ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

মহাসচিব নাকি জাপার আম-ছালা?

প্রণব সাহা
প্রকাশিত: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮ সোমবার, ১০:৩০ পিএম
মহাসচিব নাকি জাপার আম-ছালা?

আগের দিন মনোনয়ন বাতিল,পরের দিন দলের পদ হারালেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার। গ্রামদেশের প্রবাদ যেন `আমও গেলো ছালাও গেলো’। ঋণখেলাপির দায়ে রিটার্নিং অফিসার তাঁর মনোনয়ন বাতিল করলেও কোন পাপে মহাসচিবের পদ হারালেন তার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। তবে অভিযোগ উঠেছিল মনোনয়ন বাণিজ্যের। সোমবার আকস্মিকভাবেই বার্তাকক্ষে এসেছিল জাতীয় পার্টির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি। জানা গেলো রুহুল আমিন হাওলাদারকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। এমনকি নতুন মহাসচিব নিজেই বলেছেন যে আপনারা শুধু নয় জাতীয় পার্টির অনেকেই জানতেন না যে আজ আমাকে মহাসচিব করা হবে।  যিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে পারেন বলেও জানিয়েছেন নতুন মহাসচিব স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা।

জাতীয় পার্টি যখন মনোনয়নের আবেদন বিক্রি শুরু করেছিল,তখন থেকেই গুঞ্জন উঠেছিল দলের মহাসচিবের বিরুদ্ধে। আর যখন মনোনয়ন চূড়ান্তের পথে তখনই উঠলো মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ। দলের নতুন মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ‘মনোনয়ন বাণিজ্যে কেউ জড়িত থাকলে প্রয়োজনে তা তদন্ত করা হবে।’ একেতো মহাজোট করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করে নির্বাচন করবে জাতীয় পার্টি, তারও আবার মনোনয়ন বাণিজ্য। আর এমন সময়ই অসুস্থ দলের চেয়ারম্যান। এমনকি কয়েকদিন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালেও ছিলেন সাবেক সেনাপ্রধান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ।

দলগত ভাবে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে দর কষাকষি করলেও দলটির চেয়ারম্যান ও মহাসচিব দুজনের দুটি আসনেই দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ দুটি আসন ঢাকা-১৭ রাজধানী ঢাকার অভিজাত গুলশান-বনানীতে এইচ এম এরশাদ মহাজোটের প্রার্থী হবেন কি না ,তা এখনো অনিশ্চিত। তবে পটুয়াখালী-১ আসনের সাংসদ রুহুল আমিন হাওলাদারের মনোনয়ন ঋণখেলাপির দায়ে বাতিল হয়েছে। দলের মহাসচিব পদটিও হারালের দলের চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তে। এর আগে তার নির্বাচনী এলাকায় বিক্ষোভ করেছিলেন তার দলের লোকরাই, তাঁর বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিলের খবরও বেরিয়েছিল গণমাধ্যমে।

জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা জানিয়েছেন তার দল আওয়ামী লীগের কাছে ৫২টি আসন দাবি করেছে। পৃথক সূত্র বলছে জাতীয় পার্টি আসন চায় ৪৭টি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ২৫টিতে কোনো মনোনয়ন দেয়নি। ২০০৮ সালে জাতীয় পার্টিকে প্রথমে ৪৯টি আসন দিতে রাজি হলেও পরে আওয়ামী লীগ সেখান থেকে সরে আসে। ৩৫টি আসনে ছাড় দেওয়া হলেও ১৪টি আসনে ছিল নৌকার প্রার্থীও। এবারও অনেক আসনেই আওয়ামী লীগের নৌকা এবং জাতীয় পার্টির লাঙ্গল থাকবে বলেই আভাস দিচ্ছে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সূত্রগুলো।

এখনো মহাজোটের আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হয়নি। অসুস্থতায় ভুগছেন জাপার প্রধান। আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়নের পর বাতিল হলো জাপা মহাসচিবের মনোনয়নপত্র এবং দলীয় পদ। নব নির্বাচিত মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গাকেও একবার বহিষ্কারের হুমকি দিয়েছিলেন জাপা চেয়ারম্যান। এর আগেও জাতীয় পার্টির মহাসচিব আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকেও আকস্মিকভাবে ফ্যাক্স পাঠিয়ে অব্যাহতি দিয়েছিলেন এইচ এম এরশাদ। দল থেকে বেরিয়ে নতুন দল জাতীয় পার্টি-জেপি বানিয়েছেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এখন মন্ত্রিসভার সদস্য । হঠাৎ করেই মহাসচিব থেকে বাদ পড়েছিলেন জিয়াউদ্দিন বাবলু । এবার বাদ পড়লেন রুহুল আমিন হাওলাদার। তার স্ত্রী রত্না হাওলাদারের প্রার্থিতার বিষয়টিও অনিশ্চিত। এখন ঝুলে আছে আসন ভাগাভাগির বিষয়টি। ঝুলন্ত জাতীয় পার্টির ভবিষ্যত কি এবারের নির্বাচন , শুধু মহাসচিব নয় এইচ এম এরশাদও কি হারাবেন আম-ছালা, দুইই । ভবিষ্যত বিরোধীদলীয় নেতার আসন আর বিশেষ দূতের পদ নিয়ে চিন্তিত সাবেক এই সামরিক জান্তা।

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ