ঢাকা, সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আলোকিত মানুষ গড়ার ব্রত নিয়ে কাজ করছেন জাহানারা

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০৫:৪১ পিএম
আলোকিত মানুষ গড়ার ব্রত নিয়ে কাজ করছেন জাহানারা

লেখাপড়া শেষ করে সবারই স্বপ্ন একটি মানসম্মত ভালো চাকরি, ভালো অবস্থান। সেই চাকরির মাধ্যমে স্বপ্ন দেখেন সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার। এর বাইরেও চিন্তা করে মানুষ, ব্যতিক্রমও আছে অনেকে। তাদের মধ্যে থেকে আজ বলবো জাহানারা বেগমের কথা। এই ব্যক্তিটি আলোকিত মানুষ গড়ার ব্রত নিয়ে কাজ করে চলেছেন।

জাহানারা বেগম ইতিমধ্যে পথশিশু ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তার প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী এখন ৪০ জন। তাদেরকে শুধু জ্ঞানের আলোয় আলোকিতই করেন না, মাতৃস্নেহে লালনও করছেন। স্কুলে লেখাপড়ার পাশাপাশি খাবারের ব্যবস্থা করেন। তিনি এই শিশুগুলোর কাছে ‘মনি মা’ নামে খ্যাতি পেয়েছেন। শিক্ষার্থীরা সবাই জাহানারাকে মনি মা বলে ডাকেন। যার স্বীকৃতি স্বরূপ গতবছর জয়ীতা নির্বাচিত হয়েছেন জাহানারা।

চুয়াডাঙ্গা শহরের পলাশ পাড়ার ইসমাইল হোসেনের মেয়ে জাহানারা খাতুন। এসএসসি পাশের আগেই তার মনে সুপ্ত বাসনা ছিল পথশিশু ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করা। এরই আলোকে ২০১৫ সালে বেলগাছি  রেলবস্তির পাশে পথশিশুদের জন্য একটি  বিদ্যালয় গড়ে তোলেন। যেটি চুয়াডাঙ্গা শহরে পথ শিশু ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় নামে পরিচিত। এছাড়াও চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশনের অদূরে স্টেডিয়ামের পাশে একটি স্থানে ২০ পথশিশুকে লেখাপড়া শেখানো হচ্ছে। যেসব পিতামাতা তাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার ব্যয়ভার বহন করতে পারে না, সেসব শিশুরাই এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে ৩ জন শিক্ষক ৪০ জন শিশুকে পরম যত্নে পাঠদান করছেন। বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এ স্কুলের কার্যক্রম চলে। শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা ও নাস্তার ব্যবস্থা করা হয় প্রতিদিন। জাহানারা ফাউন্ডেশনের এই বিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া করে অনেকেই ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করছেন।

আত্মপ্রত্যয়ী জাহানারা ২০১৪ সালে রাজশাহী থেকে প্যাথোলজি পাশ করেন। এরপর চাকরি না করেই মানুষ গড়ার প্রত্যয়ে মাঠে নামেন। এর আগে ২০০৮ সালে এসএসসি পাশ করার পর থেকেই ঝরে পড়া শিশুদের নিয়ে ছোট পরিসরে কাজ শুরু করেন। প্রতিষ্ঠানটি চালাতে গিয়ে তার ব্যবহৃত গয়নাগাটিসহ অনেক কিছুই বিক্রি করতে হয়েছে। তার আলোতেই আলোকিত হয়ে উঠেছে অনেক সুবিধাবঞ্চিত ছেলেমেয়ে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় স্কুল চালাতে গিয়ে সে এখন হিমশিম খাচ্ছে।

শিশু ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জাহানারা বলেন, আমি যখন ৯ম শ্রেণীতে পড়ি, তখন যশোরে খালাবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেখানে রেলস্টেশনে মনিরুলকে পেয়েছিলাম। তাকে লেখাপড়ার কথা বলতেই সে রাজীও হয়ে গেল। তাকে বাড়িতে নিয়ে এসে শুরু করলাম শিক্ষা দেওয়া। সেই থেকে আমার এ কাজ শুরু। বর্তমানে মনিরুল রংপুর মেডিকেলে কলেজে অধ্যয়নরত। আব্দুস সালামকে পেয়েছিলাম রাজশাহী স্টেশনে। সে এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। এভাবে অনেকেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ছে। জাহানারা আরও বলেন, তার স্কুল চালাতে প্রতিদিন ৫০০ টাকা খরচ হয়। এখন নিজের অনেক কিছুই বিক্রি করে শিশুদের মানুষ গড়ার কাজ করতে হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক ইয়াইয়া খান বলেন, জাহানারা একজন উদ্যমী নারী। তিনি পথশিশু ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করে চলেছেন। তৈরি করেছেন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ গতবছর জয়ীতা নির্বাচিত হয়েছেন। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিরা তার এই কাজে এগিয়ে আসলে প্রতিষ্ঠানটি আরও বেগবান হবে।

 

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/এমআর