ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

শুভ জন্মাষ্টমী আজ

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ রবিবার, ০৮:১৯ এএম
শুভ জন্মাষ্টমী আজ

হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ জন্মাষ্টমী আজ। এই দিনে মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আবির্ভূত হয়েছিলেন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুসারে, পৃথিবী থেকে দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনের জন্যই শ্রীকৃষ্ণ দ্বাপর যুগে পৃথিবীতে আবির্ভূত হন। যুগে যুগে পৃথিবীতে যখন অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন বেড়ে যায়, তখনই বিভিন্ন অবতার রূপে পৃথিবীতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আবির্ভূত হয়েছেন।

হিন্দু পঞ্জিকা মতে, সৌর ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে যখন রোহিণী নক্ষত্রের প্রাধান্য হয়, তখন জন্মাষ্টমী পালিত হয়। উৎসবটি গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে, প্রতি বছর মধ্য-আগস্ট থেকে মধ্য-সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোনো এক সময় হয়ে থাকে।

হিন্দু সম্প্রদায় বিশ্বাস করেন যে, কৃষ্ণ স্বয়ং ঈশ্বর। শ্রীকৃষ্ণ পৃথিবীকে কলুষ মুক্ত করতে কংস, জরাসন্ধ ও শিশুপালসহ বিভিন্ন অত্যাচারিত রাজাদের ধ্বংস করেন এবং ধর্মরাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। হিন্দু ধর্মমতে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অপ্রাকৃত লীলাকে কেন্দ্র করেই জন্মাষ্টমী উৎসব। ওই সময় অসুররূপী রাজশক্তির দাপটে পৃথিবী হয়ে ওঠে ম্রিয়মাণ, ধর্ম ও ধার্মিকেরা অসহায় সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় নিক্ষিপ্ত হন। অসহায় বসুমতি পরিত্রাণের জন্য প্রজাপতি ব্রহ্মার শরণাপন্ন হন। ব্রহ্মার পরামর্শে দেবতারা সবাই মিলে যান দেবাদিদেব মহাদেবের কাছে পরিত্রাণের উপায় খুঁজে বের করতে। সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয়ের যুগসন্ধিক্ষণে তারা সকলে বিষ্ণুর বন্দনা করেন। স্বয়ং ব্রহ্মা মগ্ন হন কঠোর তপস্যায়। ধরণীর দুঃখ-দুর্দশায় ব্যথিত হয়ে দেবতাদের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি এই বলে দেবতাদের অভয়বাণী শোনান যে, দেবকীর অষ্টম গর্ভের সন্তানরূপে শঙ্খ, চক্র, গদা, পদ্মধারী শ্রীকৃষ্ণ নামে স্বয়ং ঈশ্বর অচিরেই মানবরূপে ধরাধামে অবতীর্ণ হবেন। আর এভাবেই কংসের কারাগারে বন্দী দেবকী গর্ভে শ্রীকৃষ্ণ জন্মলাভ করেন।

জন্মের পর কৃষ্ণের পিতা বসুদেব দেখলেন, শিশুটি চারহাতে শঙ্খ, চক্র, গদা এবং পদ্ম ধারণ করে আছেন। নানারকম মহামূল্য মণি-রত্নখচিত সমস্ত অলঙ্কার তাঁর দেহে শোভা পাচ্ছে। তিনি বুঝতে পারলেন জগতের মঙ্গলার্থে পূর্ণব্রহ্ম নারায়ণই জন্মগ্রহণ করেছেন তাদের ঘরে। বসুদেব করজোড়ে প্রণাম করে তাঁর বন্দনা শুরু করলেন। বসুদেবের বন্দনার পর দেবকী প্রার্থনা শুরু করলেন এবং প্রার্থনা শেষে একজন সাধারণ শিশুর রূপ ধারণ করতে বললেন শ্রীকৃষ্ণকে। একজন সাধারণ শিশুর রূপ ধারণ করে শ্রীকৃষ্ণ বললেন, আমি জানি, আপনারা আমাকে নিয়ে অত্যন্ত শঙ্কিত এবং কংসের ভয়ে ভীত। তাই আমাকে এখান থেকে গোকুলে নিয়ে চলুন। সেখানে নন্দ এবং যশোদার ঘরে একটি কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করেছে। আমাকে ওখানে রেখে তাকে এখানে নিয়ে আসুন।

শ্রীকৃষ্ণের কথা শুনে বসুদেব নিয়ে যাবার জন্য প্রস্তুত হলেন। গোকুলে নন্দ এবং যশোদার সন্তানরূপে যিনি জন্মগ্রহণ করেছেন তিনি হলেন ভগবানের অন্তরঙ্গ শক্তি যোগমায়া। যোগমায়ার প্রভাবে কংসের প্রাসাদে প্রহরীরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল। কারাগারের দরজা আপনা আপনি খুলে গেল। সে রাত ছিল ঘোর অন্ধকার। কিন্তু যখন বসুদেব তাঁর শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে বাইরে এলেন তখন সবকিছু দিনের আলোর মতো দেখতে পেলেন। আর ঠিক সেই সময় গভীর বজ্রপাতের সঙ্গে প্রবল বর্ষণ হতে শুরু হলো। বসুদেব যখন শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে বৃষ্টির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন ভগবান স্বর্পরূপ ধারণ করে বসুদেবের মাথার উপরে ফণা বিস্তার করলেন। বসুদেব যমুনা তীরে এসে দেখলেন যমুনার জল প্রচণ্ড গর্জন করতে করতে ছুটে চলেছে। কিন্তু এই ভয়ঙ্কর রূপ সত্ত্বেও যমুনা বসুদেবকে যাবার পথ করে দিলেন। এভাবে বসুদেব যমুনা পার হয়ে অপর পাড়ে গোকুলে নন্দ মহারাজের ঘরে গিয়ে উপস্থিত হলেন। সেখানে তিনি দেখলেন সমস্ত গোপগোপীরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে আছে। সেই সুযোগে তিনি নিঃশব্দে যশোদার ঘরে প্রবেশ করে শ্রীকৃষ্ণকে সেখানে রেখে যশোদার সদ্যজাত শিশুকন্যাকে নিয়ে কংসের কারাগারে ফিরে এলেন। নিঃশব্দে দেবকীর কোলে শিশুকন্যাটিকে রাখলেন। তিনি নিজেকে নিজে শৃঙ্খলিত করলেন যাতে কংস বুঝতে না পারে যে ইতিমধ্যে অনেক কিছু ঘটে গেছে। এভাবে শ্রীকৃষ্ণ তাঁর শৈশব-কৈশর গোকুলে কাটালেন এবং তাঁর লীলার মাধ্যমে কৃষ্ণ নামে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করতে থাকলেন।

উল্লেখ্য, আজ রোববার শোভাযাত্রা ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শুরু হয়ে পলাশী বাজার মোড়-জগন্নাথ হল-কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-দোয়েল চত্বর-হাইকোর্ট বটতলা-সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল-ফিনিক্স রোড (পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সামনে)-গোলাপ শাহ মাজার-বঙ্গবন্ধু স্কয়ার-গুলিস্তান (সার্জেন্ট আহাদ বক্সের সামনে)-নবাবপুর রোড-রায় সাহেব বাজার মোড় হয়ে বাহাদুরশাহ পার্ক গিয়ে শেষ হবে। এ উপলক্ষে রাজধানীতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও যান চলাচলে কিছু নিয়ন্ত্রণ এনেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। শোভাযাত্রা চলাকালে যানজট এড়াতে দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

বাংলা ইনসাইডার/বিপি/জেডএ