ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১, ১০ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ভোটের ১৫ দিন আগেই মাঠে সশস্ত্রবাহিনী

প্রণব সাহা
প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ১০:৩১ পিএম
ভোটের ১৫ দিন আগেই মাঠে সশস্ত্রবাহিনী

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন।  আর সেখানেই জানিয়েছেন সশস্ত্র বাহিনী মাঠে নামছে ১৫ ডিসেম্বর থেকে। তাহলে কি বলা যায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন  জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একটি বড় দাবি পূরণ হতে যাচ্ছে । বৃহস্পতিবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন নির্বাচন কমিশন। ভোটের আগে ও পরে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতেই ছিল এই বৈঠক। এখানেই আসে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নির্বাচনী কাজে সহায়তা করার বিষয়টি। আমরা সবাই জানি যে গত বেশ কিছুদিন থেকেই বিএনপি দাবি জানিয়ে আসছিল যে নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে নিয়োগ করতে হবে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দিয়ে ।

বিএনপির এই দাবি শক্তিশালী হয় যখন, ড. কামাল হোসেন বিএনপিকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে। এই ফ্রন্টও মূলত বিএনপির সাত দফা ও ১১টি লক্ষ্যকেই সামনে নিয়ে আসে। বিএনপির সাত দফা দাবির ৫ নং দাবি ছিল সেনা মোতায়েনের। দাবিতে বলা হয়েছিল " নির্বাচনের ১০ দিন পূর্ব থেকে নির্বাচনের পর সরকার গঠন পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত করতে হবে। "

বৈঠকের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার নূরুল হুদা জানিয়েছেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১৫ ডিসেম্বরের পর আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় করতে সেনাবাহিনীর ছোটো টিম জেলায় জেলায় পাঠানো হবে। । বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন তথা ভোটগ্রহণের ১০ দিন আগে থেকেই সেনা মোতায়েনের দাবি জানালেও নির্বাচন কমিশন এখন তা আরেকটু এগিয়ে আনতে চায় বলেই মনে হচ্ছে। কারণ ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ হলে তার ১৫ দিন আগেই সশস্ত্র বাহিনীর " ছোটো টিম " পাঠাতে চান,তাও আবার  আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমন্বয় সাধানের জন্য । "

এই ছোটো টিম বা মাঠে নামলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ভোটের ১৫ দিন আগে থেকে কি দায়িত্ব পালন করবে তা স্পষ্ট করে কিছু বলেননি প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এমনকি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ঠিক কতদিন পর্যন্ত নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে , তা জানার জন্যও হয়তো আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আব্দুল আজিজ কয়েকদিন আগেই বলেছিলেন " নির্বাচনী দায়িত্ব পেলে সেনাবাহিনী পেশাদারিত্বের সঙ্গে তা পালন করবে"।

২০০৮ সালের সেনাসমর্থিত সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করেছিলো। কিন্তু ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে সেই বিধান সংশোধন করা হয়। বলা হচ্ছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত নয় বরং সংবিধান অনুযায়ী " ইন এইড অব সিভিল এইড " হিসেবেই নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালন করবে।

আমরা জানি নির্বাচনের সময় পার্বত্য এলাকার দুর্গম এলাকায় ভোটের সরঞ্জাম পাঠানোর জন্য সহায়তা করে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার,সমুদ্র উপকূল এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে নৌবাহিনী । ফলে প্রায় সব জাতীয় নির্বাচনেই সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশের সাধারণ মানুষ এখনো আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর উপর আস্থা রাখে একটি মর্যাদাপূর্ণ নিরপেক্ষ এবং দক্ষ পেশাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে। যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগেও সবচেয়ে প্রথমেই সবাই ভরসা রাখতে চায় সেনাবাহিনীর ওপর।

বিএনপি অনেকদিন থেকেই নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনীকে বিচারিক বা ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল । কিন্তু এর বিরোধিতাকারীদের যুক্তি ছিল , পুলিশ আসামী আটক ও তদন্ত করতে পারে কিন্তু বিচার করতে পারেনা । তেমনই সশস্ত্র বাহিনীর হাতেও বিচারের ভার না দেয়ার যুক্তি তাদের। তবে এটা ঠিক যে নির্বাচনের সময় ভোটের আগে পরে , যে কোনো এলাকাতেই সেনাবাহিনীর সদস্যরা থাকলে সেখানকার মানুষ অনেকটাই নিশ্চিন্ত থাকে যে , মাস্তান এবং সন্ত্রাসীরা সেনাবাহিনীকে ভয় পায় । এই আস্থা অবশ্য তাদের নিরপেক্ষতা এবং পেশাদারিত্বের জন্য। আর সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ওপর কোনো রাজনৈতিক দলের তেমন কোনো প্রভাব নাই, প্রতিষ্ঠান হিসেবে সশস্ত্র বাহিনী তার ওপর দেয়া আইনানুগ দায়িত্ব সুচারুভাবেই পালন করতে সক্ষম। তাই নির্বাচনের সময় বেসামরিক প্রশাসনের পাশে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সহযোগী ভূমিকার কেউ বিরোধিতা করছে না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন ভোটের ১৫ দিন আগে,তার অর্থ কি ১৬ ডিসেম্বর থেকেই নামবে সশস্ত্র বাহিনী।তবে আমরা মনে করি নির্বাচন পরবর্তী সংঘাত এবং ২০০১ সালের নির্বাচনের পর আমাদের অভিজ্ঞতা ভালো নয় । তাই প্রস্তাব থাকবে ২০০৮ সালের মত ভোটের কয়েকদিন পরও সশস্ত্র বাহিনী উপজেলা পর্যায়ে বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় কাজ করবে। নির্বাচন কমিশনের সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন সম্পর্কে এখন বিএনপি কি বলে,সেটাই এখন দেখার বিষয় ।

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ