ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সর্বোচ্চ প্রার্থী ১৯৯১ সালে ২৭৮৭, মাত্র ৫৪৩ ছিল ২০১৪’তে

প্রণব সাহা
প্রকাশিত: ২৮ নভেম্বর ২০১৮ বুধবার, ১০:৩০ পিএম
সর্বোচ্চ প্রার্থী ১৯৯১ সালে ২৭৮৭, মাত্র ৫৪৩ ছিল ২০১৪’তে

বুধবার ছিল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। মোট কতজন এবার মনোনয়নপত্র দাখিল করল কেন্দ্রীয়ভাবে তা জানতে হয়তো দু একদিন সময় লাগবে। কিন্তু এবারই সম্ভবত সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক নেতা নিজ নিজ দলের মনোনয়ন চেয়েছেন। দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকেই মনোনয়ন চেয়ে আবেদনকারীর সংখ্যা সাড়ে আট হাজার। আর জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের জন্য ৮০০ বেশি মনোনয়নপত্র বিতরণ করেছে বিএনপি। যদিও দলীয় ভাবে নয় জোটগত ভাবেই তারা নির্বাচনে প্রার্থী দিবেন। এক দল বিএনপি আছে দুই জোটে। ২০ দলীয় জোট আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক বিএনপিতে প্রার্থী হওয়ার মত নেতা অভাব থাকবে না। তাই বলে এত মনোনয়ন কেন বিতরণ করতে হলো? বুধবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল। বুধবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত ঠিক কতজন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিল তা জানতে হয়তো একটু অপেক্ষা করতে হবে।আর এবারের মনোনয়ন জমা দেওয়া কতজন শেষ পর্যন্ত বাছাইয়ে টিকলেন বা মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন সেজন্যও অপেক্ষা করতে হবে আগামী ৯ ডিসেম্বর। কারণ ২ ডিসেম্বর যাচাই-বাছাই এবং ৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। অতীত পরিসংখ্যান বলছে ২০১৪ সালের নির্বাচনে সবচেয়ে কম ৫৪৩ জন প্রার্থী ছিলেন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। এই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। আর ১৫৩ আসনেই প্রার্থীরা জয়ী হয়েছিলেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। আর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এক দশকের প্রত্যক্ষ পরোক্ষ সামরিক শাসন শেষে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক ২ হাজার ৭৮৭ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

দেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৭৩ সালে। ১৪টি রাজনৈতিক দল প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। ঐ নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ১হাজার ৮৯ জন।দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭৯ সালে। সেবার নির্বাচনে অংশ নেয়া দলের সংখ্যা ছিল ২৯টি। আর প্রার্থী ছিলেন ২ হাজার ১২৫ জন। তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮৬ সালে। স্বতন্ত্রসহ ২৮টি দলের প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ১২৪ জন। বিএনপি এই নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত ছিল। ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে দেশের দুই বড় দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি অংশ নেয়নি। মাত্র ৯টি দল ছিল ঐ নির্বাচনে। প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৯১৯ জন। গণঅভ্যুত্থানে সামরিক স্বৈরশাসনের অবসানে পতন হয়েছিল এইচ এম এরশাদের। তারপর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ৭৫টি রাজনৈতিক দল ভোটে প্রার্থী দিয়েছিল ২ হাজার ৭৮৭ জনকে। এর মধ্যে অবশ্য স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও ছিলেন। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। অংশ নিয়েছিল ৮১টি রাজনৈতিক দল। আর প্রার্থী ছিলেন ২ হাজার ৫৭৪ জন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর ভোট হয়েছিল। তখন ৫৪টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল। আর প্রার্থী ছিল ১ হাজার ৯৩৯ জন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের ভোটে অংশ নিয়েছিল ৩৪টি রাজনৈতিক দল। সেবার প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৫৬৭ জন। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি-জামায়াতের ২০ দলীয় জোট। মাত্র ১২টি দল ছিল ভোটের মাঠে। স্বতন্ত্রসহ প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৫৪৩ জন।

আশা করা যাচ্ছে, এবারই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক দল নির্বাচনে অংশ নিবে যদিও নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আছে মাত্র ৩৯টি। এবার তাই ভোট দাঁড়িয়েছে জোটের কোটায়। কত জোট আর সেসব জোটে কতদল তার পরিসংখ্যান দেওয়া খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে এমনকি সাংবাদিকদের জন্য। ভোট নাই কিন্তু জোটের কোনো শেষ নাই। আর বড় বড় যে রাজনৈতিক দল তাদেরও প্রার্থীর অভাব নাই। ৩০০ আসনে মনোনয়নের জন্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলই মনোনয়নের আবেদনপত্র বিক্রি করেছে চার হাজারেরও বেশি করে। আর ৩০০ আসনের জন্য ৮০০ জনের বেশী প্রার্থীকে চিঠি দিয়ে একরকম রেকর্ড করেছে বিএনপি। আওয়ামী লীগও ১০টি আসনে দুজন করে প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার চিঠি দিয়েছেন। শেষ মুহূর্তের জোটের প্রার্থীদের মধ্যে আসন ভাগাভাগি আর সম্ভাব্য যোগ্য প্রার্থী ঠিক করে দলীয় প্রতীকের জন্য চূড়ান্ত তালিকা জানা যাবে ৯ ডিসেম্বরের পর। এরপরও হয়তো থাকবেন বিদ্রোহী প্রার্থী। তবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আগেই জানিয়েছেন যে যাদের মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়েছে তাদের সবার কাছ থেকেই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য সাদাকাগজে স্বাক্ষর নিয়ে রাখা হয়েছে। তাতে করে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হবার সুযোগও ক্ষীণই মনে হচ্ছে।

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ