ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘ভোটের গণ-অভ্যুত্থান?’

প্রণব সাহা
প্রকাশিত: ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮ শুক্রবার, ১০:০২ পিএম
‘ভোটের গণ-অভ্যুত্থান?’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারের শেষ বাক্য ‘নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে এক গণ-অভূত্থানের দিন হবে ৩০ ডিসেম্বর’। নির্বাচনের প্রচার শেষ,এখন শুধু ভোট গ্রহণের অপেক্ষা। তেমন একটা সময়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারের এই বাক্যটি উদ্ধৃত করছি এজন্য যে ভোটের ৪৮ ঘন্টা আগে বলা যায় দেশে এখন ভোটের দিন ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতির আশা,উৎসাহ আবার আশঙ্কা সবই আছে। যে গণ-অভ্যুত্থানের কথা বলেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তা কি নির্বাচনে তাদের বিজয়ের ইংগিত,নাকি অন্যকিছু। আওয়ামী লীগ নেতারাতো এরই মধ্যে বলে ফেলেছেন যে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট নানা সংঘাত করার পায়তারা করছে। অন্যদিকে বিএনপির শীর্ষনেতারা অভিযোগ করছেন যে নাশকতার আশঙ্কা করা হচ্ছে শুধু বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের জন্য। আর এই গ্রেপ্তারের বড় অংশ তারাই ,যারা ভোটের দিন বিএনপি প্রার্থীদের নির্বাচনী এজেন্ট হবে।

শুক্রবার সকালে দেখা হয়েছিল বিএনপির প্রভাবশালী র্শীষনেতাদের একজনের সঙ্গে। যতক্ষন কথা হলো শুধুই হতাশা আর আশঙ্কার কথা জানালেন। তার প্রধান অভিযোগ যে আওয়ামী লীগ নয় সরকার পুলিশ দিয়ে নির্বাচন করছে। এমনকি তার নিজের নির্বাচনী এলাকায় তেমন লোকদের গেপ্তার করা হয়েছে, যারা তার নির্বাচনী এজেন্ট হবে। আর নির্বাচনী ক্যাম্প করার জন্য জায়গা দিয়েছিল, এমন ব্যাক্তিকেও পুলিশ থানায় নিয়ে শানিয়েছে। আগের দিন ঢাকায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মীর্জা আব্বাসও অভিযোগ করেছেন যে তার সম্ভাব্য এজেন্টদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে একই নির্বাচনী এলাকার মহাজোটের প্রার্থি ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন শুক্রবার আশংকা করেছেন যে মীর্জা আব্বাস ভোটের দিন হটাৎ করে ভোট কেন্দ্রগুলোকে গোলযোগ করার চেষ্টা করবে। তার অতীতে এমন রের্কড আছে বলেও উল্লেখ করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী।

এদিকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আভাষ দিচ্ছেন যে আগে থেকে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দেযার জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে ভূয়া ফরম পর্যন্ত ছাপানো হয়েছে। ভোটের আগে ও ভোটের দিন টাকা ছড়ানোর জন্য মতিঝিলে রাখা বিপুল টাকাও এরই মধ্যে উদ্ধার করেছে র‌্যাব। আবার বিএনপির মধ্যে নির্বাচনে থাকা না থাকার ব্যাপারে দ্বিধাবিভক্তি আছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

নির্বাচনী প্রচার শেষ হওয়ার পর এখন বলাই যায় যে বিএনপির নেতৃত্বে জাতীয় ঐকফ্রন্ট শেষ পর্যন্ত থাকছে ভোটের লড়াইয়ে। তবে দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এ নিয়ে নানা মত আছে। শুক্রবার একটি টেলিফোন কথপোকথন প্রকাশ পেয়েছে যেখানে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ও বরকত উল্লাহ বুলুর কথায় বোঝা যায় তাদের পরিকল্পনা ছিল ৩০০ আসনের ৩০০ জন প্রার্থী নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সামনে অবস্থান নেয়া । মওদুদ আহমেদ এই টেলিফোন সংলাপে অভিযোগ করেন যে দলের মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার ফোন কল রিসিভ করেন না। তিনি জানান, আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে যাওয়া হয়েছে, আন্দোলনের একটা পটভূমি তৈরীর জন্যই এমপি প্রার্থীদের অবস্থান নেযা দরকার ছিল। এ বিষয়ে তিনি লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গেও কথা বলেছেন বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি এমনও অভিযোগ করেছেন যে সশস্ত্র বাহিনী মাঠে টহলে নামার পরও অবস্থান কোনো উন্নতি হয়নি। তার গাড়ী ভাঙ্গার বিষয়টি সেনাবাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলেও মওদুদ আহমেদ জানিয়েছেন। বিএনপির মহাসচিব ‘একটি ষড়যন্ত্রের মধ্যে পড়ে গেছেন’ বলেও মন্তব্য করেছেন বিএনপি আমলের আইন মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। অন্যদিকে গয়েশ্বর রায় মন্তব্য করেছেন যে, অসহায়ের মত পরাজিত হবার জন্যই নির্বাচনে অংশ নিতে হয়েছে।