ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

প্রধানমন্ত্রীর একটি সকাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শনিবার, ০৮:০৪ এএম
প্রধানমন্ত্রীর একটি সকাল

মিষ্টি সকালে আমাদের ঘুমটা যখন আরও গাঢ় হয়ে উঠে, আরেকটু বিছানায় গা এলিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে, তখন আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রায় ২৫ ভাগ কাজ শেষ হয়ে যায়। আমরা যখন ঘুমকাতুরে হয়ে আলসে বিছানায় পড়ে থাকি, তখন আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীর কর্মব্যস্ততা শুরু হয়ে যায়।

আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীর একটা সকাল কেমন কাটে? এটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় যে, প্রধানমন্ত্রীর সকাল শুরু হয় খুব ভোরে। শুধু ভোর নয়, বলা যায় ফজরের নামাযের দেড় থেকে দুই ঘন্টা আগেই তিনি ঘুম থেকে উঠে যান। তিনি তাহাজ্জুদের নামায পড়েন। কোরআন তেলওয়াত করেন। তারপর তিনি ফজরের নামায পড়েন। ফজরের নামায পড়েই তিনি একটু হাঁটাচলা করেন। সারাদিনের পরিকল্পনা, সারাদিনের রাজনৈতিক চিন্তা , কাজের বিন্যাস তখনই তিনি সেরে ফেলেন। এরপর সকালের নাস্তা। আমাদের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত স্বল্প আহারী। তিনি সকালে নাস্তা খান খুবই সামান্য। সাধারণত বিশেষ দিন ছাড়া তার পাতে জোটে শুকনো রুটি, সবজি বা ভাজি। সঙ্গে হয়তো এককাপ চা আর টোস্ট বিস্কুট।

এরপরে শুরু হয় প্রধানমন্ত্রীর কর্মব্যস্ততা। তার যেন কোন অবসান নেই। প্রতিদিনের পত্রিকা সকালে আমাদের ড্রয়িং রুম বা খাবার টেবিলে যখন আসে, তখন প্রধানমন্ত্রীর পত্রিকাগুলোর সব খবর পড়া শেষ। সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংও একটু বিব্রত। কারণ প্রধানমন্ত্রীকে উল্লেখযোগ্য খবর প্রেস উইংয়ের দেওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী নিজেই পড়ে ফেলেন। তারপর শুরু হয় তাঁর কর্মব্যস্ততা। তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে তাঁর নিজস্ব টিমের রিপোর্ট, বিভিন্ন জরিপ, তথ্য উপাত্ত, সাংগঠনিক বিন্যাস এসব নিয়ে তিনি কাজ করেন, পড়াশুনা করেন। এর ফাঁকে কিছুটা সময় একটু রবীন্দ্রসংগীতের সঙ্গে থাকা। তারপর শুরু হয় তাঁর দাপ্তরিক কাজ। হোক তা ছুটির দিন, হোক তা কর্মদিবস। প্রধানমন্ত্রী সকাল আট থেকে সাড়ে আটের মধ্যেই তাঁর দাপ্তরিক ফাইল নিয়ে বসেন। প্রধানমন্ত্রী হয়তো বাংলাদেশের একমাত্র নীতি নির্ধারক মন্ত্রী যিনি প্রত্যেকটা ফাইল খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়েন। কোন ফাইলে বানান ভুল হলো কোন ফাইল ঠিকমতো লেখা হয়নি। কোন ফাইলে বাক্যগঠন ঠিক হয়নি। কোন কিছুই প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি এড়ায় না। যেভাবে তাঁর দৃষ্টি এড়ায় না এদেশের মানুষের অভাব, অভিযোগ, দু:খ, কষ্ট। এই ফাইলগুলো শেষ করেই শুরু হয় প্রধানমন্ত্রীর অন্য ব্যস্ততা। যেদিন কর্মদিবস থাকে, সেদিন প্রধানমন্ত্রী ছুটে যান বিভিন্ন অনুষ্ঠান উদ্বোধন করতে বা যেকোন নীতি নির্ধারনী বক্তব্য দিতে। বা যেকোন উন্নয়ন কার্যক্রম উদ্বোধন করা বা ব্যাক্তিগত কোন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যোগদান করেন তিনি। এরপর শুরু হয় তাঁর অন্যান্য ব্যস্ততা। প্রধানমন্ত্রী দিনের যখন ২৫ ভাগ কাজ শেষ করেন, তখন অন্যদের দিন কেবল শুরু হয়। এজন্যই প্রধানমন্ত্রীর যারা কট্টর সমলোচক তারা বলেন, অত্যন্ত পরিশ্রম করেন বলেই প্রধানমন্ত্রী রাজনীতিতে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন। কারণ প্রধানমন্ত্রী যে পরিমাণ কাজ সকালে করে ফেলেন। অনেক মন্ত্রী এমপি সারাদিনেও হয়তো সে পরিমাণ কাজ করতে পারেন না।

প্রধানমন্ত্রীর একসময়ের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপি নেতারাই আক্ষেপ করে বলতেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে খালেদা জিয়ার পার্থক্য হলো, খালেদা জিয়া সব সময় অর্ধেকদিন পিছিয়ে থাকেন শেখ হাসিনার থেকে। কারণ শেখ হাসিনা যখন দিনের অর্ধেক কাজ সকাল ৯ টার মধ্যে শেষ করেন, তখনও খালেদা জিয়ার দিন শুরু হয় না। শেখ হাসিনা যখন দিনের ৭৫ ভাগ কাজ শেষ করেন, তখন খালেদা জিয়ার দিন শুরু হয়। এরকম পরিশ্রমের ফলেই হয়তো বাংলাদেশের মানুষের সকালগুলো সুন্দর হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ আনন্দমুখর হয়ে উঠছে প্রতিদিন। বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়ন এবং অগ্রগতির চাকা ঘুরছে তীব্র গতিতে।

বাংলা ইনসাইডার