ঢাকা, রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

অভিযোগ - পাল্টা অভিযোগ

প্রণব সাহা
প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর ২০১৮ শুক্রবার, ১০:৩১ পিএম
অভিযোগ - পাল্টা অভিযোগ

মনোনয়নপত্র দাখিল শেষ হওয়ার আগেই শুরু হয়ে গেছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। জাতীয়  ঐক্যফ্রন্ট তালিকা দিয়ে দাবি জানিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের বেশ কিছু কমর্কতার অপসারন দাবি করেছে। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশনের সচিব মহোদয়ের নামও আছে। বিএনপির নেতারা নির্বাচন কমিশনে গিয়ে এই দাবির পক্ষে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পর পাল্টা চিঠি দিয়েছে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের পক্ষে সাম্যবাদীদলের দীলিপ বড়ুয়া। তাদের দাবি অকারনে বিরোধীদলের দাবি মেনে কোনো কর্মকর্তা বদলি করা যাবেনা।

২০০১ সালে বিচারপতি লতিফুর রহমানের তত্ত্বাবধায়ক সরকার শপথ নিয়েই ১৩জন সচিবসহ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল করেছিল। ঐ নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পরপরই তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে অস্বস্তি শুরু হয়েছিল আওয়ামী লীগের মধ্যে। তারপরও শেখ হাসিনা প্রথমে মেনে নিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন সরকারকে। এমনকি ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির নির্বাচনেও রাজী হয়েছিলেন। এরপর লগি বৈঠার আন্দোলন, ওয়ান ইলেভেনের সেনা সমর্থিত ফখরুদ্দীন সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে দেশের বেশীরভাগ দল। বিজয়ী হয়েছিল আওয়ামীলীগ। 

এবার তফসিল ঘোষনার পর থেকেই নানারকম দাবি তুলছি বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারস্টার মওদুদ আহমেদ তো শুক্রবার আগ বাড়িয়ে বল দিলেন যে দেশে জেলা প্রশাসনে ডিসিদের উপরে নাকি একজন করে অতিরিক্ত সচিব বসানো হচ্ছে। রবিবারে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ে খোজ নিতে হবে ঘটনা সত্য কি না? কারন অভিযোগ গুরুতর। দেশবাসী কি এই সন্দেহ করতে শুরু করবে যে, বিএনপি একের পর এমন অভিযোগ তুলে শেষ পর্যন্ত না আবার নির্বাচন বয়কট করে! কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে যারা বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার জন্য সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েছেন তাদের বেশিরভাগই সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে তারা ভোটের শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে থাকতে চান। কয়েকজনতো সরাসরিই বলছেন যে ভিডিও কনফারেন্সে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান ফলাফল ঘোষনা পর্যন্ত সবাইকে ভোট কেন্দ্রে থাকতে বলেছেন। 

বিভিন্ন স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলগুলো প্রাক নির্বাচনী যেসব রিপোর্ট ও আলোচনা অনুষ্ঠান প্রচার করছে,তাতে তৃণমূলের মানুষরা সুষ্ঠু ভোটের পক্ষে মত দিচ্ছেন। তারা নির্ভয়ে এবং নিরাপদে ভোট দিতে চান। আর এই নিরাপত্তার মূল দায়িত্ব পুলিশ প্রশাসনের। আইন শৃংখলা রক্ষায় যারা নিয়োজিত থাকবেন, তাদের নিরপেক্ষ থাকাটা ভোটযুদ্ধে সমতল ভূমী বিনির্মানের এক বড় শর্ত। তাই ভোটে দাড়ানো সব প্রার্থীই চান প্রশাসন যেন নিরপেক্ষ থাকে। এজন্য নির্বাচনে অংশ নেয়া দলগুলো আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত নানা অভিযোগ জানাতেই থাকবেন। আমরা চাই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অবশ্যই কমিশন যাচাই করে দেখবে এবং ব্যবস্থা নিবে। আবার দলগুলোও শুধু মিডিয়া কাভারেজ পাবার জন্য অযথা অভিযোগ করবে না।

বাংলা ইনসাইডার