ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৩ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে একদিন

রেজাউল করিম রাজা  
প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ শুক্রবার, ১০:০৮ এএম
ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে একদিন

সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি কক্সবাজার জেলা। প্রকৃতি অপার হস্তে নানা সৌন্দর্য দান করেছে এই জেলায়। পাহাড়, পর্বত, ঝরনাসহ নানা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে দিয়ে ঘেরা এই জেলাটি। এর মাঝে আবার মানুষের তৈরি করা কিছু পার্কও দর্শনার্থীদের বিনোদনের বাড়তি খোরাক যোগায়। এমনি একটি পার্ক হলো, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক।   

কক্সবাজার সদর থেকে ৪৮ কিলোমিটার উত্তরে এবং চকরিয়া থানা থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে ফাসিয়াখালি রেঞ্জের অধীনে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক অবস্থিত। ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় হরিণ প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে এই পার্কটি প্রতিষ্ঠা করেন। সাফারি পার্কটি ৬০০ হেক্টর এলাকাজুড়ে অবস্থিত। ডুলাহাজারা সাফারি পার্কটি, ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্ক নামেও পরিচিত।

ডুলাহাজারা সাফারি পার্কটি পূর্ণাঙ্গ বা পরিপূর্ণ সাফারি পার্ক বলতে যা বোঝায় ঠিক তেমনটা নয়। কারণ এখানে প্রাকৃতিক অবকাঠামোর বদলে অত্যাধুনিক ও কৃত্রিম অবকাঠামোই গড়ে তোলা হয়েছে বেশি।

চিরসবুজ বনের জানা-অজানা গাছ-গাছালি, উঁচু নিচু টিলা, প্রবহমান ছড়া, হ্রদ, ফল-ভেষজ উদ্ভিদের সমাহারে গড়ে উঠেছে এই সাফারি সাফারি পার্ক। ছায়া ঘেরা পথ, জানা-অজানা গাছের সারি, প্রতিনিয়ত পাখি আর বানরের কিচিরমিচিরের কারণে এক অসাধারণ পরিবেশ সৃষ্টি হয় এখানে।  

উচু ওয়াচ টাওয়ারে উঠে দেখা যায়, পুরো পার্কের অপার সৌন্দর্য। পার্কের চারদিকে বেষ্টনী রয়েছে যাতে বন্যপ্রাণীরা বাইরে যেতে না পারে। পার্কের ভিতরে অভ্যন্তরীণ বেষ্টনীও আছে। অভ্যন্তরীণ বেষ্টনীর ভিতরে বাঘ, সিংহ ও তৃণভোজী প্রাণী প্রাকৃতিক পরিবেশে বসবাস করে। শুধু তাই নয়, পুরো পার্কজুড়ে বিভিন্ন প্রাণীর ভাস্কর্যও আপনাকে মুগ্ধ করবে।  

পার্কে ঢুকতেই হাতের বামে ও ডানে দুটি রাস্তা চলে গেছে। বাম পাশের রাস্তা ধরে হাঁটা শুরু করলে পুরো পার্কটি ঘুরে আপনি অনায়েসেই ডান পাশের রাস্তা দিয়ে বেরিয়ে আসা যায়।

ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক মূলত হরিণ প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখানে বাঘ, সিংহ, হাতি, ভালুক, গয়াল, কুমির, জলহস্তী, মায়া হরিণ, সম্বর হরিণ, চিত্রা হরিণ, প্যারা হরিণ প্রভৃতি প্রাণীও রয়েছে।

এই সাফারি পার্কে স্বাদুপানির কুমির যেমন আছে, তেমনি আছে লোনা পানির কুমির। এখানে ভিতরে খাঁচার মতো করে কিছু ঘর বানানো আছে, যেখানে বন্য প্রাণীরা বিশ্রাম নেয়। আবার এই খাঁচার পিছন দিয়ে গেট আছে, যেটি দিয়ে প্রাণীরা পার্কের বিশাল খোলা প্রান্তরে বিচরণ করতে পারে।

এমন সুন্দর সাফারি পার্কে পরিবার-পরিজন নিয়ে একদিন ঘুরে আসতে পারেন। ঢাকা থেকে প্রতিদিন অনেক বাস যায় কক্সবাজার জেলায়। আপনার পছন্দ ও সাধ্যমত যে কোনটিতে যেতে পারেন। কক্সবাজার শহর থেকে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, মাইক্রোবাস অথবা পাবলিক বাসে করে যেতে পারেন সাফারি পার্কে।   

বাংলা ইনসাইডার/আরকে/জেডএ