ঢাকা, বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ২ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বিশ্বের আলোচিত হত্যাযজ্ঞ ও বিচার

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০২:২৪ পিএম
বিশ্বের আলোচিত হত্যাযজ্ঞ ও বিচার

বাংলাদেশের ইতিহাসে নৃশংতম রাজনৈতিক হত্যাযজ্ঞ ছিল ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা। গতকাল বুধবার বর্বরোচিত এই হামলার রায় ঘোষিত হয়। রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। তবে বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়াসহ ১৯ জনের হয়েছে যাবজ্জীবন। এছাড়া ১১ জনের সাজা হয়েছে বিভিন্ন মেয়াদে। গতকালের রায়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোও বেশ সরব ছিল। বড় কোনো হত্যাযজ্ঞ ও বিচার স্বভাবতই বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়। আজ জানাবো বিশ্বের আলোচিত কিছু হত্যাযজ্ঞ এবং এর বিচার:

স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যা

১৯৯৫ সালে বসনিয়ার স্রেব্রেনিৎসায় চালানো হয় এক নৃশংস হত্যাযজ্ঞ। এতে মারা যান নারী শিশুসহ ১১ হাজার বসনীয়। ওই ঘটনার প্রায় ১৭ বছর পর ২০১২ সালের ডিসেম্বরে এর বিচার শুরু হয়। বসনীয়দের গণহত্যার সঙ্গে জড়িত থাকায় তৎকালীন সার্বিয় সেনা কর্মকর্তা জাদ্রাভকো তোলিমিরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। ওই হত্যাযজ্ঞের আরেক খলনায়ক বসনীয় সার্বিয় সেনা কমান্ডার রাতকো ম্লাদিচের বিচার সম্পন্ন হয় জাতিসংঘের যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক ট্রাইব্যুনালে। ওই মামলার রায় ঘোষণা করা হয় ২০১৭’র নভেম্বরে। ম্লাদিচের বিরুদ্ধে ১১টি অভিযোগ ছিল। সেসব অভিযোগের বিষয়ে রায় ঘোষণার সময় ৭৪ বছর বয়সী ম্লাদিচ অনেকটা নিরুদ্বেগ ছিল বলে জানা যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সেব্রেনিৎসা গণহত্যা ছিল ইউরোপের সবচেয়ে নিকৃষ্ট হত্যাকাণ্ড। ম্লাদিচকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিচার

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মিত্রপক্ষের উদ্যোগে ১৯৪৫ সালের অক্টোবরে জার্মানির নুরেমবার্গে গঠিত ট্রাইবুনালে বেশ কয়েকটি হত্যাযজ্ঞের বিচার করা হয়। ওই ট্রাইবুনালে পোল্যান্ডের ‘অশউইৎজ’ ক্যাম্পে গণহত্যা ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকায় নাৎসী বাহিনীর ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

খেমারুজদের হত্যাযজ্ঞের বিচার

কম্বোডিয়ায় খেমারুজ শাসনামলে (১৯৭৫-১৯৭৯) ভিয়েতনামের জনগণ ও মুসলিমদের গণহত্যা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয় ২০১২ সালে। জাতিসংঘ সমর্থিত কম্বোডিয়ার একটি আদালতে খেমারুজ নেতা নুওন চে ও খিউ সাম্পানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে ওই রায় ঘোষণার সময় নুওন চে’র বয়স ছিল ৮৮ বছর। আর খিউ সাম্ফানের বয়স ছিল ৮৩। তারা দু’জনই খেমারুজ শাসনামলের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ছিলেন।

খেমার রুজ শাসনামলে কম্বোডিয়ায় দেশটির জনগোষ্ঠীর এক চতুর্থাংশ অর্থাৎ ২০ লাখ মানুষ নির্যাতিত হয়ে মারা যায়।

সারিন গ্যাস হামলার বিচার

১৯৯৫ সালে জাপানের রাজধানী টোকিওর আন্ডারগ্রাউন্ডে রাসায়নিক গ্যাস হামলা চালায় অম শ্রিংকিয়ে ডুমসডে নামের একটি সংগঠন। ওই হামলায় ১৩ জন নিহত হয়েছিলেন। আহত হয়েছিলেন কয়েক হাজার মানুষ। চলতি বছর ওই হত্যাকান্ডের বিচারকাজ সমাপ্ত হয়। জুলাইয়ে অম শ্রিংকিয়ে ডুমসডের সাত সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এরমধ্যে সংগঠনটির নেতা শোকো আসারাও ছিলেন।

শোকো আসাহারা চিঝু ম্যাতসুমোটো নামেও পরিচিত ছিল। ১৯৮০ সালে তিনি অম শ্রিংকিয়ে ডুমসডে নামের ওই সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। বুদ্ধের পর নিজেকে দীক্ষাপ্রাপ্ত লোক বলে দাবি করতেন আসাহারা। এছাড়া আম শিনরিকো নামের আরেকটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন আসাহারা। ১৯৮৯ সালে জাপানে একটি ধর্মীয় সংগঠন হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি লাভ করে সেটি। এরপর অল্প সময়ের মধ্যে এটি বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের হাজার হাজার লোক এর অনুসারীও হয়ে ওঠে।

১৯৯৫ সালের সারিন গ্যাস হামলা ছাড়াও আরও কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল শোকো আসাহারা ও তার অনুসারীরা। এছাড়া ১৯৯৪ সালেও একবার সারিন গ্যাস হামলা চালিয়েছিল তারা। সেবার মৃত্যু হয়েছিল আটজনের। আহত হয়েছিল অন্তত ৬০০ মানুষ।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি/জেডএ