ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

৭ নভেম্বর কী দিবস?

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর ২০১৮ বুধবার, ০১:০১ পিএম
৭ নভেম্বর কী দিবস?

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে ষড়যন্ত্রকারীরা, যার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে ওঠে। এর চরম রূপ প্রকাশ পায় সে বছরের নভেম্বরে। জাতির পিতার হত্যাকাণ্ড মেনে নিতে না পেরে ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ রক্তপাতহীন বিপ্লব ঘটিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রকারী তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করেন। কিন্তু ৭ নভেম্বর কর্নেল তাহেরের সহযোগিতায় মুক্ত হন তিনি। মুক্ত হয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন বিএনপির এই প্রতিষ্ঠাতা।

এই ঘটনাকে স্মরণ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ৭ নভেম্বরকে সিপাহী জনতার বিপ্লব দিবস হিসেবে উদযাপন করে থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন এই দিনে সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়। যদিও সেদিন সিপাহী-জনতার কোন মহান বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল তা কেউ জানে না।

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের এই দিনটির ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য নেই। আওয়ামী লীগ ৭ নভেম্বরকে ইতিবাচক-নেতিবাচক কোনো দিবস হিসেবেই পালন করে না। কারণ আওয়ামী লীগ মনে করে, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশে যে হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের ঘটনাপ্রবাহ শুরু হয়েছিল ৭ নভেম্বর তারই ধারাবাহিকতা মাত্র।

জাতীয়তাবাদী সমাজতান্ত্রিক দল জাসদও ৭ নভেম্বরকে বিএনপির মতোই সিপাহী জনতার বিপ্লব বলে মনে করে। তবে তারা মনে করে কর্নেল তাহের ছিলেন এই বিপ্লবের নেতা। কারণ সেদিন অভ্যুত্থান ঘটানো বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার নেতৃত্ব প্রদানকারী কর্নেল আবু তাহের জাসদের গণবাহিনীর সর্বাধিনায়ক ছিলেন। জাসদের মতে, তাদের বিপ্লবটি পরবর্তীতে ছিনতাই করে নেওয়া হয়।

দিবসটি ঘিরে একেক দলের দৃষ্টিভঙ্গি একেক রকম হলেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর অবস্থান ও কার্যক্রম নিশ্চিত করতে ৭ নভেম্বরের ভূমিকা রয়েছে। সেনাবাহিনীকে রাজনীতিতে জড়ানোর সর্বপ্রথম নজির এই ৭ নভেম্বর। লক্ষণীয় বিষয় হলো, যাঁরা পঁচাত্তরের ৭ নভেম্বরের সুবিধাভোগী, যাঁরা সে সময় সেনাবাহিনীকে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের জন্য প্ররোচিত করেছিল এবং রাজনীতির ময়দানে সেনাবাহিনীকে টেনে নামানোর চেষ্টা করেছিল তাঁরাই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা বলছেন। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা মনে রেখে জনগণকে এই অত্যুৎসাহী মানুষদের ব্যাপারে সাবধান থাকতে হবে। আর মনে রাখতে হবে, ৭ নভেম্বরকে আমরা যে নামেই ডাকি না কেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য তা কোনো গৌরবোজ্জ্বল দিন নয়।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি/জেডএ