ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৮ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বিদ্যুৎ বিল কমাবেন কীভাবে?

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ শুক্রবার, ০৪:৫৫ পিএম
বিদ্যুৎ বিল কমাবেন কীভাবে?

সরকারি হিসাব মতে, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সেবার ৩ কোটি ৩ লাখ গ্রাহক রয়েছে। বর্তমানে গড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ৬ টাকা ২০ পয়সা, যা বিক্রি হচ্ছে গড়ে ৪ টাকা ৮২ পয়সা করে। তবে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের এই দামের কোম্পানি ভেদে পার্থক্য রয়েছে। তথ্য মতে, প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্যে গ্রাহককে দিতে হয় ৩ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১০ টাকা ৭০ পয়সা পর্যন্ত।

দেখা যায়, বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যাওয়া নিয়ে জনসাধারণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন কোম্পানির মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভ কাজ করে। আসলে, আমাদের অপচয় আমাদের চোখে পড়ে না। একটু সতর্ক থাকলে আমরা বিদ্যুৎ খরচ কমিয়ে আনতে পারি। কিন্তু কিভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ ব্যবহার করেও বিল কমানো সম্ভব তার কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রকৌশলীরা।

বিদ্যুৎ বিল কমানোর উপায়:

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহসিন আবদুল্লাহ কিছু বিষয় খেয়াল রাখলে আবাসিক বিদ্যুৎ বিল কমিয়ে আনা সম্ভব বলে জানিয়েছেন। এগুলোই তুলে ধরা হলো-

১. সুইচ বন্ধ রাখা:

বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি যেমন ফ্যান, বাতি, টিভি, কম্পিউটার ইত্যাদি ব্যবহার না করলে সব সময় সুইচ বন্ধ করে রাখতে হবে। অনেক সময় বাথরুম বা বারান্দার লাইট জ্বলে থাকে। এটি যাতে না হয়, তা খেয়াল রাখলে বিদ্যুৎ বিল খানিকটা কমে আসে। কম্পিউটার বা টিভি ব্যবহার না করলে স্লিপ মুডে বা বন্ধ করে রাখলে বিদ্যুৎ বিল কম আসে।

২. বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতির ব্যবহার:

প্রচলিত বাতির তুলনায় এনার্জি বা এলইডি বাতি ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ বিল কম আসে। যেখানে প্রচলিত একটি বাতি ১০০ ওয়াট, সেখানে একটি এনার্জি বাতি থাকে ২৫-৩০ ওয়াট। একটা এনার্জি বাতির ক্রয় মূল্য বেশি হলেও এগুলো দীর্ঘদিন সেবা দেয় এবং বিলের হিসাবে অনেক বেশি সাশ্রয়ী হয়। এছাড়াও এখন ইনভার্টারযুক্ত ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিন পাওয়া যায়। এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ বিল দুই তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনা সম্ভব।

৩. এসির নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার

বাসাবাড়িতে এখন সচরাচর এসির ব্যবহার হয়। এসব এসির ব্যবহারের দিকে খেয়াল করলে দেখা যাবে, নিয়ন্ত্রনহীন এর ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কিন্তু নিয়ন্ত্রিতভাবে এসি ব্যবহার করা গেলে এর বিল কমিয়ে আনা সম্ভব। এসির তাপমাত্রা সবসময় ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখতে হবে। নির্দিষ্ট মাত্রায় ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়ার পর এসি বন্ধ করে ফ্যান চালানো যেতে পারে। রাতে টাইমার দিয়ে রাখা ভালো, যাতে নির্দিষ্ট মাত্রায় ঠাণ্ডা হওয়ার পর এসি নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায়।

৪. মানসম্মত তাঁর ব্যবহার

বিদ্যুতের সংযোগ ও তারের ওপর বিদ্যুতের বিল অনেক সময় নির্ভর করে। খারাপ মানের তার হলে, সংযোগ দুর্বল বা নড়বড়ে হলে সেটি লো ভোল্টেজের সৃষ্টি করে, ফলে বিলও বেড়ে যায়। বহুতল ভবনের সাব-স্টেশন পুরাতন হলে সেটি বেশি বিলের কারণ হতে পারে। তাই বছরে অন্তত একবার এসব যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করতে হবে। বাসার এসি ও ফ্রিজের ফিল্টার নিয়মিত সময় পরপর পরিষ্কার করানো হলে সেটি বিদ্যুৎ খরচ কমিয়ে আনবে।

৫. বিকল্প যন্ত্রপাতির ব্যবহার

রান্না করা বা খাবার গরম করার জন্য মাইক্রো ওভেনের পরিবর্তে চুলা ব্যবহার করা যেতে পারে। তাছাড়া স্লো কুকার বা টোস্টার ব্যবহার করা যায়। মাইক্রো ওভেনে ডিফ্রস্ট না করে পানিতে রেখে খাবারের বরফ ছাড়িয়ে নেওয়া যায়। ওয়াশিং মেশিনে গরম পানির সেটিং ব্যবহার না করলেও বিদ্যুৎ খরচ কমে আসবে।

৬. বিদ্যুতের সীমিত ধাপের মধ্যে থাকা

বিদ্যুতের ব্যবহার অনুযায়ী, একেকটি ধাপে একেক রকম বিল আসে। যেমন ডিপিডিসি বা ডেসকোর ট্যারিফ অনুসারে, কারো যদি বিদ্যুতের ব্যবহার ৭৫ ইউনিটের মধ্যে সীমিত থাকে, তাহলে বিল আসবে প্রতি ইউনিট ৪ টাকা হারে। কিন্তু ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিল আসবে ৪.৪৫ টাকা হারে। তৃতীয় ধাপ ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত। সেক্ষেত্রে বিল আসবে ৫.৭০ টাকা হারে। ৩০১ ইউনিট থেকে ৪০০ ইউনিট পর্যন্ত বিল আসবে প্রতি ইউনিট ৬.০২ টাকা হারে। ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিট পর্যন্ত বিলের হার ৯ টাকা ৩০ পয়সা। এর বেশি হলে ইউনিট প্রতি বিল হবে ১০ টাকা ৭০ পয়সা। অর্থাৎ বিদ্যুতের ব্যবহার কম ধাপের মধ্যে সীমিত রাখতে পারলে বিলও কম আসবে।

৭. প্রাকৃতিক শক্তির ব্যবহার

বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলো বর্তমানে বহুতল ভবনে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। তাই বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে বা বেশি লোডশেডিং হয় এমন স্থানে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যেতে পারে। দিনের বেলায় ঘরের ভেতর বাতি জ্বালানো যাবে না। এর পরিবর্তে সূর্যের আলো থেকে সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা তৈরি করতে হবে।আর এগুলো মেনে চললে বিদ্যুৎ বিল অবশ্যই কম, আসবে।


সূত্র: বিবিসি

বাংলা ইনসাইডার/বিপি/জেডএ