ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক নাকি একতরফা?

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ নভেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০৭:৪৭ পিএম
নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক নাকি একতরফা?

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনেক রাজনৈতিক দলগুলোই অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনমুখী করতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে একের পর এক বৈঠক করেছে সরকার। এরই মধ্যে আজ ঘোষিত হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল। এমন সময়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে বাংলাদেশের আগের ১০টি নির্বাচন কেমন হয়েছে। উত্তরটাই খোঁজার চেষ্টা করছি।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত দুই ধরনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, অংশগ্রহণমূলক ও একতরফা। দেশে এ পর্যন্ত ৪ বারের নির্বাচন একতরফা অভিযোগ নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে, ২০১৪’র নির্বাচন ছাড়া কোনো প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারই তাদের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেনি।

সর্বশেষ অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বিল পাশ করায় প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও তাঁর শরিক দলগুলো এ নির্বাচন বর্জন করে। নির্বাচনে ১৪৭টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়নি। বাকি ১৫৪টি আসনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় জয় হয় আওয়ামী লীগের।

৯৬’ এর ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল একতরফা। অধিকাংশ বিরোধী রাজনৈতিক দল নির্বাচনটি বর্জন করলে বিএনপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এ নির্বাচনে জয়ী হয়। প্রায় ৪৯টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয় বিএনপি। তবে এ সংসদের মেয়াদ ছিল মাত্র ১১ দিন। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ঐ বছরই জুন মাসে আবারও সকল দলের অংশগ্রহণে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় থাকাকালীন ৮৮’র জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি ছিল বিতর্কিত ও একতরফা। নির্বাচনটি আওয়ামী লীগ, বিএনপির মতো প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ছাড়াও দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দলগুলোই বর্জন করেছিলো। প্রায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এ নির্বাচনে জয়লাভ করে জাতীয় পার্টি।

এর আগে ৮৬’র নির্বাচন বর্জন করেছিলো বিএনপির নেতৃত্বাধীন তৎকালীন সাত দলীয় জোট। তবে জাতীয় পার্টিসহ আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী দল এ নির্বাচনে অংশ নেয় এবং নির্বাচনে জাতীয় পার্টি জয়লাভ করে।

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে মোট ৬ বার। পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম ও নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণেই অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া স্বাধীনতার পরে অনুষ্ঠিত প্রথম ও দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনও ছিল অংশগ্রহণমূলক।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে এটাই সকলের প্রত্যাশা।

বাংলা ইনসাইডার/জেডআই/জেডএ