ঢাকা, বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ২ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষায় সহিসংতা বেশি, অতীতের পরিসংখ্যান বলছে কম

প্রণব সাহা
প্রকাশিত: ২২ ডিসেম্বর ২০১৮ শনিবার, ১০:৩০ পিএম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষায় সহিসংতা বেশি, অতীতের পরিসংখ্যান বলছে কম

১০ বছরের পুরোনো আচরন বিধি দিয়ে হচ্ছে ২০১৮ সালের নির্বাচন। আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের প্রচার প্রচারনা এখন তুঙ্গে। বড় ধরনের হানাহানি বা নির্বাচনী সহিংসতায় খুব বেশি মানুষের প্রাণহানি না হলে ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রায়ই সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল শনিবার মন্তব্য করেছেন ‘সহিংসতার মাত্রা হয়তো অতীতের চেয়ে একটু বেশি।’

নির্বাচনের আগে পরে সহিংসতা কারো কাম্য নয়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে। যদিও এবার নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার আগে দুজন এবং প্রচার শুরু হওয়ার পর নির্বাচনী সহিসংতার কারণে এখনো প্রানহানি ৪জনে সীমাবদ্ধ আছে । যদিও তথ্য পরিসংখ্যান বলছে বিগত দিনের নির্বাচনগুলোতে এর চেয়ে বেশি সহিংসতাজনিত প্রাণহানি বেশি ছিল ।

গনমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বলছে ১০ ডিসেম্বর প্রতিক বরাদ্দের পর থেকে সারাদেশে নির্বাচনী সহিংসতায় শতাধিক কর্মী আহত হয়েছেন । নিহত হয়েছেন ২ জন। নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সংস্থা এবং গণমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষন করে দেখা যায় ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি। তখন তারা ভোটবর্জন ও ভোট প্রতিহত করার আন্দোলন ঘোষণার কারনে ভোটের আগে পরে ৫৭ জন সাধারন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ভোট কেন্দ্রে হামলার কারনে মারা গিয়েছেন দুইজন প্রিসাইডিং অফিসার। ২০০৮ সালে ভোটের আগেই রাজনৈতিক সংঘাতে, ২৭দিনের টানা অবরোধে মারা গিয়েছিল প্রায় শতাধিক মানুষ।২০০১ সালের ১ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত ভোট গ্রহণের আগের এক সপ্তাহেই নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতায় প্রাণ হারার ৩৮ জন মানুষ। ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বর্জন করেছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনরত আওয়ামী লীগ। সেই নির্বাচনে গঠিত সংসদ সংবিধানের ১৩তম সংশোধনী করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান সংবিধানে যুক্ত করেছিল। এরপর ৩০ মার্চ সংসদ বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়ে নতুন নির্বাচন হয়েছিল ১২ জুন। পাঁচ মাসের ব্যবধানে অনুষ্ঠিত দুটি নির্বাচনেও প্রাণ হারিয়েছিল ৪১ জন।

আগের নির্বাচনগুলোর প্রাণহানির এসব পরিসংখ্যান বলে না যে, এবারের সহিংসতার পরিমান আগের চেয়ে  খারাপ। তারপরও আমরা প্রতিদিন শুনছি বিএনপি এ জাতীয় এক্যফ্রন্ট থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে যে সারাদেশে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে বিরোধীদের মিছিল-মিটিংয়ে হামলা করা হচ্ছে । আর মামলা দিয়ে হয়রানি ও গ্রেপ্তারের ব্যাপারে পুলিশের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলা হচ্ছে। আর নির্বাচন কমিশন বলছে যে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া তাদের পক্ষে ব্যবসআ নেয়া সম্বব হবে না। যদিও একাধিক এসপি,ডিসিসহ বেশ কয়েকজন  ওসিকে প্রত্যাহার করেছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশন তাদের গনবিজ্ঞপ্তিতে বলেছে এবার ২০১৮ সালের নির্বাচনেও রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরন বিধিমালা ২০০৮ অনুযায়ী সভা-সমিতি অনুষ্ঠানের নিয়মাবলী অনুসরন করতে হবে। এই নিয়মে বলা হয়েছে  কোথাও কোনো নির্বাচনী সভা করতে হলে প্রস্তাবিত সভার কমপক্ষে ২৪ ঘন্টা আগে সভার স্থান এবং সময় সম্পর্কে পুলিশ কতৃপক্ষকে জানাতে হবে। জনগনের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো সড়কে জনসভা করা যাবে না। প্রশ্ন উঠতেই পারে কঠিন একটি আচরন বিধি থাকার পর কেন নানা স্থানে প্রায় প্রতিদিনই হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এমনকি এখন পর্যন্ত যে দুজন মারা গেছেন তারা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের র্কমী। শনিবার কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিমা আহমাদের ওপর বোমা হামলা হয়েছে।

কোথাও কোথাও পুলিশ বিশেষ পক্ষপাতমূলক আচরন করছে বলেও অভিযোগ এসেছে। ৩০ ডিসেম্বরের ভোট গ্রহণের আগে আর মাত্র সাতটি দিন হাতে আছে। আইন শৃংখলা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসন যদি সতর্ক এবং নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে,তাহলে নির্বাচন সংঘর্ষ  কম হবে বলেই আমরা বিশ্বাস করতে চাই। তাই ভোট গ্রহণের আর কয়েকটা দিন যদি সবাই র্ধৈয্য ধরেন তাহলে অতীতের অনেক নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে ভোটের আগে-পরে সহিংসা কম হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।