ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

নিজের গাড়ি-মোটরসাইকেলে বিদেশ ভ্রমণে যাবেন কীভাবে?

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০১৮ বুধবার, ০৩:২৩ পিএম
নিজের গাড়ি-মোটরসাইকেলে বিদেশ ভ্রমণে যাবেন কীভাবে?

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে একটু ঘোরা, পৃথিবীর কোনো একটি অংশকে নিজের চোখে দেখে আসা- সেটা কে না চায়! সবসময় বইয়ের পাতা বা টেলিভিশনের পর্দাতেই দেশের বাহিরকে দেখে যেতে হবে, এমনটাতো নয়। আপনি যদি ভ্রমণপ্রিয় হন, চাইলে আপনি দেশের ঘুরেও আসতে পারেন। এবং সেটা নিয়মিতই যেতে পারেন। কিন্তু ভ্রমণ খরচ নিয়ে আপনি যদি একটু বেশিই ভাবেন, তাহলে আপনার ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল বা গাড়িতে চড়েও ঘুরে আসতে পারেন। কিন্তু নিজের বাহন নিয়ে দেশের বাইরে যাওয়ার কথা আমরা ভাবতেও পারি না, কারণ এর পদ্ধতি সম্পর্কেই আমরা অবগত না। আজ জেনে নেওয়া যাক নিজের ব্যক্তিগত বাহন নিয়ে কীভাবে দেশের বাইরে ভ্রমণের নিয়মকানুন।

এজন্য আপনার যা যা কাগজপত্র লাগবে

১. জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক অনুমতিপত্র

২. ব্যাংক গ্যারান্টি

৩. কারনেট

৪. ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং পারমিট

৫. ইনস্যুরেন্স

৬. ৩০০ টাকার ইন্ডেমনিটি বন্ড

৭. যে দেশে যাবেন তার ভিসা

৮. ৫০০ টাকার ট্রাভেল ট্যাক্স

পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন যেভাবে

  • প্রথমে চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বরাবর দরখাস্ত দিন। অনুমতি পাওয়ার পর সেই অনুমতিপত্র নিয়ে যেতে হবে বাংলাদেশ অটোমোবাইল এসোসিয়েশন এ। সেখানে আপনার গাড়ি/মোটরসাইকেল এর কারনেটের জন্য করণীয়গুলো তারা জানিয়ে দেবে।

  • এরপর আপনাকে আপনার গাড়ি/মোটরসাইকেলের দামের সমতুল্য অথবা কম বেশি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হবে। টাকার পরিমাণ কত লাগবে সেটা তাদের সঙ্গেই আলোচনা করে নিন। ব্যাংক গ্যারান্টি রিফান্ডেবল।

  • বর্ডারে গিয়ে ৩০০ টাকার ইন্ডেমনিটি বন্ড এবং আপনার গাড়ি/মোটরসাইকেলের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক অনুমতি পত্র দেখিয়ে কমিশনারের কাছে বন্ড জমা দিন। তারপর কমিশনারের নির্দেশক্রমে বাকি কাজ তারাই করে দিবে। এজন্য কাউকে কোন টাকা পয়সা দেওয়া লাগবে না।

  • তারপর ইমিগ্রেশনের কাজ সেরে ফেলে সোজা নো মেনস ল্যান্ড এ চলে যান। সেখানে বাংলাদেশের সাইডে একজন রাজস্ব কর্মকর্তার কাছে আপনার কারনেট জমা দিন। উনি কারনেটের একটি সাদা অংশ কেটে রেখে দেবে এবং বইটির উপরের সাদা অংশে তার সীল ও স্বাক্ষর দিবেন। অবশ্যই উপরের সাদা অংশে তার সীল ও স্বাক্ষর দেওয়া আছে কিনা তা খেয়াল করবেন।

  • এবার ভারতের সীমানায় কাস্টমস অফিসে গিয়ে কাস্টমস অফিসারের কাছে আপনার কারনেট দিয়ে ইমিগ্রেশনে চলে যান। সেক্ষেত্রে আপনার সময় বেঁচে যাবে। ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হয়ে গেলে কাস্টমস অফিসারের কাছ থেকে ঠিক একই নিয়মে আপনার কারনেটের বুকের উপরের সাদা অংশে সীল ও স্বাক্ষর আছে কিনা চেক করে নিন। অফিসার আপনাকে কারনেটের সুবিধায় গাড়ি/মোটরসাইকেল নিয়ে কত দিনের মধ্য ফিরে আসতে হবে তা বলে দিবে এবং যদি সময় মত ফিরে না আসেন তাহলে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে তাও জানিয়ে দেবে।

  • আপনি আপনার ভ্রমণ শেষে আপনার গাড়ি/মোটরসাইকেল এবং কারনেটের বুক সহ বাংলাদেশ অটোমোবাইল এসোসিয়েশন এর নিকট হস্তান্তর করুন। তারা আপনার ব্যাংক গ্যারান্টি রিলিজ করে দিবে।

এই আনুষ্ঠানিকতা গুলো শেষে এবার আপনি নিশ্চিন্ত মনে ঘুরে বেড়াতে পারেন। অবশ্যই কারনেট , পাসপোর্ট এবং এই সংক্রান্ত সকল কাগজপত্র নিজ দায়িত্ব যত্ন করে রাখবেন।

কেমন হতে পারে খরচ

অনুমতির জন্য সাধারণত কোনো টাকা লাগে না। তবে কারনেটের জন্য সাধারণত ১২ হাজার টাকা লাগে। আর ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিংপারমিট- আড়াই হাজার টাকা।


বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/জেডএ