ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ৬ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বৈষম্য কমুক সমাজে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ জানুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার, ০৮:০০ এএম
বৈষম্য কমুক সমাজে

২০১৮ সালে বাংলাদেশের অনেক অর্জন আছে। তারপরেও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্ষত হচ্ছে বৈষম্য। সমাজে ধনী এবং দারিদ্র্যের মধ্যে ব্যবধান অনেক বেড়েছে। বাংলাদেশ একদিকে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, বাংলাদেশের গড় আয় যেমন বেড়েছে সেটাও যেমন সত্যি, তেমনি পাশাপাশি এটাও সত্যি যে, কিছু মানুষ আকাশচুম্বী ধনী হয়েছেন, আবার কিছু মানুষ অনেক বেশি দরিদ্র হয়েছে।

যদিও পরিসংখ্যান বলছে, দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করা মানুষের সংখ্যা অনেক কমেছে। কিন্তু তারপরেও ধনী গরীবের যে বৈষম্য, তা বাংলাদেশের সমাজে প্রকট হয়ে উঠেছে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূল কথা ছিল একটা সাম্যের সমাজ, একটা বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু একটা শ্রেনীর মানুষ এত বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়ে দিনের পর দিন ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে। আরেকটি শ্রেণী দিনের পর দিন দরিদ্র হচ্ছে। সমাজে এমন বৈষম্য একটা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শুধু বাধাই  নয়, সেই দেশের মানুষের মনন-চিন্তা এবং আইন শৃঙ্খলাসহ সামগ্রিক বিষয়ের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যদিও সরকার নানা রকম সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মাধ্যমে পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে নানা কর্মসূচী গ্রহণ করছে। কিন্তু একটা রাষ্ট্রে যখন বৈষম্য সৃষ্টি হয়, তখন সেই রাষ্ট্রের মধ্যে সাম্য এবং ন্যায় বিচারের পথ বন্ধ হয়ে যায়। তাই নতুন বছরে সামাজিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল ধনী গরীবের বৈষম্য কমিয়ে একটা সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা। যেন অন্যান্য কল্যাণকামী রাষ্টের মত যে মানুষটির কিছুই নেই, সেই যেন রাষ্ট্রের ন্যুনতম সুযোগ-সুবিধাগুলো ভোগ করতে পারে। সুতরাং এমন সমাজ গড়া সরকার বা রাষ্ট্রের একার দায়িত্ব না। বরং আমাদের সমাজে যারা বিত্তবান আছে সামাজিক দায়বদ্ধতার কর্মসূচীতে তাদেরকেও এগিয়ে আসতে হবে। সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করতে বিত্তবানদেরকেই প্রধান দায়িত্ব নিতে হবে। কিন্তু আমাদের সমাজের বিত্তবানরা কি সেই দায়িত্ব নিতে পারবেন?  

বাংলা ইনসাইডার/আরকে