ঢাকা, রোববার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধির রূপকার তোফায়েল আহমেদ

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০১৮ সোমবার, ০২:৫৬ পিএম
‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধির রূপকার তোফায়েল আহমেদ

১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ থেকে মুক্তিলাভের পর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) প্রায় ১০ লক্ষ জনতার এক বিশাল সমাবেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গণসংবর্ধনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখনো অবশ্য শেখ মুজিবের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু উপাধিটি যুক্ত হয়নি। সেদিনের সমাবেশে ডাকসুর তৎকালীন ভিপি ও সর্বদলীয় ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি তোফায়েল আহমেদ তাঁকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন। এরপর থেকেই শেখ মুজিবুর রহমান ‘বঙ্গবন্ধু’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন৷ অমর ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধির রূপকার তোফায়েল আহমেদের আজ জন্মদিন।

১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ জন্মগ্রহণ করেন। মৌলভী আজহার আলী ও ফাতেমা বেগমের পুত্র তোফায়েল আহমেদ শিক্ষাজীবনে বরিশালের বিএম কলেজ থেকে বিএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। ১৯৬৬-৬৭ মেয়াদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলের (বর্তমানে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) নির্বাচিত সহ-সভাপতি (ভিপি) ছিলেন তিনি। ’৬৯ এর গণভ্যুত্থান ও ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন তিনি ডাকসুর ভিপি হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। ডাকসুর ভিপি হিসেবে ওই সময় সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেন তোফায়েল আহমেদ। ১৯৬৬-এর ৮ মে থেকে ১৯৬৯-এর ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ৩৩ মাস কারাগারে আটক থাকা বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করতে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সারা বাংলায় যে তুমুল গণআন্দোলন গড়ে তুলেছিল তার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তোফায়েল আহমেদ।

১৯৬৯ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ। পরের বছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন তিনি। পরবর্তীতে ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে ভোলার দৌলত খাঁ-তজুমদ্দিন-মনপুরা আসন থেকে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধেও ছিল তোফায়েল আহমেদের সাহসী ভূমিকা। মুক্তিযুদ্ধে তিনি মুজিব বাহিনীর অঞ্চল ভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের একজন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও তোফায়েল আহমেদ কর্মবলে নিজের পুরনো অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হলেন, হলেন আপন আলোয় আলোকিত। তাইতো নিজ এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয় তোফায়েল আহমেদ পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।

অভিজ্ঞ এই রাজনীতিবিদ বর্তমানে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর একজন সদস্য। এছাড়া তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

আজীবন স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির একজন যোদ্ধা হিসেবে লড়াই করেছেন তোফায়েল আহমেদ। একাত্তরের চেতনার বিশ্বস্ত সৈনিক তোফায়েল আহমেদকে জানাই জন্মদিনের আন্তরিক শুভেচ্ছা।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি/জেডএ