ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮, ৪ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০৯:৪৮ এএম
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় ঘোষিত হয়েছে গতকাল বুধবার। রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ আসামির ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। যাবজ্জীবন হয়েছে আরও ১৯ আসামির। এছাড়া ১১ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঐতিহাসিক এই রায়ের খবর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে। 

বিবিসি:

বিবিসি অনলাইন শিরোনাম করেছে, ‘২০০৪ সালে সমাবেশে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় বাংলাদেশে ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ২০০৪ সালে রাজনৈতিক সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনার দায়ে ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ওই সময়ে ক্ষমতায় থাকা বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে তার অনুপস্থিতিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তৎকালীন বিরোধীদল আওয়ামী লীগের সমাবেশে ওই হামলা চালানো হয়েছিলো। দলটির নেতা শেখ হাসিনা এখন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।

আল জাজিরা:

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার শিরোনাম ছিল, ‘২০০৪ সালের হামলার ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড’। আরেকটি শিরোনামে তারা লিখেছে, ‘২০০৪ সালের হামলার ঘটনায় বিরোধী দলের নেতা তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল বাংলাদেশের আদালত’।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ আয়োজিত শেখ হাসিনার সমাবেশে ভয়াবহ হামলা হয়। দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতা শেখ হাসিনার চারপাশে একটি মানব ঢাল তৈরি করে তাকে রক্ষা করেন। এ ঘটনায় নির্মমভাবে নিহত হন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা আইভি রহমান। মামলার নথিতে বলা হয়, বিএনপির দ্বারা এটি একটি ‘পরিকল্পিত হামলা’ ছিল।

রয়টার্স:

বার্তা সংস্থা রয়টার্স শিরোনাম করেছে, ‘২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলার রায়ে বিরোধী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের হামলার ২৪ জন নিহত হন। আহত হন পাঁচ শতাধিক। হতাহতরা সবাই আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন। রায়ের বিষয়ে সরকার পক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেছেন, এ রায়ে তারা সন্তুষ্ট নন। এ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করবেন তারা। তারেক রহমানের ফাঁসি চাইবেন। অন্যদিকে বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রায় প্রত্যাখ্যানের কথা জানিয়েছেন।

দ্য গালফ টুডে:

দ্য গলফ টুডে’র শিরোনাম ছিল, ‘২০০৪ এর হামলায় বাংলাদেশে ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের একটি আদালত বতর্মান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। বিরোধী দলের শীর্ষ পলাতক নেতাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান (৫০) বর্তমানে দেশের বাইরে লন্ডনে পলাতক রয়েছেন। দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়া ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কারাবন্দি। এরপর থেকে তারেক জিয়াই বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

এপি:

বার্তা সংস্থা এপি’র শিরোনাম করেছে, ‘রাজনৈতিক সমাবেশে হামলার ঘটনায় বাংলাদেশে ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড’। খবরে তারা জানিয়েছে, তৎকালীন বিরোধিদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা ওই হামলায় অল্পের জন্য বেঁচে যান।

এপি তাদের প্রতিবেদনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত লুৎফুজ্জামান বাবরের প্রতিক্রিয়া ও রায়ের সময়ের পরিস্থিতিও তুলে ধরেছে। তাদের খবরে বলা হয়েছে, রায় ঘোষণার সময় দুই বার বিদ্যুৎ সংযোগ চলে যাওয়ায় বিচারকের কাজে বিঘ্ন ঘটে। রায়কে কেন্দ্র করে আদালতের বাইরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিলো।

রায় ঘোষণার পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত লুৎফুজ্জামান বাবর সাংবাদিকদের কাছে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ সবকিছু জানেন। আমি এর সঙ্গে জড়িত ছিলাম না’।

আনন্দবাজার:

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার শিরোনাম করেছে, ‘ফাঁসি খালেদার ২ মন্ত্রীর, যাবজ্জীবন সাজা ছেলের’। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামি লিগ নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য ঢাকায় তাঁর জনসভায় জঙ্গিদের দিয়ে গ্রেনেড হামলা করানোর অভিযোগে আগের বিএনপি-জামাতে ইসলামি জোট সরকারের দুই মন্ত্রী-সহ ১৯ জনকে ফাঁসির আদেশ শোনাল আদালত। চক্রান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং আততায়ী জঙ্গিদের সঙ্গে যোগসাজশের কারণে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী এবং বিএনপি-র তৎকালীন এক এমপি-সহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আনন্দবাজার আরেকটি শিরোনাম করেছে, ‘হাসিনাকে নিকেশ করাই ছিল লক্ষ্য’। খবরে বলা হয়েছে। চোদ্দো বছর আগে তৎকালীন বিরোধী নেত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান, দুই মন্ত্রী এবং পুলিশ ও সেনাকর্তাদের আদালত দোষী সাব্যস্ত করার ঘটনাটি ‘ঐতিহাসিক’ বলে মনে করছেন আইনজীবীদের একাংশ। তাঁদের মতে, খালেদা জিয়া প্রশাসনের সঙ্গে জঙ্গিদের যোগসাজশের বিষয়টি এত দিন অভিযোগ আকারে ছিল। এই রায়ে সেটি আইনি মান্যতা পেল। বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্তত একটি ঘটনা বিরোধী নেতৃত্বকে নিকেশ করার লক্ষ্যে ‘সরকারি জঙ্গি হামলা’ হিসেবে স্বীকৃতি পেল।

হিন্দুস্থান টাইমস:

ভারতীয় আরেক সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমস শিরোনাম করেছে, ‘শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলেকে যাবজ্জীবন দণ্ড দেওয়া হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে ১৯ জনকে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পলাতক ছেলে তারেক রহমানকে ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলার ঘটনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমানকে (৫০) বিচারক পলাতক হিসেবে রায় ঘোষণা করেছেন। তিনি এখন লন্ডনে অবস্থান করছেন। ধারণা করা হচ্ছে সেখানে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন। যদিও ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তার অভিবাসন অবস্থা সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছে।

এনডিটিভি:

ভারতের এনডিটিভি শিরোনাম করেছে, ‘২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্রের যাবজ্জীবন’। খবরে বলে হয়েছে, ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পলাতক পুত্র তারেক রহমানের যাবজ্জীবন ও অন্য ১৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে একটি আদালত। ওই হামলায় ২৪জন নিহত ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আরও ৫০০ জন আহত হয়েছিলেন।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি