ঢাকা, রোববার, ১৩ জুন ২০২১, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

নমিনেশনের টেনশন

প্রণব সাহা
প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর ২০১৮ রবিবার, ১০:৩০ পিএম
নমিনেশনের টেনশন

ভোট গ্রহণের দিন ৩০ ডিসেম্বর যত এগিয়ে আসবে ইলেকশন টেনশন ততই বাড়বে।তবে রোববার প্রাক-নির্বাচনী টেনশনে কিছুটা স্বস্তি নেমেছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে। আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগ থেকে কোনো তালিকা ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু    দলের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়েছে দলীয় প্রার্থীদের। তা থেকেই জানা গেলো ২৩০টি আসনে নিজ দলের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বাকি যে ৭০টি আসনে দলীয় মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়নি সেগুলো ছেড়ে দেওয়া হবে মহাজোটের শরিক দলগুলোকে। যেখানে আছে ১৪ দল এবং জাতীয় পার্টি।  

রোববার সকালে শুরু হয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মনোনয়ন চিঠি দেওয়া।  সারাদেশে আওয়ামী মহলে শুরু হয় টেনশন। শেষ পর্যন্ত দলের মনোনয়ন মিলবে কি না?

আগে থেকেই জল্পনা ছিল মনোনয়ন পচ্ছেন না আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক। দেখা গেলো গুজবই সত্য হলো। রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার এই আসনটিতে তার বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা সাদেক খান। দীর্ঘ ১০ বছরের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করেন কি না সে নিয়ে নানা গুঞ্জন ছিল। রোববার সিলেট-১ আসনে মনোনয়নের জন্য দলীয় প্রধানের চিঠি পেয়েছেন জনাব মুহিতের ছোটো ভাই জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি এম এ মোমেন। প্রায় ১৯ জন বর্তমান সাংসদ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। টাঙ্গাইল-৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য হত্যা মামলার আসামি আমানুর রহমান খান রানার বাদ পড়ার খবর বেরিয়েছিল গণমাধ্যমে। এই আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন তার বাবা আতাউর রহমান খান । বাদ পড়াদের তালিকায় আছেন, ক্রীড়া উপমন্ত্রী নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আরিফ খান জয়। সেখানে প্রার্থী হচ্ছেন আশরাফ আলী খান। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টেকনাফের আলোচিত সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির বদলে তাঁর স্ত্রী শাহিনা আক্তার চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। 

এবার প্রথমবারের মতো নওগাঁ ৫ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন নিজাম উদ্দিন জলিল। তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত আব্দুল জলিলের ছেলে। তিনি মারা যাওয়ার পর এ আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন আব্দুল মালেক। পাবনা-২ আসনে আহমেদ ফিরোজ, মাগুরা-১ এ সাইফুজ্জামান শিখর,  নেত্রকোনা-৩ আসনে অসীম কুমার উকিল, কিশোরগঞ্জ -২ এ সাবেক পুলিশ প্রধান নূর মোহাম্মদ প্রথমবারের মত প্রার্থী হতে যাচ্ছেন। 

এছাড়া, গাজীপুর ৩ আসনে দলের প্রার্থী হচ্ছেন ইকবাল হোসেন সবুজ, শরীয়তপুর ১ আসনে ইকবাল হোসেন অপু আর শরীয়তপুর ২ এ এনামুল হক শামীম প্রথমবারের মত দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন।

আওয়ামী লীগের নতুন ডেব্যু হচ্ছে এমন আরও প্রার্থীরা হচ্ছেন  সিরাজগঞ্জ ৩ আসনে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আব্দুল আজিজ, শেখ হেলালের ছেলে শেখ তন্ময় বাগেরহাট-২, এস এম শাহজাদা পটুয়াখালী-৩, ইঞ্জিনিয়ার মোজাফফর হোসেন জামালপুর-৫ এবং জাফর আলম কক্সবাজার ১ আসনে প্রথমবারের মত মনোনয়ন পেলেন।

তবে ২৩০ জন দলের চিঠি পেলেও এর মধ্যে কয়েকজন চিঠি পেয়েও টেনশনে আছেন। এদের মধ্যে একজন হচ্ছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর । চাঁদপুর-১ আসনে এখানে দলীয় মনোনয়নের চিঠি দেয়া হয়েছে দুজনকে। ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর ছাড়াও এখানে নাম আছেন মো. গোলাম হোসেনের। শেষ পর্যন্ত কে টিকবেন এই আসনে সেটাও এক বড় টেনশন। কিশোরগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ব্যাংককে চিকিৎসাধীন সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের আসনেও আরও একজনকে মনোনয়ন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে বলে জানা গেছে। জয়পুরহাট-১ আসনে দুজনকেই মনোনয়নপত্র দাখিলের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এরা হলেন আবুল কালাম আজাদ ও নূর মোহাম্মদ।

নির্বাচনের এই পর্যায়ে আওয়ামী মহলে কিছু টেনশন কমলেও এখন টেনশনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। প্রায় সাড়ে চার হাজার রাজনীতিক এবার বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছেন ৩০০ আসনের জন্য। আর এবার বিএনপি জোট করেছে গণফোরামসহ কয়েকটি দলের সাথে। তাই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং আগের ২০ দলীয় জোটের শরীকদের আসন ছেড়ে দিতে হবে বিএনপি নেতাদের। তাই চরম টেনশন চলছে বিএনপি মহলেও। সোমবার চূড়ান্তভাবে মনোনীতদের তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে বিএনপির। টেনশন আছে আওয়াম লীগ বিএনপি ছাড়াও দুই দলের সাথে জোট বাধা অন্য দলগুলোর। তাই রবিবার যখন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রাপ্তরা দলের চিঠি নিচ্ছিলেন বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আওয়ামী লীগ অফিস থেকে ,তখনই বিকল্পধারার নেতা মাহি বি চৌধুরী ছুটে গেছে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাথে বৈঠক করার জন্য। কারন বিকল্পধারার নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট দর কষাকষি করছে আটটি আসনের জন্য। মুন্সিগঞ্জ,মানিকগঞ্জ,সিলেট,সাতক্ষীরা ও পাবনার আসনগুলোতে ভাগ বসাতে চায় বিকল্পধারা । টেনশন চলছে এই মহলেও। বিএনপিকে আসন ছাড়তে হবে ঐক্যফ্রন্টকে , রেজিস্ট্রেশন না থাকলেও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হতে চান ধানেরশীষ নিয়ে। সেই মহলের টেনশনও চলবে আরো দুএকদিন। টেনশন আছে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের। আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন মনোনয়ন যারা পেয়েছেন তাদের কাছ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহারের চিঠি নিয়ে রাখা হয়েছে।  ফলে টেনশনে আছে চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রাপ্তদের অনেকেই।

বাংলা ইনসাইডার