ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ: এবার কয়টি ?

প্রণব সাহা
প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বর ২০১৮ শনিবার, ১০:৩০ পিএম
রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ: এবার কয়টি ?

এবারতো জোটবদ্ধ নির্বাচনের ছড়াছড়ি। দেশে এখন নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৩৯টি। কিন্তু এসব দলের মধ্যে ঠিক কতটি আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিবে সেটা নিশ্চিত হতে হলে আগামী ২৮ নভেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের সর্বশেষ দিনটি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১০টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দল ভোটে অংশ নিয়েছিল ১৯৯৬ সালে। ৮১ টি দল ও স্বতন্ত্রসহ ঐ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন ২ হাজার ৫৮৪ জন। আর সবচেয়ে কম দল ছিল ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ বড় রাজনৈতিক দলগুলো ছিল না ভোটের মাঠে। মাত্র আটটি রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে গঠিত সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন জাসদের আ স ম আব্দুর রব।

সর্বশেষ ২০১৪ সালে ভোটে এসেছিল মাত্র ১২টি রাজনৈতিক দল। সেই নির্বাচন অবশ্য বর্জন করেছিল বিএনপিসহ দেশের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল ।এই নির্বাচনের অন্যতম প্রশ্নবিদ্ধ বিষয় ছিল ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। যদিও সেই সংসদ তার পুরো মেয়াদ শেষ করতে চলেছে। এর আগে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ভোটে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ছিল ৩৮ টি আর মোট প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৫৬৭ জন।

বিগত নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ না করাটা যে রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্ত ছিল, শনিবারও তা বলেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেনও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও তাই বলেন। যদিও বিএনপির শীর্ষ নেতারা তা কখনোই আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বীকার করেন না। এবার কিন্তু নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী রাজনৈতিক দলের কোনো কমতি নাই। সঠিক পরিসংখ্যানও পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন নাই এমন প্রায় ২০০ রাজনৈতিক দল আওয়াজ দিচ্ছে ভোট করার।  যাদের বেশিরভাগই এক/দুই নেতা এবং লেটারহেড সর্বস্ব। শুধু তাই নয় ভোটের মাঠে নামতে তারা জোট করছে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও। তাই এরই মধ্যে দাড়িয়ে গেছে বেশ কয়েকটি নির্বাচনী জোটও । আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দল , ১৪ দল আর জাতীয় পার্টি মিলে মহাজোট, বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট, বিএনপি , গণফোরাম, জেএসডি, ঐক্যপ্রক্রিয়া নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে সবাই চিনে। আছে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে ৫৮ দলের সম্মিলিত জাতীয় জোট। লেটারহেডে ছাপানো ১৪টি দল নিয়ে আরও আছে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান এর নেতা। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা কমিটির সদস্য পরিচিত রাজনীতিক ব্যারিস্টার নাজমূল হুদাও একটি জোটের নেতা। তার দাবি এই জোটে আছে ৩৪টি রাজনৈতিক দল।আছে বিকল্পধারার নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট। আবার বিকল্পধারা ভেঙে একটি অংশ যোগ দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে ।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে ২০০১ সালে ৫৫টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। এর আগে ১৯৯৬ সালে মূল নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ছিল ৮১টি। আর ১৯৯৬ সালেরই ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিতর্কিত  নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল ৪২টি দল। এই নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপির ৪৯ জন প্রার্থী। ১৯৯০ সালে সামরিক স্বৈরাচার এইচ এম এরশাদের পতনের পর দেশের প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের  অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯১ সালে। বলা যায় রেকর্ড সংখ্যক ৭৫টি রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছিল। ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ পরিচিত রাজনৈতিক দলগুলো ভোটে অংশ নেয়নি। জাতীয় পার্টি ও জাসদসহ মাত্র ৮টি রাজনৈতিক দল ছিল ঐ নির্বাচনে। ১৯৮৬ সালে দেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলেও ভোটে প্রার্থী দিয়েছিল ২৮টি রাজনৈতিক দল।   এর আগে ১৯৭৯ সালে  দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল ২৯টি রাজনৈতিক দল। বিএনপি প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর সেটিই ছিল দলটির প্রথম নির্বাচন। আর স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৭৩ সালে। আর সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ছিল ১৪টি।  

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ 

বিষয়: নির্বাচন