ঢাকা, রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

বর্ণমালা, আমার দুখিনী বর্ণমালা

অর্চি হক
প্রকাশিত: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার, ০৮:০৫ এএম
বর্ণমালা, আমার দুখিনী বর্ণমালা

বাঙালি জাতির ইতিহাসে অনন্য গৌরবময় ভাষার মাস শুরু হয়েছে আজ। এ উপলক্ষে আজ থেকেই শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা। এছাড়া এই মাসকে ঘিরে নানা কর্মসূচি ও উৎসব-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। ভাষা শহীদদের স্মরণে এবং মাতৃভাষার মর্যাদা নিয়ে অনেক বক্তৃতা-বিবৃতিও হবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ইংরেজি সাইনবোর্ডগুলো নেমে গিয়ে সেখানে বাংলা সাইনবোর্ড উঠবে। মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে সারাদেশের ফ্যাশন হাউস ও শো-রুমগুলোতে হরেক রকমের পাঞ্জাবি-শাড়িসহ পোশাক-আশাকের পসরা বসবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে অনেকে নিজের ইংরেজি নামটি বদলে বাংলা করে ফেলবেন। সবকিছুই হবে। কিন্তু দুঃখিনী বর্ণমালা আমার, দুঃখিনীই থেকে যাবে। কারণ আমরা এখনো বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি।

বাংলা ভাষা এখনো আমাদের দেশে অবহেলিত ভাষা। যে ইংরেজি জানে না, তাকে সভ্য সমাজে বসবাসের অযোগ্যই মনে করা হয়। ভাষা আন্দোলনের ছয় দশক পেরিয়ে যাওয়ার পরও আমরা এখন পর্যন্ত দেশের উচ্চ আদালতে বাংলা চালু করতে পারিনি। আমাদের গবেষণাতে বাংলার ব্যবহার নেই। আর উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলার নড়বড়ে অবস্থা রীতিমতো লজ্জাজনক।

বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রাণ দিয়ে গেছেন আমাদের ভাষাশহীদেরা। অথচ বাঙালি বাবা-মায়েরা এখন নিজেদের সন্তানদের বিপুল অর্থ খরচ করে ইংরেজি মাধ্যমের বড় বড় সব স্কুলে ভর্তি করাচ্ছেন। তাদের প্রাণপণ চেষ্টা থাকে, সন্তান যেন বাংলায় নয় বরং ইংরেজিতেই সাবলীলভাবে কথা বলতে পারে। ইংরেজি না জানাটা এখন যেন এক গুরুতর অপরাধ। বিয়ের অনুষ্ঠানসহ যেকোনো ধরণের নিমন্ত্রণপত্রে ইংরেজির ব্যবহার যেন আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

এরকম পরিস্থিতিতে ফেব্রুয়ারিজুড়ে চলা নানা ধরণের বক্তৃতা-বিবৃতিকে মেকি বলেই মনে হয়। আর ভাষা দিবসের নানা উৎসব-অনুষ্ঠান যেন আমাদের ভাষা শহীদদের প্রতি এক প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়। এ অবস্থার পরিবর্তন করে আমরা যদি আমাদের মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে চাই, তাহলে আমাদের ভাষাকে আগে শক্তিশালী করতে হবে।

মাতৃভাষায় শুধু কথা বললেই হবে না, আমাদের অফিস-আদালতেও এই ভাষার চর্চা করতে হবে। বাংলা ভাষায় শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণায় বাংলা ভাষার ব্যবহার করতে হবে। তাহলেই আমাদের দুঃখিনী মাতৃভাষা সুখী হতে পারবে। 

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি