ঢাকা, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ধানের শীষ, কূলা আর নৌকায় মেজর মান্নান!

প্রণব সাহা
প্রকাশিত: ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮ শুক্রবার, ১০:২৯ পিএম
ধানের শীষ, কূলা আর নৌকায় মেজর মান্নান!

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে মূলত দুটি প্রতিকে ভোট হয়। আর এই দুটি মার্কা হলো নৌকা ও ধানের শীষ। আর এই দুই মার্কায় প্রার্থী হয়ে ভোট করার ‘বিরল কৃতিত্বের’ অধিকারী হচ্ছেন দুই রাজনীতিক। এখনো প্রার্থীতা প্রত্যাহারের সময় আছে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু আজ জানা গেলো বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব:) আব্দুল মান্নান এবার নৌকা প্রতীকের প্রার্থী। এর আগে ২০০৮ সালে তিনি নির্বাচন করেছিলেন বিকল্পধারার কূলা মার্কা নিয়ে। আর ১৯৯১ সালে বিএনপির প্রার্থি হিসেবে ধানের শীষ নিয়ে ভোট করে হারিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে। সেই জয়ের পুরস্কার হিসেবে খালেদা জিয়ার প্রথম মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হয়ে মুক্তিযুদ্ধে বাঙালীর বিরুদ্ধে লড়েছেন যিনি। আর শুক্রবার আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে বসে তিনি হাতে পেয়েছেন নৌকা মার্কার চিঠি। বিকল্পধারার নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে আরো দুটি আসনে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন মাহি বি চৌধুরী ও এম এম শাহীন। মৌলভীবাজারের কূলাউড়া থেকে এর আগে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন ধানের শীষে। এবার ওড়াতে চান নৌকার পাল। তবে মাহি বি চৌধুরী ধানের শীষ ধরতে পারেননি। বরং কূলা দিয়ে ধানের চিটা ঝাড়ার চেষ্টা করে সফল হয়েছিলেন বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে। মুন্সিগঞ্জের উপনির্বাচনে পরাজিত করেছিলেন ধানের শীষের প্রার্থীকে। যে ধানের শীষের দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব তার বাবা অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী ।

অন্যদিকে এর আগে নৌকা মার্কায় প্রার্থী হয়েছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না। এবার তিনি ধানের  শীষের প্রার্থী। দলবদলের চরমে পৌছেছে এবারের নির্বাচন ১৯৯১ সালে নৌকা মার্কা নিয়ে প্রার্থী হয়েছিলেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের এক সময়ের প্রভাবশালী নেতা মোস্তফা মোহসীন মন্টু। গনফোরামের নেতা বিএনপির সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়ে এবার হাতে তুলে নিচ্ছেন বিএনপির মার্কা ধানের শীষ। গনফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন অবশ্য নৌকার বৈঠা চালিয়েছেন দীর্ঘদিন। তারপর গনফোরাম গঠন করে মার্কা নিয়েছিলেন ‘উদীয়মান সূর্য’ । কিন্তু সেই সূর্য নির্বাচনী রাজনীতির আকাশে আলো ছড়ায়নি কখনই। আর এবারতো তিনি ঐক্য করে বিএনপির নেতাদের গনভবনে নিয়ে সংলাপ করে নির্বাচনে সবদলের অংশগ্রহন নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু তিনি নিজে প্রার্থী হলেন না , তাই ধানের শীষের ব্যানারের নিচেই দেখা গেলো তাকে, কিন্তু ধানের শীষের প্রতীকে নিজের জন্য ভোট চাইতে হলো না। হয়তো চাইবেন জাতীয় ঐক্যফন্টের প্রার্থীদের জন্য ধানের শীষকে জয়ী করানোর জন্য।

কিভাবে উল্টে যায় রাজনীতির প্রেক্ষাপট। প্রবাদ আছে ‘রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নাই’ আর এই নৌকা ধানের শীষে প্রার্থী বদলের খেলায় এখন বলা যায় রাজনীতিতে আর্দশ বলে আর কিছু থাকলো না। আমি ভাবি লক্ষীপুরের সেই নির্বাচনী এলাকার আওয়ামী লীগের সমর্থকদের কথা। তারা কিভাবে ভোট চাইবেন মেজর আব্দুল মান্নানের জন্য ,যিনি কি না পাকিস্তানী শক্তির দোসর হিসেবে ১৯৯১ সালে ভোটযুদ্ধে পরাজিত করেছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে। আর রাজধানীর যে আসনে লড়বেন মোস্তফা মোহসীন মন্টু । তিনি কিভাবে মানুষের দোরগোড়ায় যাবেন ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে। এই সেদিনও যিনি নিজেকে মুজিব সৈনিক বলতেন। আওয়ামী লীগ ছেড়ে নতুন দল গড়েছিলেন গনফোরাম। কিন্তু কখনও কি ভেবেছিলেন তিনি প্রার্থী হবেন ধানের শীষের!

বাংলা ইনসাইডার