ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

ভালবাসি মাতৃভাষা: শেখ হাসিনা

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বুধবার, ০৮:০২ এএম
ভালবাসি মাতৃভাষা: শেখ হাসিনা

মোদের গরব মোদের আশা

আ মরি বাংলা ভাষা…

পৃথিবীতে অসংখ্য জাতি। ছয় হাজারের বেশি মাতৃভাষা রয়েছে। সঠিক সংখ্যাটি এখনও জানা যায়নি। অনেক ভাষা হারিয়ে গেছে। জীবন-জীবিকার খোঁজে মানুষ তার সুবিধামতো অবস্থান নেয় বা নিতে বাধ্য হয়। ফলে সহজে যোগাযোগের মাধ্যম খুঁজে নেয়। আর তাই হারিয়ে যায় মাতৃভাষা। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা হওয়াতে আর মাতৃভাষা হারিয়ে যাবে না, অন্তত অস্তিত্ব খুজে বের করা যাবে। সংরক্ষণ করা হবে, গবেষণা করা হবে।

বাংলা ভাষা আমাদের মাতৃভাষা। অনেক ক্ষেত্রে আমরা দেখি ছেলেমেয়েদের নিজের ভাষা না শিখিয়ে ইংরেজি ভাষা শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে । ইংরেজি অবশ্যই শিখবে, ইংরেজি ও আরবি এ দুটো ভাষা আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজন, বিশেষ করে জীবন-জীবিকার জন্য এ দুটো ভাষার প্রয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি অন্য ভাষাও শিখতে পারি কিন্তু তা অবশ্যই মাতৃভাষাকে বাদ দিয়ে নয়।

ঢাকা শহরে গুলশান, বারিধারা, বনানীতে ইদানীং দেখা যায় ইংরেজি মিডিয়াম স্কুল। বাংলা শিক্ষা একেবারেই দেওয়া হয় না। প্রতিটি স্কুলে মাতৃভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা অবশ্যই রাখতে হবে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। আর একটি বিষয় আমাকে খুবই পীড়া দেয় । সেটি হোল ইংরেজি একসেন্টে বাংলা বলা।

অর্থশালী, সম্পদশালী পরিবারের ছেলেমেয়েদের মধ্যে এ প্রবণতা একটু বেশি দেখা যাচ্ছে। আর যদি হঠাৎ পয়সাওয়ালা হয় তা হলে তো কথাই নেই। মনে হয় বাংলা বলতে যেন খুবই কষ্ট হচ্ছে।

এ প্রবণতা কেন? নিজেদের দৈন্যতা ঢাকার জন্য? না কি যেখানে মৌলিকত্বের অভাব সেখানে শূন্যতা ঢাকার প্রচেষ্টা? অভিভাবক, শিক্ষক, বিশেষ করে পিতা-মাতাকে এ বিষয়ে নজর দিতে হবে। বিদেশে বসবাসরত পরিবারগুলো ঘরে বসে বাচ্চাদের সাথে ইংরেজি বলেন। ফলে বাচ্চাদের মাতৃভাষা শেখার আর কোনো সুযোগই থাকে না। দিনের অধিকাংশ সময় বাচ্চারা স্কুলে কাটায়। কাজেই যে দেশে থাকে বা যে ভাষায় শিক্ষা নেয় সে ভাষা সহজেই নেয়। ঘরে এসে যদি মাতৃভাষায় কথা না বলা হয় তাহলে তো মাতৃভাষা শিখবেই না।

বাচ্চাদের যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু তাদের শিখিয়ে দিলেই হয়। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে মাতৃভাষা ব্যবহার করাই প্রয়োজন। বাচ্চারা ভাষা খুবই তাড়াতাড়ি রপ্ত করতে পারে। এমনকি একই সঙ্গে অনেকগুলো ভাষা তারা শিখে ফেলে। ওদের কিন্তু তেমন অসুবিধা হয় না।

আমরা বাঙালি, বাংলা আমাদের মায়ের ভাষা। ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছি। স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘদিন সংগ্রাম করেছি। রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আমাদের মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘে বাংলা

ভাষায় প্রথম ভাষণ দিয়েছিলেন ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর। বিশ্বসভায় বাংলা ভাষা মর্যাদা পেয়েছিল। বাংলা ভাষায় কাব্য রচনা করেই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল প্রাইজ পেয়েছিলেন। পৃথিবীতে যত ভাষাভাষী রয়েছে বাঙালি জনসংখ্যার দিক দিয়ে সপ্তম স্থান অধিকার করে আছে। কাজেই আমাদের ভাষা অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী। আমাদের ভাষার চর্চা বাড়াতে হবে।

[ লেখাটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘রচনা সমগ্র (প্রথম খন্ড)’ থেকে সংকলিত করা হয়েছে।]

 

বাংলা ইনসাইডার/এআরএন