ঢাকা, রোববার, ১৩ জুন ২০২১, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সংলাপের দিকে তাকিয়ে নির্বাচন কমিশন

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ নভেম্বর ২০১৮ শনিবার, ১০:৩০ পিএম
সংলাপের দিকে তাকিয়ে নির্বাচন কমিশন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবগত করার জন্য গত বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে যান সিইসি কে এম নূরুল হুদাসহ চার নির্বাচন কমিশনার। এরই ধারাবাহিকতায় আগামীকাল রোববার নির্বাচনের তফসিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ও নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ধারণা করা হয়েছিল, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার পরই নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবে। কিন্তু আদতে তেমনটি হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক অঙ্গনে একের পর এক সংলাপের কারণে আগামীকাল অনুষ্ঠেয় বৈঠকের পরও তফসিল ঘোষণার আগে আরও খানিকটা সময় নেবে নির্বাচন কমিশন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংলাপ নিয়ে জনগণের যেমন আগ্রহ, তেমনি আগ্রহ রয়েছে নির্বাচন কমিশনেরও। সংলাপের ফলাফল যাতে ইতিবাচক হয় এবং সব দলের অংশগ্রহণ যাতে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয় তেমনটাই প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে মেরুকরণের ঘটনা ঘটেছে এবং বিভিন্ন জোট গড়ে উঠছে ও ভাঙছে। এছাড়া ১ নভেম্বর থেকে বিভিন্ন দলের সঙ্গে সংলাপের একটি ধারা শুরু হয়েছে যা আগামী ৮ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান এই রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের বিষয়ে একটু রয়েসয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে।

নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনের ৪০ দিন আগে নির্বাচন কমিশনকে তফসিল ঘোষণা করতে হয়। যদি ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ২৭ ডিসেম্বরকে আমরা নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ধরে নেই তাহলে ওই তারিখের ৪০ দিন আগের হিসেবে ১৭ নভেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার শেষ সময়। সুতরাং তফসিল ঘোষণার জন্য ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের হাতে সময় আছে। এই সময়ের মধ্যে যে কোনো একদিন তফসিল ঘোষণা করলেই চলে। অর্থ্যাৎ আগামীকালের বৈঠকের পরও নির্বাচনের হাতে বেশ কয়েকদিন সময় আছে।

নির্বাচন কমিশন মনে করছে, দেশের রাজনীতিতে সংলাপের কারণে যে স্বস্তির হাওয়া বইছে সেই হাওয়া জাতিকে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দিকে নিয়ে যেতে পারে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব জনাব হেলালুদ্দীন আহমদও বলেছেন, তারাও চান একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। এ থেকে পরিষ্কার হয়ে গেছে, চলমান সংলাপের দিকে শুধু জনগণ নয়, নির্বাচন কমিশনও তাকিয়ে আছে। নির্বাচন কমিশন দেখছে সংলাপ কোন পথে এগোয় এবং শেষ পর্যন্ত কী প্রক্রিয়ায় গিয়ে দাঁড়ায়। সেজন্যই নির্বাচন কমিশন আগামীকালের বৈঠকের পরও তফসিল ঘোষণার আগে কিছুটা সময় নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ তফসিল ঘোষণা করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে তা তিরোহিত হোক এমনটা নির্বাচন কমিশনও চাইবে না। ফলে আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে হয়তো তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।

ডিসেম্বরেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের একটি বাধ্যবাধকতা নির্বাচন কমিশনের রয়েছে। কারণ আগামী ২৭ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে আর সংবিধানের ১২৩ (ক) ধারা অনুযায়ী, প্রথম সংসদ অধিবেশন বসার তারিখ থেকে ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। কিন্তু প্রত্যেকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের নানা রকম গোলযোগে কিছু কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা কিছু কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার মতো অভিজ্ঞতা হয় যা তৃতীয় বিশ্বের সব দেশেই ঘটে থাকে। এমন সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের পর ১০ থেকে ১৫ দিনের সময় রাখে যদি কোনো কেন্দ্রে ভোট আবার গ্রহণ করতে হয়। তাই ডিসেম্বরেই নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশন বদ্ধ পরিকর।

সাধারণত তফসিল ঘোষণার পর ৪০ দিন পর সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরে ১৫ দিন হাতে রেখে তফসিল ঘোষণার ৪০ দিন পর নির্বাচন অনুষ্ঠানের মতো সময় এখনো আছে। এসব বিবেচনায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা একটু দেরি করেই দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি/জেডএ 

বিষয়: নির্বাচন , ইসি