ঢাকা, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ফখরুলের ধন্যবাদ বজায় থাকুক

প্রণব সাহা
প্রকাশিত: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ১০:৩০ পিএম
ফখরুলের ধন্যবাদ বজায় থাকুক

অবশেষে নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে যথারীতি বজায় রেখেছেন পুরোনো অভিযোগ, ‘এখনো নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হয়নি।’ বিএনপির যেসব সম্ভাব্য প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল, আপিলে তাদের অনেকের আবেদন বৈধ ঘোষণা করায় এমন মন্তব্য করেছেন তিনি। রিটার্নিং অফিসার বাতিল করে দেওয়ার পর অনেকগুলো মনোনয়নকে বৈধতা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের আপিল কর্তৃপক্ষ। আচ্ছা এই ধন্যবাদই কি প্রমাণ হয় যে রিটার্নিং অফিসাররা ঠিকভাবে যাচাই বাছাই না করেই এত বেশি মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিল। তবে বৃহস্পতিবারের আপিলে কিন্তু বিএনপির কেন্দ্রীয় দুই নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু আর মীর নাসিরউদ্দিনের আপিল আবেদন প্রত্যাখ্যান  করেছে নির্বাচন কমিশন। ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের আপিলও গৃহীত হয়নি। তিনদিনের প্রথম দিনে নির্বাচন কমিশন ১৫৮টি আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করেছে। এর মধ্যে আপিল শুনানিতে ৮১টি মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭৭টিকে বাতিল বলেছে নির্বাচন কমিশন। স্থগিত হয়েছে দুইটি।

আমরা চাই নির্বাচনের শেষ দিন ভোটগ্রহণ এমনকি ভোটের ফলাফলের পরও বিএনপির নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানাক। কারণ এ কে এমন নুরুল হুদার নেতৃত্বে বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠিত হওয়ার পর থেকেই বিএনপি তার বিরোধিতা করছিল। আর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা বলেছিলেন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূতিয়ালি করা তার কাজ নয়। ২০০১৪ সালের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপি শুরুতে রাজপথের যে আন্দোলন করেছিল, বিশেষ করে নির্বাচনে এক বছর পর ২০১৫ সালের যে জ্বালাও পোড়াও এবং অবরোধের রাজনীতি নিয়ে মাঠে নেমেছিল বিএনপি তা কোনো ফলাফল ছাড়াই রাজনীতির চোরাগলিতেই হারিয়ে গিয়েছিল।

দেশের দুই প্রধান প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে নির্বাচনের আগে কোনো সংলাপ হবে, তা দেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল আগে থেকে আচ করতে পারে নাই। কিন্তু এ বছরের শেষ প্রান্তে, বলা হয় নভেম্বরে হঠাৎ করেই রাজনীতির দৃশ্যপটে সক্রিয় হোন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তারপর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন, গণভবনে তার নেতৃত্বে বিএনপির নেতাদের গমন এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোটের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনা,সবই ঘটে যায় ভোজবাজির মত। এমনকি বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলার বিচারিক আদালতের  রায় ৫ বছর, হাইকোর্টে দ্বিগুণ হওয়া , তার মুক্তি না পাওয়ার পরও বিএনপির নির্বাচনে রাজী হওয়াটাও একটু বিস্ময়কর ছিল বৈকি ?

তারপর নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য বিএনপির আবেদনকারীদেরই বেশি মনোনয়নপত্র বাতিল হলো। কিন্তু আপিলে কয়েকজনের মনোনয়ন বৈধ হওয়ার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানানোকে কি একটু খটকাই লাগলো। এটা ঠিক এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপির জন্য কঠিন ছিল। আবার বিএনপি ছাড়া আরও একটি নির্বাচন করে যে আওয়ামী লীগ পাড় পাবে না সেটাও ঠিক। তাই  আমরা আশা করি বিএনপির নির্বাচনে অংশ নেওয়া শেষ পর্যন্ত টিকে থাকাটাই এখন বড় বিষয়। আর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ধন্যবাদ দিয়েও যে নির্বাচন কমিশনকে অভিযুক্ত করে রাখলেন, তাও কিন্তু বিবেচনায় রাখা দরকার। কারণ এবারই প্রথম বিএনপি নির্বাচনে আছে কিন্তু দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রার্থী হতে পারছেন না। আবার খালেদা জিয়া ভোটের আগে কারাগার থেকে বের হবেন এমন কোনো আভাসও মিলছে না। দেশে নেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও । তাই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে বিএনপির টিকে থাকাটাই হবে দেশবাসীর জন্য বড় ‘ধন্যবাদ’ ।   

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ