ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘প্রশ্ন ফাঁস রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ছে’

রেজাউল করিম রাজা
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বুধবার, ০৮:৩৩ এএম
‘প্রশ্ন ফাঁস রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ছে’

‘ভর্তি পরীক্ষায় কোনো ধরনের অশুভ, অনৈতিক, অবৈধ কোনো উপায়ের সঙ্গে কোনো শিক্ষার্থী যেন নিজেকে জড়িত না করে, এটা আমার শিক্ষার্থীদের নিকট পরামর্শ। আমাদের নিজস্ব ভিজিলেন্স টিম থাকবে পরীক্ষায়, ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে এবার কঠিন গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবছর।’ 

১৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাও সেপ্টেম্বর, অক্টোবর এবং নভেম্বর মাসের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে। বিগত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের মতো ভয়ংকর কালো থাবা চেপে বসেছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায়। এর কারণে একদিকে যেমন শিক্ষা ব্যবস্থা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন ভর্তি পরীক্ষা বিষয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান। ভর্তি পরীক্ষা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের তিনি নানা উপদেশ ও পরামর্শও দিয়েছেন বাংলা ইনসাইডারের মাধ্যমে। নিচে বাংলা ইনসাইডার পাঠক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুক ছাত্রছাত্রীদের জন্য তা তুলে ধরা হলো: 

বিগত সময়ে বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে খুব শিগগিরই। প্রশ্ন ফাঁস হোক বা না হোক এই বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি আপনার পরামর্শ বা উপদেশ কি?   

প্রশ্ন ফাঁসের গুজব এবং অপতথ্য এবং অপপ্রচারে কান দিয়ে, সেই মোতাবেক যেন কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত না করে, এই বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অত্যন্ত সতর্ক ও যত্নশীল থাকতে হবে। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার যে সিলেবাস ও কারিকুলাম পরীক্ষা হয়েছে। সেই আলোকেই বিভিন্ন বিভাগের ডিন মহোদয় ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনা করেন। অনেক যাচাই-বাছাই করেই আমরা শিক্ষার্থী নির্বাচন করে থাকি ভর্তি পরীক্ষার জন্যে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিট ভিত্তিক ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি করা হয়। ইউনিট ভিত্তিক নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন রয়েছে। সেই নির্দিষ্ট আসনের অনুপাতেই আমরা ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করে থাকি। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ থাকে না। তাই এখানে যারা ভর্তি হতে পারে না তাঁরা মেধাবী না, তাদের সকল অর্জন ছোট হয়ে যায় এমন ভাবার কোন কারণ নাই। আসন সীমিত থাকার কারণে আমরা সকল শিক্ষার্থীকে নিতে পারি না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় যারা অংশগ্রহণ করে, যারা এখানে আবেদন করেছে, যারা ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে, তাঁরা অত্যন্ত মেধাবী। তাদের অর্জনকে অত্যন্ত ভালো দৃষ্টিতে দেখতে হবে। আমরা তাদেরকে অভিনন্দন জানাই। কারণ আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় সকলেই অংশ গ্রহণ করতে পারে না। সারাদেশের বাছাইকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীরাই এখানে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে থাকে, এটাও তাদের জীবনে একটা ব্যতিক্রমধর্মী অর্জন। একেবারেই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের রীতিনীতি অনুসরণ করেই ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাই এখানে অনৈতিক কোন পন্থা অবলম্বন করে ভর্তি হবার কোন সুযোগ নাই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে আমরা সকলের কাছে আহ্বান কোনো ক্রমেই আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে কেউ বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবেন না। কোনো মিথ্যা, অপপ্রচার, প্রশ্ন ফাঁস, বিভ্রান্তিকর তথ্য, অপতথ্য, গুজব ছড়িয়ে কোন ছাত্রকে বিচ্যুত করার চেষ্টা করবেন না। সেই সঙ্গে অন্যায়, অনৈতিক, বিধি পরিপন্থী কোনো কাজের সঙ্গে কোনো শিক্ষার্থী যেন জড়িত না হয়, সকল শিক্ষার্থীদের প্রতি এটি আমার উদাত্ত আহ্বান।


বাংলা ইনসাইডার/আরকে/জেডএ