ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ১২ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ভালোবাসা দিবস: আবেগ নাকি আদিখ্যেতা?

অর্চি হক
প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০৯:০৫ এএম
ভালোবাসা দিবস: আবেগ নাকি আদিখ্যেতা?

হৃদয় কয়েক মাস ধরেই অপেক্ষায় আছে, কবে ভালোবাসা দিবস আসবে, কবে সে তার প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে ঘুরতে বের হবে। সারাদেশের অধিকাংশ তরুণ-তরুণী এমনকি টিন এজারদের অবস্থাও অনেকটা এমনই। ভ্যালেন্টাইন্স ডে’তে সঙ্গীকে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো, গিফট দেওয়া কিংবা বন্ধুদের পার্টিতে নিয়ে গিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেওয়া এখন যেন এক ফ্যাশন হয়ে উঠেছে। ভ্যালেন্টাইন্স ডে উপলক্ষে হোটেল-রেস্তোরাঁ, শপিং মল আর বিউটি পার্লারগুলো নানা প্যাকেজ আর ডিসকাউন্টের পসরা নিয়ে হাজির হয়েছে। কপোত-কপোতীরাও এগুলো লুফে নিচ্ছে। রেস্তোরাগুলোতে যেন ভালোবাসা উপচে পড়ছে। সঙ্গীকে সারপ্রাইজ গিফট দিতে শপিং মলগুলোতেও জমছে ভিড়। অনেকে আবার শুধুমাত্র ভ্যালেন্টাইন্স ডে উদযাপনের হুজুগে একদিনের জন্য প্রেম করছেন। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া অনেক কিশোর-কিশোরী তো ভ্যালেন্টাইন্স ডে’র খরচ মেটাতে মা-বাবাকে রীতিমতো মিথ্যা বলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু এভাবে ভালোবাসা উদযাপন করাটা কতটা সমীচীন? এটা কি আবেগের বহিঃপ্রকাশ? নাকি শুধুই আদিখ্যেতা?

একজন মানুষ তার নিজস্ব আবেগ থেকেই বিশেষ দিনগুলো পালন করে। প্রিয়জনদের জন্মদিন কিংবা বিবাহ বার্ষিকীর মতো দিনগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নিজস্ব আবেগ-অনুভূতি। এমনকি যেকোনো উৎসবের সঙ্গেও মিশে থাকে মানুষের নিজস্ব কৃষ্টি, নিজস্ব ঐতিহ্য। আমরা যেমন পয়লা বৈশাখ কিংবা নবান্নের উৎসবগুলো পালন করি। এগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের শত শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্য আর আবেগ। এজন্যই এগুলো আমাদের প্রাণের উৎসব। কিন্তু পাশ্চাত্যের অনুকরণে আমরা যদি কিছু করতে চাই, তাতে কি বিন্দুমাত্রও আবেগ থাকে? কিংবা আমরা যদি অন্যের দেখাদেখি তার মতো করে নিজের প্রিয় মানুষটিকে ভালোবাসা জানাই তাতে করে কি আদৌ নিজের ভেতরের অনুভূতিটা প্রকাশ পায়? এর মাধ্যমে কি ভালোবাসাকে অসম্মান করা হয় না?

যেকোনো উৎসবই ভালো। একটি ধর্ম নিরপেক্ষ দেশে অবশ্যই উৎসব থাকবে। বলা হয়, ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ তখনই বিকশিত হয়, যখন তারা এই উৎসবগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়। কিন্তু সেটা যদি হয় আবেগ-অনুভূতিহীন, শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা বা লোক দেখানোর উপলক্ষ, তাহলে কি সেটাকে উৎসব বলা চলে?

ইতিহাস বলে, ইতালির একজন পাদ্রি যিনি ভালোবাসার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তার স্মরণেই ভালোবাসা দিবস উদযাপন শুরু হয়। কিন্তু আমাদের দেশের লোককথা-উপকথাতেও তো ভালোবাসার জন্য আত্মদানকারী এমন বহু উদাহরণ আছে। সেগুলো রেখে দূর দূরান্ত থেকে অন্যের সংস্কৃতি ধার করে এনে ভালোবাসা দিবস পালন করা কি খুব বেশি প্রয়োজন? নিজেদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি রেখে অন্যের প্রথা নিয়ে কেন এতো হৈচৈ করি আমরা? তাছাড়া ভালোবাসা তো চিরন্তন একটা ব্যাপার। এটা প্রকাশ করার জন্য বিশেষ কোনো দিনের কি আসলেই কোনো দরকার আছে?

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি/এমআর