ঢাকা, শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

এরশাদকে ‘না’ বলুন

জাহিদ আব্দুল্লাহ
প্রকাশিত: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০৮:০৫ এএম
এরশাদকে ‘না’ বলুন

আজ ৬ ডিসেম্বর। এই দিনে তৎকালীন স্বৈরশাসক লে. জে. হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে জয় হয়েছিল বাঙালির। স্বৈরাচার হটিয়ে আমরা প্রতিষ্ঠা করেছিলাম গণতন্ত্র। কিন্তু স্বৈরাচার চলে গেলেনও এখনো গণতন্ত্রের জন্য এক বিষফোঁড়া হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। গণতন্ত্রকে ক্ষতবিক্ষত করা, প্রশ্নবিদ্ধ করা, কলুষিত করা, কদর্য করা এর সবই করছেন এরশাদ। গণতন্ত্রেরই বড় শত্রু এই সাবেক স্বৈরাচার। গণতন্ত্র ও এরশাদ কখনোই একসঙ্গে যায় না। ভোট নিয়ে এত সুন্দর একটি আয়োজন আজ কালিমালিপ্ত হতে বসেছে শুধু এরশাদেরই কারণে। এরশাদ ও গণতন্ত্র যে পরস্পর বিরোধী তা বারে বারেই প্রমাণ করেছেন এরশাদ নিজেই। ২০১৪ তে একবার প্রমাণ করেছেন, এবারও প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নিজেকে নিলামে তুলে রাজনীতিতে পঙ্কিলতা ছড়ানো, বেচা-কেনা সবাই করেছেন সাবেক স্বৈরাচার।

৯০ এ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যই ছিল স্বৈরাচার মুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষে। ৯ বছর ধরে ক্ষমতা আগলে রাখা লে. জে. হু. মু এরশাদকে টেনে হিচড়ে নামিয়েছিল জনতা। স্বৈরাচার এরশাদকে ক্ষমতা থেকে সরালেও বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করা যায়নি। রাজনীতিতে থেকেও বিতাড়িত হননি এরশাদ। বরং, এরশাদ বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঝুলে আছেন পেন্ডুলামের মতো। যে কোনো দলের ক্ষমতায় যাওয়ার একটি সহযোগী শক্তি (অক্সিলারি ফোর্স) এই সাবেক স্বৈরাচার।

৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে আকাঙ্ক্ষা ছিল জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে এই বাংলাদেশে। দেশের রাজনীতিতে কেনা-বেচা, ভোট বাণিজ্য, নষ্টামি থাকবে না। কারণ এসবেরই প্রতীক ছিলেন এরশাদ। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের শত্রুটি কে- এমন প্রশ্নের উত্তরে দেশের মানুষের মনে প্রথমেই আসবে সাবেক স্বৈরাচার এরশাদের কথা। এখনো বাংলাদেশের বুকে রয়ে গেছে এরশাদ ক্ষত। এই ক্ষত দূর করতে না পারলে কখনো বিপদমুক্ত হবে না বাংলাদেশের গণতন্ত্র।

রাজনীতির কী নির্মম পরিহাস, ক্ষমতার লোভে সবগুলো রাজনৈতিক দলই এরশাদকে ব্যবহার করেছে। এখনো ব্যবহার হয়ে চলেছেন এরশাদ। যতদিন এরশাদ বাংলাদেশের রাজনীতিতে আছেন, সত্যিকারের গণতন্ত্র ততক্ষণ বাংলাদেশে কখনোই হবে না।

এরশাদ পতনের পর সবার আকাঙ্ক্ষা ছিল, এরশাদের বিরুদ্ধে অবৈধ ভাবে ক্ষমতা দখলের মামলা হবে। জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনু মামলাটি করেছিলেন। কিন্তু মামলা এগোয়নি। এরশাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আরেকটি মামলা ছিল মঞ্জুর হত্যার। জিয়াউর রহমানের ক্যু এর পর মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুরকে হত্যা করা হয়। কিন্তু এই মামলাও কোনোদিন সমাধান হবে না বলেই ধরা যায়। রাজনৈতিক দলগুলো এই মামলা করছে এরশাদকে ‘ব্লাকমেইল’ এর হাতিয়ার হিসেবে।

আর সুযোগ পেয়ে সাবেক স্বৈরাচার বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন কোনো হেন কাজ নাই করেননি। প্রতিবারই নির্বাচনে চলছে তাঁর মনোনয়ন বাণিজ্য। এবার তো রাজনীতির মাঠে নিজেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছেন। নিজেকে নিলামে উঠাচ্ছেন এরশাদ। বাংলাদেশে রাজনীতিকে ভাঁড়ামি নিয়ে এসেছেন তিনিই।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে মুক্তির পথ একটাই। আজ স্বৈরাচার পতনের দিনে সব রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সিদ্ধান্ত নিবে হবে। ৯০ এর মতোই এক হয়ে নিষিদ্ধ করতে হবে সাবেক স্বৈরাচারকে। আর এর মাধ্যমে গণতন্ত্রে আমরা অনেক এগিয়ে যাবো।

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ