের পর বর্তমানে ৮০০ পশু আছে। যার মধ্যে আছে গাভী, ষাঁড়, মহিষ, গাড়ল, ছাগল এবং ভেড়াও আছে। আমাদের খামার থেকে প্রতিদিন প্রায় পাঁচশ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। ঢাকার মোহাম্মদপুরের বছিলায় দুটি শাখা, কুষ্টিয়ার হালসায় একটি এবং বাড্ডায় একটি মিলে মোট চারটি শাখা আছে আমাদের ফার্মের। এছাড়াও আমাদের শ্রীমঙ্গলে, নীলফামারীতে এবং কুষ্টিয়ায় আমাদের কিছু পাইলট প্রজেক্ট আছে। 

শিক্ষিত যুবক বা নতুন কেউ যদি পশুর ফার্মের সঙ্গে জড়িত হতে চায় তাহলে আপনার পরামর্শ কি?

নতুন কেউ এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হলে, তাদের প্রতি আমার পরামর্শ হল, দেখেশুনে এবং বুঝে করবেন। কারণ আমরা চাই না কেউ গরুর ফার্ম করে লোকসান করার পর বলুক ফার্মের ব্যবসায় লোকসান হয়, ফার্ম না করাই ভালো। কেউ যদি আমাদের সহযোগিতা চায় তাহলে আমরা আমাদের সাধ্যমত সহযোগিতা করবো। কেউ প্রশিক্ষণ নিতে চাইলে আমাদের ফার্মে হাতে কলমে তাদেরকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবো।

উল্লেখ্য, মেঘডুবি এগ্রো ডেইরি ফার্মের মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী শাহিন ১৯৯৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পাস করেন এরপর সিঙ্গাপুরে পড়াশুনা করেন। দেশের বাইরের উচ্চতর ডিগ্রি থাকলেও চাকরির পেছনে ছোটেননি তিনি। পুরান ঢাকায় স্টিলের ব্যবসা শুরু করেন আর শখের বশে ২০১৪ সালে ডেইরি ফার্ম করেন। ১০ টি গরুর নিয়ে যাত্রা শুরু করা সেই ফার্মটি আজ দেশের অন্যতম বড় একটি ফার্ম। যে ফার্মের চারটি শাখায় প্রায় দুইশত পঞ্চাশ জন কর্মী সার্বক্ষণিক কাজ করে। 


বাংলা ইনসাইডার/আরকে/জেডএ