ঢাকা, শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘১৯৭১ ই তো আমাকে স্বাধীনতা দিয়েছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০৯:৩২ এএম
‘১৯৭১ ই তো আমাকে স্বাধীনতা দিয়েছে’

আমাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেছে বা দেখেনি, সবার কাছেই। তবে মুক্তিযুদ্ধকে যারা প্রত্যক্ষ করেছে আর যারা প্রত্যক্ষ করেনি- তাদের আদর্শ অনেকটাই আলাদা। আমাদের বর্তমান বিশাল একটা প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধকে দেখেনি। তাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধ ও তার চেতনা ধারণ নিয়ে আমরা জানতে চেষ্টা করেছি। এর বাইরে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান ও তালিকা, রাজাকারদের পরিণতি ও রাজনীতিতে আসীন থাকা, মুক্তিযোদ্ধা কোটার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে তরুণরা কি ভাবছে, বিজয়ের মাসে সেগুলো নিয়ে থাকছে বাংলা ইনসাইডারের বিশেষ আয়োজন ‘বিজয়ের মাসে প্রজন্মের ভাবনা’।

উম্মে হাবিবা সীমা

সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

ছোটবেলা থেকেই শুনতাম বড়চাচা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। প্রায়ই দেখতাম পারিবারিক আড্ডায় তিনি সেই সময়ের বিভিন্ন আলোচনা শুরু করতেন। তখন সব আগ্রহ নিয়ে না শুনলেও বড় হয়ে তিনিই পরবর্তীতে স্বাধীনতা আমার সব জানাবোঝার উৎস।

কিন্তু যতটুক শুনেছি রাষ্ট্রীয়ভাবে চাচার কোনো স্বীকৃতি ছিল না মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় তার নাম থাকলেও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থেকে তিনি বঞ্চিত। এমন অনেক সুবিধাবঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধাদের কথা আমরা জানি। তারা আমাদের আশেপাশেই ছড়িয়ে রয়েছে। তার বেশিরভাগ সহযোদ্ধারা যুদ্ধে শহীদ হন নৃশংসভাবে। তাদের কথা বলতে গিয়ে তিনি এখনো কেঁদে ফেলেন। আমার নিজেরও কষ্ট হয় অসম্ভব। তাদের জন্যই স্বাধীনতা পেয়েছি, এতো স্বচ্ছন্দ্যে চলতে ফিরতে পারি এখন। ১৯৭১ ই তো আমাকে স্বাধীনতা দিয়েছে।

ভাবতে অবাক লাগে যে এখন পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা নেই। সেখানে তাদের সুযোগ সুবিধার কথা তো বাদই দিলাম। তবে আমি চাই তাদের তালিকা হোক, সেই অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা পাক তারা, পরিবার নিয়ে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকুক।

আর রাজাকারদের সঠিক তালিকা প্রয়োজন কিনা সে প্রসঙ্গে মনে হয় আসলেই তালিকা দরকার। কেননা কে রাজাকার বা কে রাজাকার নয় তা নিয়ে এখনো মতভেদ আছে। তালিকা থাকলে সঠিক অপরাধী আর তার ইতিহাস জানতে পারতাম, তাদের মুখোশটা সবার সামনে তুলে ধরতে পারতাম আমরা। এতে করে তাদের বিচারপ্রক্রিয়াও আরও সহজ আর তাড়াতাড়ি হবে মনে হয়। আমাদের গ্রামে এখনো কিছু এলাকাঘোষিত রাজাকার রয়েছে জানি, কিন্তু তাদের সঠিক কোনো বিচারের প্রক্রিয়ায় আনা হয়নি কারণ তারা তালিকাভূক্ত নয়! অথচ অপরাধের যথেষ্ট প্রমাণ সবার মুখে আমি শুনেছি।

মুক্তিযোদ্ধা কোটা প্রসঙ্গে আমি বলবো যে বিষয়টি একটু সেনসেটিভ। কোটার কিছুটা প্রয়োজনীয়তা আছে মনে হয়। কিন্তু স্বাধীনতার এতগুলো বছর পার হওয়ার পরে খুব বেশি শতাংশ কোটার প্রয়োজন নেই। নির্দিষ্ট পরিমাণ দেওয়াটাই সমীচীন। বা আরও বেশি প্রজন্মের মধ্যে কোটা সুবিধা দেওয়ারও সীমাবদ্ধতার প্রয়োজন বলে আমার মনে হয়।

সবচেয়ে খারাপ লাগে যখন দেখি যুদ্ধাপরাধীরা রাজনৈতিক পদে দায়িত্ব পালন করেন। যারা দেশের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালাতে দ্বিধাবোধ করেনি, তারা কীভাবে দেশ চালানোয় ভূমিকা রাখে তা নিয়ে আমার যথেষ্ট অসন্তোষ কাজ করে।

সবশেষে আমি বর্তমান তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হয়ে বলতে চাই যে, দেশটা তো সবারই। এখন আমাদের হাতে অনেকটা দায়িত্ব। মুক্তিযুদ্ধতে অবদান রাখতে না পারলেও যে দেশটি পেয়েছি, তাকে ভালো রাখতে আমাদের ভূমিকা অনেক বেশি। এর চেতনাকে বুকে ধারণ করতে আমাদের সৎপথে কাজ করতে হবে।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/জেডএ